বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১
Online Edition

বিশ্বের বিরল জাতের ওষুধী বৃক্ষ “কাইজেলিয়া”

কলেজের সাবেক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, নব্বই এর দশকের গোঁড়ার দিকেও এই গাছ অচিন বৃক্ষ নামেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নে ৯৪-৯৫ সালে কলেজের তৎকালীন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ডক্টর মোস্তফা কামাল পাশা এ গাছ দুটির ওপর বিষদ গবেষণা চালিয়ে এর প্রকৃত পরিচয় আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শিক্ষক প্রতিনিধি দল এর ওপর গবেষণা করেন। যেহেতু এ গাছের প্রজনন কিংবা বংশ বৃদ্ধির কোন সুযোগ নাই, তাই টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এ গাছ থেকে তারা ১১টি চারা উৎপন্ন করেন এবং কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সামনে রোপণ করেন উৎপন্নকৃত দুটি শিশু চারা। আর বাকি ৯টি চারা রোপণ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। মজার বিষয় হলো অপর ৯টি চারা মরে গেলেও এখানকার দুটি বেড়ে উঠছে অনেকটাই। অর্থাৎ বর্তমানে কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবীণ এবং নবীন মিলে চারটি ”কাইজেলিয়ার” গাছ রয়েছে।
কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও ইংরেজী বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, কারমাইকেলের মাটি ও আবহাওয়া এ গাছের জন্য অনেকটাই উপযোগী। দুর্লভ ও বিরল প্রজাতির এ গাছ দেখতে বহুকাল আগে থেকেই দেশ-বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও পর্যটকদের অনেকেই এখানে আসেন এবং এর স¤পর্কে জানার চেষ্টা করেন। তারা এর ছবিও তুলে নিয়ে যান। কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান সুবিশাল ক্যাম্পাসে বিলুপ্ত প্রায় ”কাইজেলিয়া”। বিরল প্রজাতির ”কাইজেলিয়ার” অবস্থান এশিয়ায় রয়েছে মাত্র পাঁচটি, আর বাংলাদেশে রয়েছে দু’টি। যা শত বছরের ইতিহাসের কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রংপুর কারমাইকেল কলেজের বুক জুড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ