ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 February 2021, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭, ১২ রজব ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

দিনভর বিক্ষোভের পর তালা ভেঙে হলে জাবি ছাত্ররা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সাতদিনের মধ্যে হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভের পর প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি হলে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্ররা।

হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

এর প্রতিবাদে কয়েকশ শিক্ষার্থী শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর হয়ে যান উপাচার্যের বাসভবনের সামনে। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা ‘এক দফা এক দাবি, আজকে হল খুলে দিবি’ শ্লোগান দিতে থাকেন। বেলা ১২টার মধ্যে হল না খুললে তালা ভাঙার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বেলা ১টার দিকে নিজেরাই হল হলে গিয়ে তালা ভাঙা শুরু করেন। প্রথমে আল বেরুনি হল, তারপর ফজিলাতুন্নেসা হল এবং একে একে ১৬ হলের সবগুলোরই তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তারা।

এ সময় হলে অবস্থান না করে ক্যাম্পাসে গিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি হলে আবার তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দফায় আবার তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করেন।

১৬টি হলের মধ্যে ছেলেদের আটটি হলে রাতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। মেয়েদের বাকি আটটি হলে কোনও শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন না।

সকালে বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীরা শুক্রবারের ঘটনা ঘিরে চারটি দাবি তোলেন। সাত দিনের মধ্যে গেরুয়া এলাকার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার প্রশাসনকে দিতে হবে, প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি অবিলম্বে তার পদত্যাগ এবং হলে শিক্ষার্থীদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়া নিয়ে প্রক্টর ফিরোজ বলেছিলেন, ক্যাম্পাসের বাইরের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব তারা নেবেন না।

তার এই বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়।

বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানানো হয়।

তবে ক্যাম্পাসে মিছিল, গণজমায়েত এবং আবাসিক হলের তালা ভাঙা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি বলে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বলা হয়।

হলে অবস্থান না করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বান উপেক্ষা করেই রাতে হলে হলে অবস্থান করছেন ছাত্ররা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”

সূত্র: বিডিনিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ