রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বিটিএ'র শতবর্ষপূর্তিতে মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণের দাবি জানিয়ে শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করলো বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ ফেব্রুয়ারি অল বেঙ্গল টিচার অ্যাসোসিয়েশন (এবিটিএ) নামে সংগঠনটি যাত্রা শুরু হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় বিটিএ এখন দেশের প্রাচীনতম শিক্ষক সংগঠন।

গত শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে সংগঠনের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ শোভাযাত্রার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে প্রেসক্লাবের আকরাম খা হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদের সঞ্চালনায় এক মনোজ্ঞ শোভাযাত্রার মাধ্যমে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান শুরু হয়।  পরে নেতারা আলোচনা সভায় অংশ নেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এ এস এম মাকসুদ কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ও  দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, সমিতির অন্যতম উপদেষ্টা রঞ্জিত কুমার সাহা এবং সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি আলী আসগর হাওলাদার, বেগম নুরুন্নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু জামিল, মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাহমিদা রহমান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম, অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রোভিসি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন না হলে এ হার কার্যকর হবে না। সুশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, সাক্ষরতার হার বাড়াতে শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু সুশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে উঠবে না। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হবে। রাষ্ট্রকে বাধ্য করতে হবে যেন শিক্ষা সহায়ক সকল কিছু যেন তারা সরবরাহ করা হয়। সেসঙ্গে শিক্ষকদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাও বাড়াতে হবে।  

শতবর্ষ পূর্তিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস), বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস), বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদারেসীন, বাংলাদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী সমিতিসহ অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারী সংগঠনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়াও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সারাদেশের উপজেলা, থানা, জেলা-মহানগর, অঞ্চলিক শাখাগুলো বিভিন্ন কর্মসূচির শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপন করেন। আলোচনা সভার শুরুতে গত ১০০ বছরে বিটিএর সাথে সম্পৃক্ত প্রয়াত শিক্ষক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় বক্তারা বিটিএর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে বক্তারা মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণের দাবি জানান। 

তারা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারি পাহাড়সম বৈষম্য রয়েছে। সেই বৈষম্য নিরসনের একমাত্র উপায় হলো শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ। মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণের দাবি আদায়ের অঙ্গীকার নিয়েই সারাদেশে বিটিএ শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপন করছে। 

বক্তারা আরও বলেন, সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাণের দাবি শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ এবং বিটিএর প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকীতেই মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দেবেন, আমরা সে আশা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ