বৃহস্পতিবার ০৫ আগস্ট ২০২১
Online Edition

যে খবর হয়নি লেখা-

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান :

স্মৃীতির ডানায় মোনাজাত উদ্দিন

দেশের উত্তর জনপদের এক সময়ের দাপিয়ে চলা গ্রামীণ জীবন ধারার অত্যন্ত পরিশ্রমী একনিষ্ঠ চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন। মোনাজাত ভাই ছিলেন স্বল্প ভাষী আর পেশায় ছিলেন একজন একনিষ্ঠ ত্বরিৎ গতির মানুষ। মোনাজাত ভাইর পেশাগত চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি কখনও কোন খবরের উৎস পেলে তবে তা সম্পন্ন করে ঢাকায় পত্রিকা অফিসে সে খবর পাঠানো নিশ্চিত করে তবেই সে যাত্রায় ক্ষান্ত হতেন। তাঁর পেশার প্রতি এই অনবদ্য নিষ্ঠা আমাকে ভীষণ ভাবে মুগ্ধ করতো। এরপরই শুরু হতো তাঁর সাথিদের সাথে খুনসুটি কথামালার বহর। মোনাজাত ভাইর আর একটি অদ্ভুৎ বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি সপ্তাহে একদিন “বাকহীন দিবস” পালন করতেন। এ দিবসটি হ’তো সাধারণতঃ বৃহস্পতিবার। ঐ দিন তিনি কারও সাথে মুখে কোন কথা বলতেন না। সারাদিন নিরবে তাঁর সকল কার্যাদি সম্পন্ন করতেন তাঁর সাথে কারও কিছু প্রয়োজন হলে কাগজে লিখে সামনে রাখলে তিনি একই ধারায় ঐ কাগজে লিখে তাঁর প্রয়োজনীয় জবাব দিয়ে দিতেন। একই ভাবে তিনি নিজের প্রয়োজনও সম্পন্ন করতেন। আমরা তাঁর স্বজ্জনরা সবাই  মোনাজাত ভাইর এই অদ্ভুৎ দিবসটিকে বেশ আনন্দ চিত্তে উপভোগ করতাম। এ দিন তিনি রংপুরে অবস্থান করলে সহজ সরল বন্ধু বৎসল অত্যন্ত সাদা মনের তরুণ ব্যবসায়ী হাস্যেজ্জল সদালাপি সাবু আনছারীর সে সময়ের কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে বসেই তাঁর সকল কার্যাদি নীরবে নিবিষ্ট চিত্তে সম্পন্ন করতেন।

১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কথা। আকস্মিক বন্যায় রংপুর অঞ্চলের মানুষের সার্বিক জীবন যাত্রা প্রায় অচল। এমন চরম প্রতিকূল বৈরী আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে চারিদিকে থৈ থৈ পানির সমারহে সামনে চলে আসে পবিত্র  কুরবানীর ঈদ। এরই মাঝে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী মিলনপুর ইউনিয়নের মানিকবাড়া গ্রামে বন্যা কবলিত মানুষের খবর আর ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে পেলাম ভেলায় ভাসানো লাশের ছবি। নবীন সংবাদ কর্মীর তারুণ্য দিপ্ত চাঞ্চল্যতায় এই দৃশ্যপট পেয়ে আমি অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। সাত-পাঁচ পেছনে না তাকিয়ে আবেগের ক্ষিপ্রতায় সাদা-মাটা সাধারণ মডেলের ইলেকট্রো-৩৫ মডেলের ম্যানুয়াল ক্যামেরা দিয়ে মনের মাধুরী  মিশিয়ে অনেক ছবি সংগ্রহ করলাম। সেই সব দুর্লভ ছবির বেশ ক’টি  দৈনিক সংগ্রামে সে সময় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। আমি জানতাম না মোনাজাত ভাই দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত আমার নিউজগুলো ফলো করতেন। একদিন সাবু আনছারীর অফিসে বসেই উনি স্বভাব সুলভ মিষ্টি ভাষায় আমাকে ডেকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে ঐ সব ছবির পেশাগত কিছু কৌশলগত ত্রুটি তুলে ধরে মূল্যবান উপদেশ দিলেন। আমি  মোনাজাত ভাইর এহেন আন্তরিক ভালবাসায় বিমোহিত হলাম এবং নতুন চেতনারও সৃষ্টি হল। ঐ সময় রংপুর অঞ্চলের বন্যার  এক্সক্লুসিভ কিছু ছবিসহ ভেলায় ভাসানো লাশের ছবিসহ নিউজ “সংগ্রামের”  প্রথম পাতায় “লীড” হয়েছিল। দৈনিক  সংগ্রামের প্রথম পাতায় ”রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পূর্ব মানিকবাড়া গ্রামের কিশোর মোক্তার হোসেনের ভেলায় ভাসানো লাশের ছবি” দিয়ে বন্যার লীড নিউজ ছাপা হয়েছিল। কয়েক দিন পর চারণ সাংবাদিক মোনাজাত ভাইর সাথে প্রেসক্লাবে দেখা। উনি স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বললেন- নুরুজ্জামান আপনার ভেলায় ভাসানো লাশের ছবি দেখলাম। সাবজেক্টটা খুব ভাল হয়েছে। তবে কৌশলগত আরও কিছু দিক সম্পর্কে তিনি ব্রিফ করলেন। যা পরবর্তী পেশাগত জীবনে আমার ইতিবাচক ভাবে কাজে লেগেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের বন্যাদূর্গত এলাকা সফরে এসে  সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। এ সময়  তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বললেন - “চারিদিকে বন্যা, কত লোক মরছে । আপনারা সে সব ছবি পত্রিকায় দেন না”। আমি  দাঁড়িয়ে বললাম- নেত্রী  ক”দিন আগে দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় ভেলায় ভাসানো লাশের ছবি ছাপা হয়েছে। উনি হেসে বললেন- “আমাকে আপনার পত্রিকার একটা কপি দিবেন”।

বিমান বাহিনীর বিশাল আকারের হেলিকপ্টারটি যখন লালমনিরহাট বিমান বন্দরের দিকে এগিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাহেব আমাদের সাথে এতক্ষণের মধুর বিতর্কের রণে ভঙ্গ দিয়ে হেলিকপ্টারের ল্যান্ডিং পয়েন্টের দিকে জোর কদমে অগ্রসর হলেন। এই শুভক্ষণের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে আমরাও চার সাংবাদিক সে পথেই অনুসরণ করলাম। বিমান বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে আমাদের ঐ অম্ল-মধুর মধূচন্দ্রিমার অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছে বলে তারা ধরেই নিয়েছে আমরা কেউ অনিরাপদ নই। ফলে আমাদের কাংক্ষিত মন্ত্রী দখলের মিশন যাত্রা অনেকটা সহজ হল। মন্ত্রী বহনকারী বিশাল হেলিকপ্টার লালমনিরহাট বিমান বন্দরের মাটি ছোঁয়ার মুর্হূতে প্রোপেলারের তীব্র ঘূর্নায়মান বাতাসে চারিদিকে ধুলায় ধূসর হয়ে উঠলো। সে সময় কার দিকে কে তাকায় ধূলায় অন্ধকার। কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে এলে হেলিকপ্টারের দরজা খুলে একে একে বেরিয়ে এলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মেজর জেনারেল (অবঃ) মাহমুদুল হাসান, স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজাহার আলী সহ বিডিআর এর মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরির্দশক, লালমনিরহাট এর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার সাহেব। এই মূহূর্তে আমরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হেলিকপ্টারের সিঁড়ির গোড়ায় চার সাংবাদিক দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজাহার আলী সাহেব হেলিকপ্টারের সিঁড়ির দরজায় পা দিয়েই রংপুরের দুই প্রবীণ সাংবাদিক মোজাম্মেল হক এবং নওয়াজেশ হোসেন খোকা ভাইকে দেখেই মুখ ভরা হাসি দিয়ে বল্লেন খোকা-মোজাম্মেল তোমরা কেমন আছো ? ইতোমধ্যে মন্ত্রীসহ সচিব মহোদয় তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে মাটিতে পা রাখলেন। আমরা পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে মাঝখানে রেখে অবস্থান নিলাম । একদিকে মোজাম্মেল ভাই এবং খোকা ভাই। আর অপরদিকে চারণ সাংবাদিক মোনাজাত ভাইসহ আমি নিজে অবস্থান নিলাম। স্থানীয় প্রশাসনকে কিছু বুঝতে দেয়ার আগেই আমরা তাঁদের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলা শুরু করলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অবঃ) মাহমুদুল  হাসান এবং স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজাহার আলী  সাহেব সামনে আমাদের পাশাপাশি এবং বিডিআর এর মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরির্দশক, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহমেদ আমাদের পাশে এবং পুলিশ সুপারসহ অন্যরা পিছে পিছে চলছেন । অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ ঐতিহাসিক দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহল সাত সকালে পরিদর্শন করে এসে লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেই আমাদের মুখোমুখি হলেন তাঁরা। এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন এবং মন্ত্রী মহোদয় অপ্রস্তত হলেও সচিব মহোদয় ছিলেন বেশ প্রাণবন্ত। তাই দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহল নিয়ে  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দু’চারটি কথা বলার পরই স্বরাষ্ট্র সচিব মন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে নিজেই আমাদের  ছিটমহলের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্রিফিং দিচ্ছিলেন। স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজাহার আলী  সাহেব তাঁর মাঠ পর্যায়ের চাকুরীর সুবাদে এক সময় অবিভক্ত বৃহত্তর জেলা রংপুরের জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেই সুবাদে তৎকালীন মহকুমা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী এবং লালমনিরহাট অঞ্চলের জেলা প্রশাসক হিসেবে এসব এলাকা যেমন তাঁর নখদর্পণে রয়েছে। পাশাপাশি দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহল সম্পর্কেও ওনার রয়েছে বিশদ অভিজ্ঞতা। তেমনি রংপুর সহ এই অঞ্চলের প্রবীণ সাংবাদিকদের সাথেও তাঁর ছিল বিশেষ সখ্য। ফলে স্বরাষ্ট্র সচিব মহোদয়ের সাথে পূর্বাপর সম্পর্কটা আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদের বেশ সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখলো। হেলিকপ্টারের ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকে আমরা একই কায়দায় কয়েক’শ মিটার পথ পায়ে হেঁটে বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে থাকা লালমনিরহাট বিমান বন্দরের গেষ্ট হাউজে গিয়ে পৌঁছলাম। সমান তালে পা ফেলে চলছিলেন মোনাজাত ভাই। এই হাঁটা পথেই আমার পেশাগত জীবনের কঠিন একটা মূর্হুত অতিক্রম করছিলাম। তা হলো দ্রুততার সাথে দীর্ঘপথে হাঁটতে হাঁটতেই মন্ত্রী এবং সচিব মহোদয়ের দহগ্রাম-আঙ্গোরপেতা ছিটমহল সফরের গুরুত্বর্পূন কথাগুলো নোট করতে হচ্ছিল। কেননা এই কথাগুলো তাঁরা আর দ্বিতীয়বার বলবেন কি না এর নিশ্চয়তা নেই। যা ছিল ঐ সময়ের  প্রেক্ষাপটের জন্য অত্যান্ত গুরুত্ববহ। তবে সে সব কথা ধারন করাও ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। আমি সর্টকাট শব্দমালায় তাঁদের কথাগুলো নোট করে সেই দূরহ কাজটি সেরে ফেল্লাম। এরপর গেষ্ট হাউজে বসে পেশাগত প্রয়োজনের আরও কিছু কথা হলো মন্ত্রী এবং সচিব মহোদয়ের সাথে। শান্ত স্বভাবের বন্ধু বৎসল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অবঃ) মাহমুদুল হাসান  অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে আমাদের কথাগুলো মনযোগ সহকারে শুনলেন এবং তাঁর দরদ ভরা আন্তরিকতা সহকারে সফর অভিজ্ঞতার বর্ণণা দিয়ে সে সবের জবাব দিলেন। মোনাজাত ভাই অনেকটা নিরবেই সব পর্যবেক্ষন করছিলেন। মাঝে মধ্যে দু’একটা প্রশ্ন করছিলেন। এতক্ষনে দ্বিপ্রহরের তির্যক সূর্যটা মাথার উপর দাঁড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন অভ্যাগত অতিথীদের জন্য মধ্যহ্ন ভোজের আয়োজন করেছে বিমান বাহিনীর এই রেষ্ট হাউজেই। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় তাঁদের সাথে মধ্যহ্ন ভোজে অংশ নেয়ার জন্য আমাদের চারজন সাংবাদিককে খুবই আন্তরিকতার সাথে আমন্ত্রন জানালেন। খাবার টেবিলে খেতে খেতে আরও কিছু কথা হ'লো।

সময়টা ছিল ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসের প্রথর্মাধের এক সোণালী দিনের। এর আগের দিন সন্ধায় আমার সাংবাদিকতার দিক্ষাগুরু মোজাম্মেল ভাই ডেকে বল্লেন- জামান, আগামীকাল ভোর বেলা আমাদের লালমনিরহাট যেতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সচিব দহগ্রাম-আঙ্গোরপেতা ছিটমহল সফরে আসছেন। ওনারা হেলিকপ্টারে দহগ্রাম-আঙ্গোরপেতা ছিটমহল পরিদর্শন করে এসে লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে  যাত্রা বিরতি করবেন। বিষয়টা স্থানীয় প্রশাসন খুব গোপনীয়তার সাথে রেখেছেন। তবে সাংবাদিকদের গোপন র্সোসের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। রাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব সকালে লোকাল রুটের বাসে আমি মোজাম্মেল ভাই এবং খোকা ভাই সহ লালমনিরহাট এসে পৌঁছলাম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে আমরা জানতে পারলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বিমান বন্দরে এসে নামবেন এবং সেখান থেকেই মধ্যহ্ন ভোজ শেষে ঢাকায় ফিরে যাবেন। মজার বিষয় হচ্ছে-এত বড় সংবাদ লালমনিরহাটের কোন সাংবাদিক জানেন না। তবে রংপুর থেকে আমরা কিভাবে জানলাম প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে এটা ছিল বিস্ময়ের ব্যাপার। আর এটাই হচ্ছে সাংবাদিকতার বিশেষত্ব। এবার আমরা লালমনিরহাট বিমান বন্দরে চলে গেলাম। বিমান বন্দরের পৌঁছে দেখি সেখানে মোনাজাত ভাই আগে থেকেই অবস্থান করছেন। কিন্তু জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিরা তাঁকে এ বিষয়টি নিয়ে তেমন পাত্তা দিচ্ছিলেন না। মোনাজাত ভাই আমাদের দেখে যেন প্রাণ ফিরে পেলেন। ওনার কথা সব শুনে আমরাও চেষ্টা করলাম। কিন্তু তাঁরা আমাদেরও তেমন পাত্তা দিলেননা। প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সাথে দফায় দফায় কথা হলেও তিনি মন্ত্রী কিংবা সচিবের সাথে কোন ভাবেই আমাদের কথা বলার সুযোগ দেবেননা। এটা উবর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। এবার মোজাম্মেল ভাই, খোকা ভাই, মোনাজাত ভাই এবং আমি বিষয়টি নিয়ে শলাপরার্মশে বসলাম। এক পর্যায়ে আমি বল্লাম, আপনাদের দুই প্রবীণ সাংবাদিকের সাথে স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজাহার আলী সাহেবের যেহেতু ব্যক্তিগত সখ্যতার সর্ম্পক আছে। এই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। ওনারা আসার সময় পর্যন্ত আমরা প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে চল্লাম। এরপর হেলিকপ্টার ল্যান্ড করার সময় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আমরা মন্ত্রী এবং সচিবের সম্মুখিন হলাম। কাজী আজাহার আলী সাহেব বহুদিন পর রংপুরের সাংবাদিকদের দেখেই প্রটোকল ভেঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মহোদয়কে নিয়ে তাঁদের দহগ্রাম-আঙ্গোরপেতা ছিটমহলে গোপন সফরের  দূলর্ভ তথ্য সংগ্রহ করে চার সাংবাদিক বিজয়ের বেশে রংপুর ফিরে এসে ঢাকায় সেসব রির্পোট পাঠিয়ে দিলাম। আমাদের সকল কর্মকান্ড লালমনিরহাটের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেবল বিস্ময়ের সাথে নিরবে অবলোকন করলেন।    

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ