বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

মানুষের বিশ্বাসের বাইরে

এম এ কবীর : বিবেকানন্দের বাবা তার বৈঠকখানায় অনেকগুলো হুক্কা রাখতেন যেন এক জনের পান করা হুক্কা মুখে দিয়ে অন্যের জাত না যায়। একদিন বিবেকানন্দ সবগুলো হুক্কায় একবার করে টান দিলেন। তার বাবা ক্ষেপে গিয়ে জানতে চাইলেন, এ তুমি কী করলে? বিবেকানন্দ বললেন, দেখলাম জাত যায় কি না। আরেকদিন গোরক্ষিণী সভার সভাপতি গিরধারী লালের কাছে বিবেকানন্দ জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের সভার উদ্দেশ্য কী? গিরধারী জানালেন, গো-মাতাদের রক্ষা করাই তাদের ধর্ম। বিবেকানন্দ বললেন, আর মানুষ অনাহারে মরে গেলে তার মুখে অন্ন তুলে দেয়া বুঝি আপনাদের ধর্ম নয়? গিরধারী বললেন, কিন্তু শাস্ত্রে আছে গাভী তো আমাদের মাতা। বিবেকানন্দ বললেন, গাভী যে আপনাদের মাতা তা বেশ বুঝতে পারছি। তা না হলে এমন সব ছেলে জন্মাবে কেন?

স্বামী বিবেকানন্দ (নরেন্দ্রনাথ দত্ত) (১২ জানুয়ারি ১৮৬৩ - ৪ জুলাই ১৯০২) ছিলেন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রিয়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

নতুন বছর শুরু হোক নতুনত্ব দিয়েই। আমরা আধুনিকতা,পরিবর্তন এবং উন্নয়নে বিশ^াসী। এত শত পরিবর্তন আর উন্নতির পরেও আমাদের সমাজে রয়ে গেছে ভয়াবহ অসঙ্গতি। যদিও উচ্চ পর্যায়ের ভদ্র সময়ের মধ্যদিয়ে আমাদের দিনাতিপাত। যেখানে যেটা হওয়ার কথা সেখানে সেটা না হয়ে অন্যটা হওয়ার নামই অসঙ্গতি। এগুলোর প্রসার বা চর্চা হতে থাকলে সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় আমরা এগুতে এগুতেই একদিন পিছিয়ে যাব। সমাজব্যবস্থা অনেক বড় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সমাজ মানুষকে শেখায়। পরবর্তী প্রজন্ম তাই শেখে যা তাদের চারপাশে ঘটে। 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে আয়েশা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কেননা সেগুলোর জন্যও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’ ( ইবনে মাজাহ : ৪২৪৩)

মানুষ সাধারণত ছোট ছোট গুনাহের ব্যাপারে উদাসীন হয় এবং তা ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ করে তোলে। আর একসময় সে বড় পাপে জড়িয়ে পড়ে। 

ইমাম মুনাভি (রহ.) বলেন, ‘মুহাক্কারাত হলো ছোট ছোট পাপ। মহানবী (সা.) তা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ তা বড় বড় পাপের পথে পরিচালিত করে। যেমন ছোট আনুগত্যগুলো মানুষকে বড় বড় আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত করে।’ (ফায়জুল কাদির : ৩/১৬৪)

 সাহাবিরা কোনো পাপকেই ছোট মনে করতেন না; বরং তারা ছোট-বড় সব পাপের ব্যাপারে সাবধান থাকতেন। আনাস (রা.) বলেন, ‘তোমরা এমন সব কাজ করে থাকো যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও চিকন। কিন্তু নবী (সা.)-এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী মনে করতাম।’ ( বুখারি :  ৬৪৯২)

ছোট ছোট পাপের মাধ্যমে শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ শয়তান পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে হতাশ। কিন্তু সে ছোট পাপের ব্যাপারে তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ৩৫১৪১)

ছোট পাপের ব্যাপারে শয়তান সন্তুষ্ট হওয়ার কারণ মানুষ ছোট পাপের ব্যাপারে উদাসীন, বেপরোয়া।

ছোট ছোট অপরাধ ও পাপ মানুষের ভেতরকার ভালো বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী ক্রমেই নষ্ট করে দেয়। মানুষকে ঈমান ও ইসলামশূন্য করে ফেলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরেছেন, ‘তোমরা ছোট ছোট পাপ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা ছোট পাপের দৃষ্টান্ত হলো কোনো সম্প্রদায় উপত্যকার পাদদেশে উপনীত হলো। অতঃপর ছোট ছোট জ্বালানি একত্র করে রুটি তৈরি করে। নিশ্চয়ই ছোট ছোট পাপ যখন কাউকে পেয়ে বসে তখন তা তাকে ধ্বংস করে ছাড়ে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৫/৩৩১)

 ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ‘মানুষের দৃষ্টিতে যেসব পাপ ছোট তা অন্য পাপের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি একসময় ব্যক্তি মৃত্যুর সময় ঈমান হারিয়ে চির হতভাগ্যে পরিণত হয়।’ (ইহদাউদ দিবাজা : ৫/৫৬৮)

 পাপ যত ছোটই হোক, তার জন্য পরকালে মহান আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ এবং উপস্থিত করা হবে আমলনামা এবং তাতে যা লেখা থাকবে তার কারণে আপনি অপরাধীদের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে দেখবেন। তারা বলবে, হায়, দুর্ভাগ্য! এটি কেমন কিতাব যাতে ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ যায়নি; বরং সব কিছুর হিসাব তাতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্ম উপস্থিত পাবে এবং আপনার প্রতিপালক কারো প্রতি অবিচার করবেন না।’ (সুরা, কাহাফ : ৪৯)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে সে তাও দেখবে।’ (সুরা ঝিলঝাল, : ৭-৮)    

 মানুষ চাইলে পুণ্যের পথ ধরে ফেরেশতাদের মর্যাদা অর্জন করতে পারে। অধঃপতিত হয়ে শয়তানের শঠতায় নিকৃষ্টও হতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘ আমি ভালো ও মন্দ উভয় পথ তার জন্য সুস্পষ্ট করে রেখে দিয়েছি।’ (সুরা বালাদ : ১০)। আরও বলেন, ‘ আমি তাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছি, চাইলে তারা কৃতজ্ঞ হতে পারে আবার চাইলে হতে পারে অস্বীকারকারী।’ (সুরা দাহর : ৩)।‘ মানুষের মধ্যে একটি তিরস্কারকারী বিবেক আছে। সে অসৎকাজ করলে তাকে তিরস্কার করে।’(সুরা কেয়ামাহ : ২)।

 মানুষ ভালো ও মন্দ উভয় দিকের সমন্বয়ে ও মিশেলে জীবন অতিবাহিত করে। কারণ, মানুষের সঙ্গে ফেরেশতা ও শয়তানের ছোঁয়া রয়েছে। তাদের ছোঁয়া ছাড়া মানবজাতির জীবন হয় না। মানবজীবনে ফেরেশতা ও শয়তান প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। ফেরেশতারা মানুষকে ভালো কাজের নির্দেশনা দেয়। শয়তান অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে। সুকর্ম অর্জন ও কুকর্ম বর্জনের শক্তি আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিবেকে সংরক্ষিত রেখেছেন।  মানুষের মনে সত্য বা উত্তম কাজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হলে তখন বুঝে নিতে হবে এটি কল্যাণের ইঙ্গিত। যদি মিথ্যা বা মন্দ কাজের প্রতি অন্তর ধাবিত হয় তখন ধরে নিতে হবে তা শয়তানের প্ররোচনা। 

 রাসূল (সা.) বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে শয়তানের একটি ছোঁয়া রয়েছে এবং ফেরেশতার একটি ছোঁয়া রয়েছে। শয়তানের ছোঁয়া হলো অমঙ্গলের ভীতি প্রদর্শন এবং সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। ফেরেশতার ছোঁয়া হলো সত্যের প্রতি সমর্থন, মঙ্গলের সুসংবাদ দেয়া। যে ব্যক্তি ফেরেশতার ছোঁয়া অনুভব করবে সে যেন মনে করে , এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। এর জন্য শুকরিয়া আদায় করে। যে ব্যক্তি ভিন্নতর অবস্থা অনুভব করবে সে যেন শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চায়।’ অতঃপর রাসুল (সা.) কোরআনের এই আয়াত পাঠ করলেনÑ ‘ শয়তান তোমাদের অভাবের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়।’ (সুরা বাকারা : ২৬৮; তিরমিজি : ৩২৫৬)।

৫ জুন ২০১১। পপ স¤্রাট আজম খান মারা যান। তার মৃত্যুর আগেই তাকে মেরে ফেলেছিলাম আমরা। মৃত্যুর দেড় মাস আগেই আজম খানের মৃত্যুর খবর পরিবেশন করে মূল ধারার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওই খবরের ওপর আস্থা রেখে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল শোকবার্তাও পাঠায়।

গণমাধ্যমের হাতে আজম খানের এমন ‘অপমৃত্যু’র ঘটনায় প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ ‘শঙ্কিত’ হয়ে পড়েন। তার শঙ্কাটা ছিল সাংবাদিকতার ‘বিলো স্ট্যান্ডার্ড লেভেল’ নিয়ে। তিনি নাকি তার সহকর্মী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ আমাকে তোমরা মরার আগে মেরে ফেলো না।’

 ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি যখন মারা যান, তার আগে কয়েক দফা তাকে মেরে ফেলা হয়। সে কাজটিও করেছিলো গণমাধ্যম। মারা যাওয়ার আগেই তার মৃত্যুর সংবাদ পরিবেশন করে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।

মিডিয়ার হাতে তরতাজা মানুষের সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছর ২১ এপ্রিল। এবারও শিকার আরেক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ-প্রচার করে। এরপরও তিনি এক সপ্তাহ বেঁচেছিলেন।

মৃত্যুর আগেই মেরে ফেলানোর ঘটনার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত বেঁচে আছেন এমন ব্যক্তিদের কয়েক দফা মেরে ফেলানোর নজিরও স্থাপন করেছে এই গণমাধ্যমই।

 প্রখ্যাত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এখনো বেঁচে আছেন। বেশ কয়েকবার এই তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মেরে ফেলে মিডিয়া। নিজেদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে রীতিমতো প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠাতে হয়েছে তাদের।

উত্তেজনা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মিডিয়ার জন্যও, তাই উত্তেজনা প্রশমিত করে মিডিয়া একটু শান্ত থাকলে মন্দ হয় না। উত্তেজনাবশত সংবাদ পরিবেশন মিডিয়ার ‘বিলো স্ট্যান্ডার্ড’ লেভেলকে উলঙ্গ করে দেয়। 

সবচেয়ে সজ্জন, ধী-বুদ্ধিসম্পন্ন, মিষ্টভাষী, বিচক্ষণ, সৎ লোক হিসেবে সমধিক পরিচিত যিনি কখনো মন্ত্রিত্বের ভারে ‘ইমব্যালেন্স’ হয়ে পড়েননি। উল্টা-পাল্টা কথা বলে সংবাদের শিরোনাম হননি। তাকে নিয়েও মিডিয়া ‘কচুরিপানা’ সাংবাদিকতায় মেতে উঠে। 

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এ দেশের মিডিয়ার উত্তেজনা কম নয়। এই অস্বাস্থ্যকর উত্তেজনায় আমরা কখনো বাইডেনকে জিতিয়ে দিয়েছি, কখনো নিরঙ্কুশ বিজয়ের বরমাল্য পরিয়ে দিয়েছি ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়।

 হেফাজতকা-ের সময় শাপলা চত্বরের গল্প প্রচার হয়েছে কোনো কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়।

 শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে উপস্থাপন করে সস্তা ও বস্তা পঁচা  বাহবা নিয়েছে মিডিয়া। 

     হযরত ওমর (রা.)  বাজারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি শুনতে পেলেন এক ব্যক্তি দো’আ করছে-

‘হে-আল্লাহ, আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গণ্য করে নিন, হে-আল্লাহ, আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গণ্য করে নিন।’

হযরত ওমর (রা.) সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘ তুমি এই দো'আ কোথা থেকে শিখেছো?’

উত্তরে সেই ব্যক্তি বললো- কোরআন থেকে। আল্লাহ বলেন,‘এবং আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।’ (৩৪ : ১৩)

উত্তর শুনে হযরত ওমর (রা.) কাঁদতে লাগলেন, নিজেকে উপদেশ দিতে লাগলেন- ‘হে-ওমর, মানুষ তোমার চাইতে বেশি জ্ঞানী।’ সাথে তিনিও দো'আ করতে লাগলেন-

‘ হে-আল্লাহ, আমাকেও আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গণ্য করে নিন।’

যখন কোনো ব্যক্তিকে পাপকাজ ছেড়ে দিতে বলা হয়, তখন সেই ব্যক্তি যুক্তি দেখায় - ‘এই কাজ তো অধিকাংশ ব্যক্তিই করে, আমি করলে সমস্যা কি?’

 কোরআনে ‘অধিকাংশ ব্যক্তি’ ‘অধিকাংশই’ সম্পর্কে বলা হয়েছে -

অধিকাংশ ব্যক্তিই তা জানে না। (৭ : ১৮৭)। অধিকাংশ ব্যক্তিই কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। (২ : ২৪৩)। অধিকাংশ ব্যক্তিই বিশ^াস করে না। (১১ : ১৭)। তোমাদের অধিকাংশই অবাধ্য। (৫ : ৫৯)। তাদের অধিকাংশই মূর্খ। (৬ : ১১১)। তাদের অধিকাংশই সত্য জানে না। (২১ : ২৪)। তাদের অধিকাংশই বোঝে না। (৪৯ : ৪)। অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা শোনে না। (৪১ : ৫)।

 ‘অল্পসংখ্যক’  সম্পর্কে আল্লাহ বলেন -

আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (৩৪ : ১৩)। অল্পসংখ্যকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিলো। (১১ : ৪০)। একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে। (৫৬ : ১৩-১৪)। 

পাঠক-দর্শকের আস্থাই সংবাদমাধ্যমের মৌলিক পুঁজি। সেটাই যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন আমরা কেন,কী উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করি? আমরা সত্য বলে যা প্রকাশ করছি, যাদের জন্য প্রকাশ করছি, তারা যদি সেটাকে সত্য বলে বিশ^াস না করে, তাহলে আমাদের এই কাজের সার্থকতা কী?

গুজব, ভুয়া খবর, অসতর্কভাবে তৈরি করা আংশিক সত্য সংবাদ। সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতা মেনে না চলার প্রবণতা। সরকারি সংস্থাগুলোর চাপ। মালিকপক্ষ, বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রভাব। বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার হওয়ার শঙ্কা। স্ব-আরোপিত নিয়ন্ত্রণ বা সেলফ সেন্সরশিপ এর প্রভাবে সাংবাদিকতার গুণগত মান নেমে যাচ্ছে। মানুষ আস্থা হারাচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ওপর । 

জনগণ যা বিশ^াস করে না, তা লেখার কোনো অর্থ হয় না। জেনে-বুঝে সংবাদ পরিবেশন এ দেশের মিডিয়ায় ‘নাই’ হতে চলেছে। বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম ‘এক্সট্রিম সাপোর্ট (ঊীঃৎববস ঝধঢ়ড়ৎঃ)’- এর বাংলা অনুবাদ ‘জোরালো সমর্থন’ না হয়ে ‘ইন্ধন’ হয়ে যাচ্ছে। 

সংবাদ পরিবেশনের সময় সংবাদের ফেরিওয়ালারা বুঝতেই চান না ‘জোরালো সমর্থনে’র জায়গায় ‘ইন্ধন’ শব্দ বসিয়ে দেয়ায় কতটা ক্ষতি হচ্ছে। 

 সংবাদ পরিবেশনের আগে একটু জেনে-বুঝে নিলে মিডিয়ার কৌলিন্য রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের ইজ্জতটাও বাঁচে। নইলে তো মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে খবরের ভোক্তাশ্রেণি।

৪৬ বছর আগে জন্ম নেয়া দৈনিক সংগ্রাম এসব উত্তেজনা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে মুক্ত। ‘আমরাই আগে দেবো’, ‘আমরাই প্রথম’ এ মানসিকতা কখনো ছিল না। জেনে-বুঝে সংবাদ পরিবেশনের পথে শুরু থেকেই হেঁটে আসছে। সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা, বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে অধিকমাত্রায় সচেতন। নিজস্ব আদর্শ অক্ষুণœ রেখে তার পাঠককে সঠিক সংবাদ দেয়ার চেষ্টা করছে, চেষ্টা করে যাবে। অল্প সংখ্যকদের কাতারে থেকে ঈমানের বলে বলিয়ান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্রপ্রহরী। প্রতিষ্ঠার ৪৭ বর্ষে এটাই দৈনিক সংগ্রামের অঙ্গীকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ