ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 February 2021, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭, ১২ রজব ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

কাদের পরিবারকে ‘রাজাকার পরিবার’ বললেন এমপি একরাম

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ‘আমি কথা বললে তো আর মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার পরিবারের লোক এই পর্যায়ে এসেছে, তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার যদি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না আসে। তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

ফেসবুক লাইভে এসে এভাবেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সদস্য বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে একরামুল করিমের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তার আগেই ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এ নিয়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে একরামুল করিম চৌধুরী জানান, ভিডিও সরিয়ে নিলেও তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সত্য এবং তিনি সত্য কথা বলেছেন।

একরামুল করিম চৌধুরী এমপির মুঠেফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভিডিও সরিয়ে নিলেও তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য এবং তিনি  সত্য কথা বলেছেন। আপনারা গণমাধ্যম কর্মিরা খবর নিলে জানতে পারবেন তার পরিবারে কারা রাজাকার ছিল। তবে ওবায়দুল কাদের এমপি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন থেকে তার ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার ভাইকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, এ জন্য তিনি এসব কথা বলেছেন।  

তবে শুক্রবার সকালে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা জানান, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পরিবার ও আমার পিতার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। কাদের সাহেব সম্মুখের মুক্তিযুদ্ধা। বরং একরাম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা বার বার দলের সাথে ও দলের নেতাদের সাথে বেইমানি করেছে। আমাদের পরিবারে কে রাজাকার তার প্রমাণ দিতে হবে তাকে। না হয় জনতার আদালতে তার বিচার হবে, না হয় আমি অপরাধী হলে আমার বিচার হবে। আমি সত্য কথা বলায় এখন আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সত্য বলে যাবো। আপনারা খবর নিন, কে কেমন, সত্য তুলে ধরার জন্য আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো।

এদিকে ইতিমধ্যে একরামুল করিম চৌধুরীর এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পার্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। দলের সাধারণ সম্পাদকের পরিবার নিয়ে আওয়ামী লীগের এমপির করা মন্তব্য নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। 

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ