বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

করোনায় বিশ্বে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ হাজারের বেশি মৃত্যু 

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৯১ জন। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যু ২০ লাখ ৮১ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট শনাক্ত ৯ কোটি ৭২ লাখের বেশি। যুক্তরাজ্যে একদিনে ১ হাজার ৮২০ জনের মত্যু হয়েছে। মহামারী শুরুর পর এই প্রাণহানি দেশটিতে সর্বোচ্চ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ৪ হাজার ৩৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেক্সিকোতে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৮৪ জনের, যা এখন পর্যন্ত একদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এদিকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক দিনে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৮৪ জন। 

করোনা ভাইরাস মহামারির শুরু থেকে বিশ্বের সব দেশ ও অঞ্চলের করোনা সংক্রমণের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস নামের একটি ওয়েবসাইট। তাদের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯ কোটি ৭৩ লাখ ৫ হাজার ৩৫৬ জন, মোট মারা গেছেন ২০ লাখ ৮৩ হাজার ২০৩ জন। বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৫ জন। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৪ জন। ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ১১ হাজার ৭১৯ জন। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯০৬ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৮ জন। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ১২ হাজার ৮৯৩ জন। তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। ফ্রান্স পঞ্চম। যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ। তুরস্ক সপ্তম। ইতালি অষ্টম। স্পেন নবম। জার্মানি দশম। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। তবে তার ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক দিনে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৮৪ জন। বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ৫৮৪ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার ২৭১ জন হয়েছে। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ১৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৯৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬০২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪ জন হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ; তা সোয়া ৫ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ জানুয়ারি। এর মধ্যে গতবছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গতবছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৯ ডিসেম্বর তা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৯ কোটি ৬৯ হাজার পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩০তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৮তম অবস্থানে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৬টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৮টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৫৬টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২০০টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৭৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২৮টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৮৪টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৪টি।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ আর নারী ৫ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন হাসপাতালে ও ১ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জন করে মোট ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে  ছিল।

মৃতদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ৩ জন চট্টগাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৭ হাজার ৯৬৬ জনের মধ্যে ৬ হাজার ৩৭ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৯২৯ জন নারী।

তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৯৫ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ২ হাজার ৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯১৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৯৪ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৬২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৬০ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৬ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৬ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৪৫৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৫৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৪৫ জন খুলনা বিভাগের, ২৪০ জন বরিশাল বিভাগের, ৩০১ জন সিলেট বিভাগের, ৩৫৪ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৮৬ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ