বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

কবিতা

দুধকুমার

আবদুল হাই শিকদার

 

দুধের কুমার নাম তবু সেতো ঠিক দুধ নয়,

দুধের চেয়েও গাঢ় উত্তরে ভাওয়াইয়া প্রণয়

সর্বাঙ্গে জড়িয়ে সে হয়ে আছে একলা নদী,

আব্বাসউদ্দীন যেন নিধুয়া পাথারে নিরবধি।

 

দুধের কুমার নয়, তবু রূপ অথৈ সাঁতার,

নারীর সীমান্ত ঘেঁষে রাত জাগা এপার ওপার। 

দুই হাতে বিলি করে সঙ্গোপন ভোরের সিনান

বালুচরে কাশবনে গেরস্থের শানকির গান। 

 

এ নদী নদী তো নয়, মমতা ও সমতার ঢেউ,

গাইতি শাবল রেখে তাপদগ্ধ যেন অন্য কেউ

তাকে নিয়ে ভেসে যায়, ফিরে আসে অনুতপ্ত শীতে

ব্যথিত গোরের গায়ে ঘাসের সবুজটুকু দিতে। 

 

নদী ঠিক নদী নয়, জলের ভঙ্গিমা হয়ে ওঠে,

শরৎ হেমন্ত নয়, খিরোলের গান নিয়ে ঠোঁটে

নিবিড় গোপন ঘাস, গভীর গহীন হয়ে ফোটে,

সিমফুল কানে গাথা লাউডগা হাসুলীও জোটে।

 

ছোট বড় কত গ্রাম তবু নদী পূবের পাড়ার,

তারই সজল ফ্রেমে জলছবি মৃত তারকার,

জন্ম জন্মান্তরে তেপান্তরের ধুধু কাল,

আত্মার কলরবে যত কিছু ছিল উত্তাল,

তারি কটি ছেঁড়া পাতা দুধকুমারের কোন চরে,

ঢেউদের ককপিটে একা একা মাথা কুটে মরে। 

 

আবার নতুন পলি নিয়ে আসে আষাঢ়ের বায়ু,

যারা ছিল তারা নেই নিরব নিস্তব্ধ সব আয়ু,

কোথায় হারিয়ে গিয়ে, উগড়ে দেয় নতুন সকাল

দুঃখদের তীরে রেখে নদী তবু বহে চিরকাল। 

রাতজাগা চাঁদগুলো বুকে নিয়ে রৌদ্রে পোড়া সুরে,

কষ্টের হকারী করে একা একা বিপুল সুদূরে। 

 

মোরগ ডাকার ভোরে আজো ঘুম ভেঙ্গে যায় কবির

চোখ মেলে পায় না সে দশদিকে কিনারা নদীর।

চরাচরে ঘরে ঘরে অতলান্ত পানি আর পানি,

বয়ে আনে পুরাতন সেই সব নির্ঘুম বাণী,

আমিই কি দুধকুমার নাকি নদী আমাতে মিশেছে?

অথবা আমরা শুধু উত্তরের শেষ সীমা ঘেষে

বয়ে যাই অনন্তকাল দুহু তরে দুহু ভেবে ভেবে,

তারপর একদিন অপার অসীম কাছে নেবে। 

 

হয়তো নেবে না কাছে, আমরা শুধুই বয়ে যাব,

দিনান্তে নিশান্তে নদী আপন বুকেই ফিরে পাব,

হয়তো হবে না তাও, মানুষ ও নদীর মাখামাখিÑ

একজন জন্মবধির, আরেকজন দ্বার খুলে রাখি। 

 

দুই.

দুধের মতোই তার মধুময় জলের স্মৃতি,

আবেগ মথিত মাখন চরাচরে ছড়িয়ে প্রীতি,

আমাকে রেখেছে করে ঝাউবনে ব্যথিত রাখাল,

হৃদয়ের ধুকপুকে মিশে আছে তারই উত্তাল

ভাঙ্গনের দাগে দগ্ধ গড়ার কবিতা কথামালা,

শৈশবের কালজানি মেলে ধরে ঢেউয়ের থালা,

অতীতের তীর থেকে বয়ে আনে সংকোশের বান,

দুধকুমার বয়ে যায় কাঁপিয়ে ছাপিয়ে কবি প্রাণ।

 

 

হিসাবনামা

তমসুর হোসেন

 

হাবিয়ার প্রচন্ড উত্তাপের কাছে এসে গেছে মনে হয় ক্লান্ত পৃথিবী

এক অদৃশ্য অগ্নিগোলকের ভেতর দিয়ে বুঝি এখন তার যাত্রা

সূক্ষèবিচারকের আদালতে অগণিত প্রশ্নের সদুত্তর দিতে 

হাজির হতে হবে তাকে ভাষাহীন অস্তিত্ব নিয়ে।

 

আজন্ম দম্ভ করেছে যে নির্দয় জালিম পৃথিবী কি নেবে তার দায়?

নিশব্দ নিভৃত অশ্রুপাত অসহায় নালিশ অভিযোগ

নারীত্বের অপমান শোষণ ত্রাসন সর্বস্ব লুন্ঠনের পাপ

নিশ্চুপ পৃথিবী নিতে পারে অন্যায়ের দায়?

নিযুত শতাব্দী মানবতার সকরুণ কান্না শুনেছে নিথর পৃথিবী

পশুর রক্তচোখ বিকৃত শব্দ লালসার জঘন্য পরিতৃপ্তি

প্রত্যক্ষ করেছে বালুকণা বৃক্ষপত্র নিরপেক্ষ মেঘ বর্ষোপল।

 

সভ্যতার অসভ্য উল্লাস যুদ্ধের ঘনঘটা সমরাস্ত্রের সমারোহ

পৃথিবী দেখেছে চিরকাল কালের নয়নে ঝরেছে রোধিরাশ্রু 

আবক্ষ হতাশার বন্যা খরা ঝড় মহামারী চিত্রিত হয়েছে কালের দেয়ালে

তবুও দস্যুতা ছিল বেগবান মেদিনীর বুকে শব্দমান সমশের ছুটেছে হালাকু

ধরণীতে কতকাল কেঁদেছে বিচার নিষ্পেষিত মানবতা গুমরে মরেছে নির্জনে।

 

অসহ্য যন্ত্রণায় কাঁদছে পৃথিবী তার গুপ্ত গহ্বরে জ¦লে অংগার

আকাশ ঢালছে অগ্নি বাতাসে পোড়া গন্ধ জ¦লন্ত বারুদ

ক্ষিপ্ত সাগর করাঘাত হানে বারবার মেদিনীর নরম বুকে

প্রচন্ড ক্ষিপ্রতায় বজ্র ত্রিশুলে জর্জরিত করে মৃত্তিকা অন্ধ ই¯্রাফিল

শিমাল জুনুব শ^াস ফেলে গোলার্ধ নিস্তেজ হয় শক্তিশেলে

প্রজন্ম শোধ করে নিকৃষ্ট জনকের ঋণ কৈশর ব্যর্থ হয়

যৌবনে জাগে নৈষ্টিক উত্তেজনা কালের রেখায় লেখা হয় হিসাবনামা। 

 

অজানার উদ্দেশে

শরীফ আবদুল গোফরান

 

রোজ রাতে চাঁদ এসে আমার ঘরে

প্রেম নিবেদন করে

ভালোবাসার গল্প শোনায়

আমি তখন তাকে আলিঙ্গন করি

কল্পলোকে হারিয়ে যাই

ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ি

আলোর কণাগুলো তখন

কাব্যের পঙক্তি হয়ে

তালে তালে নৃত্য করে

আমাকে জড়িয়ে ধরে

প্রতিহিংসায় তখন জ¦লে ওঠে মেঘরাজা

তার নিকশ কালো মুখ আরো কালো হয়ে যায়

অমবস্যার রাত নামিয়ে দেয়

মুছে দেয় নীলিমা রেখা

আমার হৃদয়ের ভালোলাগা ছন্দগুলো

তখন অভিমানে হারিয়ে যায়

চলে যায় অজানার উদ্দেশে।

 

আমি শুধু একা

আহসান হাবিব বুলবুল

 

টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ

পাখির কিচির মিচির

নদীর কুল কুল রব

বাতাসের কলতান 

কল্লোলিত সমুদ্রের ঢেউ

শব্দের বৈভব হয়ে আছড়ে পড়ে

মনের মুকুরে।

নবজাতকের চিৎকার, আজানের ধ্বনি

শব্দের আলোড়ন তুলে মিলিয়ে যায়,

ভাসে ইথারে

আমার কর্ণ কুহরে বাজে।

শব্দের বিচিত্র ঐশ^র্য কারুকাজ

জীবনের সাথে লেপটে আছে যেন

লতা-গুল্ম যেমন জড়িয়ে থাকে বৃক্ষকে।

 

এখানো বৃষ্টি নামে, পাতা ঝরে

পাখি ডাকে

নদী বয়ে যায়

প্রকৃতির সুষমা জাগে জনপদে।

কিন্তু কেউ নেই, কারো নেই ফুরসত

ফিরে দেখার।

শশ ব্যস্ত সবাই!

 

আমি শুধু একা বসে আছি।

এই শহরে,

শব্দের একজন কারিগরের জন্য

শব্দের একটা ঘর বানাবো বলে,

টিনের চালে বৃষ্টির 

শব্দের মত !!

 

 

প্রেমের সূচারু কারুকাজ

আমিন আল আসাদ

 

[মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমী (রহা) স্মরণে]

 

চারিদিকে বিশ্বাস হন্তারক কুটিল অন্ধকার

ঘৃণার সাইক্লোণ, রক্তখেকো প্রেতের অট্টহাসি

অন্তরাত্মায় সীমাহীন মরুর মতো হাহাকার

নিশ্বাসের বায়ু, পিপাসার জলও অবিশ্বাসী।

 

মানবাত্মা ও পরমাত্মার সুদৃঢ় সেতু বন্ধনে

তথাপি রচিত হয় প্রেমের সূচরু কারুকাজ

শুনি বহুকাল বিচ্ছিন্ন বাঁেশর বাঁশির ক্রন্দনে

উৎসে প্রত্যাবর্তনের করুণ এক আওয়াজ।

 

প্রেমই পারে থামাতে দানবীয় ঝঞ্ঝা পৃথিবীর

প্রেম হলো আপন উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া

প্রতিবন্ধকতার সকল অন্ধকার করে চৌচির

ক্বালবের কপাটে প্রবিষ্ট এক অলৌকিক হাওয়া।

 

প্রেমাস্পদের বিরহ যাতনায় আত্মারা কাতর

এ নয় ‘যাতনা’ শুধু। এ পরম পরশ পাথর

স্পর্শে যার আলেকিত হয়ে ওঠে লৌহ আকর

জগৎ সুবাসিত হয় মেখে এই ঐশী আতর।

 

 

উষ্ণ ভালবাসা

এ কে আজাদ

 

বুকের নদীতে সুখের জল, ছলাৎছল।

বিকেলের মোহন রশ্মি আড়চোখে চেয়ে থাকে বাঁশবাগানের ফাঁকে,

সন্ধ্যার রবি উবু হয়ে দুহাতে কুড়িয়ে নেয় গোধূলির আবীর।

 

রাত্রির কোল জুড়ে স্বপ্নের খেলা শেষে

জানালার কার্নিশে উঁকি দেয় সোনালী রোদ।

কী মায়া জমেছে নন্দিনী তোমার কপোলের তিলে?

কী এমন তৃষ্ণা জমে আছে উচ্ছ্বল বুড়িগঙ্গার জলে?

চেয়ে থাকা পথের আদরে সমস্তদিন হয়ে থাকে মোহিত বিভোর!

অশরিরী এক মায়াবী বাঁধন বেঁধে রাখে প্রতিটি প্রহর! 

আহা! এ কেমন গুড্ডি উড়ানো মিহি সময় বল তো নন্দিনী!

বুকের পকেটে গুঁজে থাকা সুখে পৃথিবী কেবলই হাঁটে এ শিহরিত নগরে!

 

তুমি আছো ঠোঁটের অলিন্দে তাই লেগে আছে ভাষা,

কে জানে - আর কত রোদ পোহালে

এর নাম হয় উষ্ণ ভালোবাসা!

 

 

একুশ বসন্ত

বশিরুজ্জামান বশির

 

আমার একুশ বসন্ত মানে দুই হাজার একুশ সাল

হাজারও সুন্দরী’ নামক নারীদের হাতছানি

এখন আর ডাকে না আমাকে; কেনো ডাকবে?

আর কতো, আটচল্লিশ বসন্তে  ভাবতে হবে দেশকে নিয়ে

সমস্ত দুর্নীতি ধ্বংস করে

ছিনিয়ে আনতে হবে নোবেল পুরস্কার।

বসন্তকন্যারা বুকে তুলে ডুগডুগি বাজাবে আমার বুকে

মদের পেয়ালা হাতে বসন্ত গুলিয়ে পান করাবো বিরহ জ্বালা।

আমার স্বদেশ আর আমাকে বানাবে না কবি

কবিকে সম্মান দিতে না পারলে কবি সৃষ্টি বৃথা;

আমার বুক থেকে বিরহ তুলে 

আগুন জ্বালিয়ে দাও

বসন্তে পুড়ে যাক ঘুষখোর, সুদখোর, দুর্নীতিবাজ।

 

 

এদেশের মাটি 

মনির উদ্দীন পাটওয়ারী

   

এদেশের মাটি, এদেশের মাঠ, এদেশের মেঠো পথ

এদেশের পাহাড়, এদেশের ঝর্ণা, এদেশের পর্বত     

এদেশের নদী, এদেশের খেয়া, এদেশের খেয়া ঘাট 

এদেশের পাড়া, এদেশের গ্রাম, এদেশের গঞ্জ হাট    

এদেশের ফুল, এদেশের ফল, এদেশের মিঠা জল  

এদেশের আলো, এদেশের বায়ু, এদেশের কোলাহল         

মিশে আছে মোর জীবনের সাথে, যেন রংধনু সাত রং;

প্রতিদিন করে ধুয়ে মুছে সাফ, জীবনের যত জং।   

 

এত এত ফুল, এত এত ফল, নদী ভরা এত মাছ

পাবে কি না দেখ, খোঁজ সব খানে, চোখে নাও পুরু কাঁচ।

এত এত দীঘি, এত এত পুকুর, এত এত নদী ঝিল;

এদেশের সাথে, খুঁজে পাই আমি, সর্গের বড় মিল। 

সবুজ শ্যামল এত এত গাছ, এত এত সব পাখি,

এত কাশ বন, এত ঘাস বন, কোন্ খানে আঁখি রাখি!!   

 

বহু দিন ঘুরে, বহু ব্যয় করে, দেখেছি কতনা দেশ

সাগর নদী পাড়ি দিয়ে দিয়ে; করেছি গুগুল শেষ

কোথাও দেখতে পাইনি কো আমি, এত শোভা এত রূপ!!  

সর্গের সম আমার এদেশ, আজ এক মৃত্যু কূপ!!

 

 

লা তাহযান

আনোয়ার আল ফারুক

 

ক্লান্ত দেহ নিয়ে দূর অনেক দূর এগুনো যায়

কিন্তু ক্লান্ত মন নিয়ে খানিক পথও চলা দায়,

আজ দেহ মনে ক্লান্তি ভর করছে, 

অক্টোপাসের ফাঁদের মতো প্যাঁচিয়ে নিয়েছে 

মনের সকল উদ্যমতাকে,

তার সাথে চোখ মুখ আর হৃদে এঁকে দিয়েছে

অজানা এক ভয়ের ভয়াল চিহ্ন,

ভয় আমাকে কুরেকুরে খাচ্ছে আর

মন মননকে অহর্নিশ দুর্বল করে তুলছে।

উৎকন্ঠা আর তটস্থতা আমার পথ আগলে দাঁড়ায় রোজরোজ।

 

আমি অক্ষমতার কাছে হেরে যাচ্ছি আর জীবন যবনিকাপাতের

অমীমাংসিত অঙ্ক কষে কষে কষ্টনদী সাঁতরে বেড়াচ্ছি।

আর কতদুর কূল! কোথায় আমার যাত্রার শেষ? 

আমি কী আদৌ আমার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি

 নাকি পদচ্যুৎ হয়ে ঠিক আঁধারের ঘন গহীনে হারাচ্ছি?

আমার ক্লান্ত দেহ মন বৈরি বাতাসে নাও বাইতে সম্পূর্ণ অক্ষম, 

তন্দ্রালুতা আমাকে বেশ আঁকড়ে ধরছে 

আর সীমাহীন তন্দ্রালুতার মাঝে আমি স্পষ্ট শুনতে পাই

 ঐশ্বরিক আমোঘ বাণী

 -"অলা তাহেনু অলা তাহযানু ইল্লা ওয়া আনতুমুল

 আওলাওনা ইন কুনতুম মুমিনুন"।

 

 

এক উজ্জ্বল নক্ষত্র 

মোহাম্মদ আবদুর রহমান

 

অন্ধকারাচ্ছন্ন আরবের আকাশে

উঠেছিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।

যার আলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে 

আশার প্রদীপ জ্বলে উঠে 

অসহায় মানুষের বুকের ভেতর।

 

কু-সংস্কারের আগাছাগুলি 

পুড়ে হয়ে যায় ছাই ।

অঙ্কুরিত হয় শান্তির বীজ

উৎপাদিত হয় অনেক অনেক গাছ ।

শান্তির গাছগুলি 

স্বস্তির সাথে নিঃশ্বাস নেয় ।

ফুল ফোটে

ফল হয়

বংশবিস্তার করে ছড়িয়ে পড়ে 

বিশ্বের চারিদিকে ।

  

সেই নক্ষেত্রের আলো 

আজও ছড়িয়ে আছে সর্বত্রই ।

সেই আলো গায়ে মেখে 

শান্তির বাগানে 

চলো সব করি পদচারণ সারাক্ষণ।

 

 

দেখা হবে জান্নাতে

ওয়াহিদ আল হাসান

 

বড্ড অভিমান করে চলে গেলে বাবা নিরবে

আগের রাতেই না কত কথা হলো মোবাইলে

কই কিছুই তো বললে না, 

শুধু কষ্টের ছোটো ছোটো নিঃশ্বাস শুনতে পেলাম

বলেছিলাম, আল্লাহকে বেশি বেশি ডাকতে 

আর আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে

সাথে সাথেই শুনেছিলে সেই কথা

জপছিলে মহান আল্লাহর কুদরতি নাম

কে জানতো সেই কথাগুলোই হবে শেষ কথা!

 

সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হয় জানি

তবে এভাবে কাউকে কিছু না বলেই চলে যাবে 

তা কখনও ভাবতেই পারিনি বাবা

না মাকে কিছু বলে গেলে, না ভাইবোনকে!

 

তবে তোমার চলে যাওয়া নিয়ে গর্ব করি বাবা

আল্লাহ তোমাকে এতো সম্মানের সাথে নিয়ে গেছে যে, 

যে কারো কাছে তা খুশি ও প্রেরণা হয়ে থাকবে

তোমার শেষ নিঃশ্বাস, মৃত্যুপরবর্তী চেহারা, 

গোসল, জানাযা, দাফনকাফন সবকিছুতেই যেনো 

একজন প্রকৃত মুমিনের প্রতিচ্ছবি বিদ্যমান!

 

জানো বাবা তোমার অসিয়তমতো 

আমার মতো গুনাহগার ছেলেটি

তোমাকে গোসল করিয়েছে, 

নামাজ পড়িয়েছে, নামিয়েছে কবরেও।

 

আজ বড়োই একা হয়ে গেছি বাবা

না তুমি আছো পাশে, না শ্বশুর আব্বা

আল্লাহ ইচ্ছায় বাবা হতে পারিনি আজও

চারিদিকে তাই বড্ড শূন্যতা বাবা, শুধুই শূন্যতা!

 

একদিকে তোমার বউমার কোলশূন্য

অপরদিকে মা একা বাড়ি পাহারা দিচ্ছে

অন্যদিকে শাশুড়িমা একমাত্র ছেলে-নাতি নিয়ে

আজও কাটাচ্ছে একাকিত্ব জীবন!

 

প্রতিদিন তোমাকে স্মরণ করে 

কতবার যে হারানোর বেদনায় আপ্লুত হই নিরবে

বারবার খুঁজে ফিরি স্মৃতির করিডোরে!

 

মহান রবের কাছে আবেদন জানাই মনেপ্রাণে

দেখা হবে জান্নাতের উন্নত বাগানে

গাইবো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার গান।

 

 

নিঃসঙ্গ কুয়াশার কোলে

হাসান নাজমুল

 

নিঃসঙ্গ কুয়াশার কোলে নিঃসঙ্গ জীবন

শীতার্ত শরীর নিয়ে কেঁপে ওঠে রাত-দিন;

শীতল ধূলির কণা গড়ে তোলে হিমগিরি,

বেদনার সুর যেন সাগরের শাদা হিম!

উষ্ণ বস্ত্র পাবে বলে গোনে শীতল প্রহর,

শীতল পাতার ফাঁকে উঁকি মারে বারবার;

এই বুঝি নেমে এলো আজ প্রখর রোদ্দুর 

অল্প অল্প করে জ¦লে ওঠে আশার প্রদীপ।

 

 

দুষ্টু নাবালক

শেখ একেএম জাকারিয়া

 

ঘরের ভেতরে দুটি সূর্য একসঙ্গে যুদ্ধ বাঁধায় রোজ।

ক্লান্তি নেই, কোলাহল হরদম।

এটা ওটা নিয়ে চটাচট লেগে যায়

ক্লান্ত দেহে স্বস্তি নেই একটুও

ভয়াবহ করোনার ক্রান্তিকালে

বোর হয়ে ওঠে কবির কবিতা এমনিভাবেই রোজ।

 

কুঠুরিতে পা রাখলেই অভিযোগে আর অভিযোগ

ইচ্ছে হয় চাবকে পিঠে চাম তুলে দিই।

তবুও এত শোভা এত কিরণ

কলম হাতে এঁকে দিই

সফেদ ওড়নায় মোড়া সুডৌল চন্দ্রাবতীর পাশে

 নতজানু দুই দুষ্ট নাবালক।

 

 

কবে আসবে বসন্ত 

সাজিয়া ইসলাম দিবা 

 

শীতের রিক্ততা আর ভালো লাগছে না,

হিম কুয়াশা শীতল হাওয়া চারিদিকে শূন্যতা,

 

কবে আসবে বলো বসন্ত, 

ঘটবে সকল প্রতিক্ষার অন্ত,

কোকিল ডাকবে মনের সুখে,

ফটুবে হাসি সবার মুখে,

 

কৃষ্ণচুড়া আর পলাশে, 

ভরবে মন অপার আনন্দে,

চারিদিকে হলুদ গাদার সমারোহে,

বাসন্তী বাতাসে হৃদয়ে দোলা লাগবে,

 

ঋতুরাজে সাজবে কবে প্রকৃতি নতুন ভাবে, 

সকল রিক্ততা আর বিষন্নতা কেটে যাবে,

নব পত্রপল্লবে চারিদিক সবুজে ভরবে,

আপন মহিমা নিয়ে আবার বসন্ত আসবে...।

 

 

অব্যক্ত বচন

শাফায়েত হোসেন রুবেল

 

হৃদয়ের গভীরতা নয়নের তীরে।

ঢাকনায় ঢাকা যত অব্যক্ত বচন,

সবই যেন হাঁড়িভরা রন্ধিত ব্যঞ্জন!

ঘ্রাণ আসে ঢাকনার গোল প্রান্ত চিরে,

দিনের আলোতে আর রাত্রির তিমিরে,

কখনো গোধূলিলগ্নে তার নিঃসরণ!

ঘ্রাণ ছড়ায় দিনের যখন তখন,    

ঘ্রাণ ছড়ায় কখনো একা একা নীড়ে।

 

কেউ উপলব্ধি করে ধরে ছদ্মবেশ,

ঝাপসা ধোঁয়াশা দেখে কেউ হয় ভ্রান্ত,

কেউ তা সরাতে করে নিজেকে অক্ষান্ত,

কেউ ধরতে অক্ষম ভেতরের লেশ,

ঘ্রাণ বুঝে কেউ তাকে করেনা বিভ্রান্ত,

বিচিত্র পরিণতির নেই যেন শেষ!

 

 

জীবনে চলার পথ

রেজাউল করিম রোমেল

 

জীবনে চলার পথ কতই না আঁকাবাাঁকা।

কখনো সোজা কখনো বাঁকা,

আবার কখনো সরু, চওড়া, উঁচুনিচু।

এ চলার পথ কখনোই মসৃণ নয়।

শত বাধা বিপত্তি, দুঃখ হতাশাকে 

জয় করে যে এগিয়ে যায়,

সেই তো সত্যিকারের মানুষ।

চলার পথে বাধা পেয়ে থেমে যেও না।

সামর্থের সবটুকু শক্তি সাহস

বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগিয়ে যাও।

আলো আসবেই...

 

 

ধূলিকণার স্তূপ 

জাহিদ হাসান রনি

 

সহস্র বছর বুঝি পেরিয়ে গেছে 

দেখিনা তোমায়, দেখা হয় না!

অথচ একটা পৃথিবীতেই আমরা!

চাঁদ হাসে, তারা হাসে, তুমিও কি !

মাঝে মাঝে আকাশ কাঁদে, তুমিও!

আমার জানা হয়না কিছু, জানা হয়না কিছুই 

আন্দাজ আর কতটুকুই করতে পারি বলো?

জীবনের উদীয়মান সূর্য এখন অস্ত যাবার পথে 

সন্ধ্যা নামার অপেক্ষায় আছি, কেবলই অপেক্ষায়। 

 

একটা হৃদয়ে তুমি ছিলে, বন্দি ছিলে

সেখানে স্তূপ পড়ে গেছে, ধূলিকণার!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ