রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১
Online Edition

জো বাইডেনের যাত্রা শুরু 

* শপথ নিয়েই ঐক্যের ডাক দিলেন জো বাইডেন

মুহাম্মদ নূরে আলম: সত্য হলো জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র বা জো বাইডেনের স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। বড় কোনো সংকট দেখা না দিলে আগামী চার বছর ওভাল অফিসের নিয়ন্ত্রণ থাকছে তারই হাতে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্বেতপ্রাসাদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধ্যায় যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু হলো জো বাইডেনের যাত্রা। গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র বা জো বাইডেন নিজ পরিবারের ১২৭ বছরের পুরনো বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। তার আগে শপথ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এর আগে, নির্ধারিত সময় সকাল ১০টার দিকেই ক্যাপিটলে পৌঁছান জো বাইডেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জিল বাইডেন, নতুন ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস প্রমুখ। শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন লেডি গাগা। এছাড়াও গান গেয়েছেন জেনিফার লোপেজ ও গার্থ ব্রুকস। একে তো করোনাভাইরাস মহামারি, তার ওপর দু’সপ্তাহ আগে পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্প-সমর্থকদের তা-বের জেরে এবছর একেবারেই সীমিত রাখা হয়েছে আয়োজন। ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা।

শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১৫টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। অন্য নির্বাহী আদেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের ঠিক উল্টো। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের নতুন শাসকের অভিষেকে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। শপথ গ্রহণের পরপরই তাদের জন্য শুভেচ্ছার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। বাইডেন-হ্যারিসকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও জোটের প্রধানরা। বিশ^নেতাদের মধ্যে যারা শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, পোপ ফ্রান্সিস প্রমুখ। সিএনএন, এনবিসি নিউজ, বিবিসি। 

জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়েছিলেন তারা। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, ট্রাম্প প্রশাসনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল প্রমুখ। গত বুধবার সকালে যে হোয়াইট হাউস ছেড়ে সুদূর ফ্লোরিডায় পাড়ি জমিয়েছেন সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, দুপুর গড়াতে না গড়াতে সেই বাড়িকেই স্থায়ী ঠিকানা বানালেন বাইডেন। বিদায়বেলায় ট্রাম্পের পাশে ছিলেন স্ত্রী মেলানিয়া, বাইডেনও তার নতুন ঠিকানায় প্রবেশ করেছেন জীবনসঙ্গীর হাত ধরে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার। এরপর আসেন রিপাবলিকান সিনেটর রয় ব্লান্ট। তাদের দু’জনের মুখেই ছিল গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান। বাইডেনের জন্য মার্কিন রাজনীতির চূড়ায় পৌঁছানোর এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। তিনবারের চেষ্টায় এই সাফল্য ধরা দিয়েছে তার হাতে। ১৯৮৭ এবং ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বাইডেন। দু’বারই ব্যর্থ হন। কিন্তু ২০২০ সালে আর নিরাশা নয়, ধরা দিয়েছে বহুল প্রত্যাশিত সেই সফলতা। বিপুল ভোটে জিতে ট্রাম্পের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছেন হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ। 

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই ঐক্যের ডাক দিলেন জো বাইডেন। এসময় বিভেদ দূর করে নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ক্ষমতাগ্রহণের পর অভিষেক ভাষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বাইডেন বলেন, এটা আমেরিকার দিন। এটা গণতন্ত্রের দিন। আজ কোনো প্রার্থীর বিজয় নয়, আমরা একটি কারণ উদযাপন করব। কারণটি গণতন্ত্র। মানুষের প্রার্থনা কবুল হয়েছে। মানুষের ইচ্ছার মান রাখা হয়েছে। ক্যাপিটলের অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ লিমুজিনে চড়ে হোয়াইট হাউসের পথে রওয়ানা দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্টের প্রতীক হিসেবে গাড়িটির নম্বর প্লেটেও লেখা হয়েছে ৪৬। এসময় তাদের পেছনে ছিল বিশাল গাড়িবহর। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসা প্রেসিডেন্টের গাড়ির সঙ্গে হেঁটে আসেন মাস্ক পরা ছয়জন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাও। হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি আসলে একসময় নেমে হাঁটা শুরু করেন বাইডেন দম্পতি। এসময় সাংবাদিকদের বাইডেন বলেন, মনে হচ্ছে, বাড়ি যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পর ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে পা রাখেন কমলা হ্যারিসও। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সেকেন্ড জেন্টেলম্যান ডগ এমহফ।

অভিষেকের দিনই জো বাইডেন ট্রাম্প প্রশাসনের অন্তত এক ডজন নীতিতে কাঁটাছেড়া চালাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যতটা কষ্ট করে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি দুর্ভোগ হয়তো অপেক্ষা করছে সামনের দিনগুলোতে। নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বাইডেনকে। ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করেননি। ক্ষমতা হস্তান্তরে তার প্রশাসন চরম অসহযোগিতা করেছে বাইডেন টিমকে। সবশেষ গত ৬ জানুয়ারি পার্লামেন্ট ভবনে সহিংসতা ঘটনা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য সামনের দিনগুলো মোটেও সহজ হবে না। ক্ষমতা হস্তান্তরে তার প্রশাসন চরম অসহযোগিতা করেছে বাইডেন টিমকে।

এসময় বাইডেন বলেন, আমি আপনাকে এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবো। একইসঙ্গে এটাও বলছি যে, যারা আমাকে সমর্থন করেননি তাদের হয়েও আমি লড়বো। আমার একটাই আকুতি, আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো। আমি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে আমার সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে একতার। নতুন করে শুরুর ডাক দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। ক্যাপিটল হিলে হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়েন বাইডেন বলেন, কিছু উগ্র জনতা কদিন আগেও সহিংসতা চালিয়ে আমেরিকার ভিতকে কাঁপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তা সম্ভব হয়নি। আমেরিকাকে নতুন করে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। 

যে ১৫টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেন বাইডেন: গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই পূর্বসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু উল্লেখযোগ্য নীতি পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছেন জো বাইডেন। করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১৫টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। অন্য নির্বাহী আদেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের ঠিক উল্টো।

যেসব আদেশে স্বাক্ষর করলেন বাইডেন-নির্বাহী আদেশের বর্ণনা করে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলোই সংশোধন করবেন না বরং তিনি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। করোনাভাইরাস মহামারি সামাল দিতে ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে। এতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে চার লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। সব ধরনের কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে। মহামারির বিষয়ে পদক্ষেপের সমন্বয় করতে একটি আলাদা দফতর গড়ে তোলা হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যেতে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে আবারো যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তার মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক জানান, মহাসচিব বলেছেন, সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাইডেন আরো জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে তার প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে আবার যোগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্বাহী আদেশ সই করেছেন তিনি। গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন ট্রাম্প। বিতর্কিত কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইনের অনুমোদন বাতিল করেছেন বাইডেন। এই পাইপলাইনের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী এবং আদিবাসী আমেরিকান গোষ্ঠীগুলো এক দশকের বেশি সময় ধরে লড়াই করে আসছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, গত শুক্রবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে প্রথম বৈশ্বিক নেতা হিসেবে ফোন করার পর এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন বাইডেন। বেসরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন পাইপলাইনটির মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানিটি কানাডার আলবার্টা থেকে নেব্রাস্কায় দৈনিক আট লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতো। ২০১৫ সালে এই পাইপলাইন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠায় আনা একটি বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন বারাক ওবামা। কিন্তু সেই নীতি বদলে পাইপলাইন নির্মানের অনুমতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

অভিবাসনের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা জরুরি প্রস্তাবনা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এই জরুরি প্রস্তাবনার অধীনে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থায়ন এবং বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এছাড়া অন্যান্য নির্বাহী আদেশগুলো বর্ণ এবং লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ক। বাইডেন প্রশাসনের আওতায় প্রথম অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্বার্থকে প্রচার করবেন নাকি সাদামাটা সত্য উপস্থাপন করবেন। এর উত্তরে তিনি বলেন, মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে তিনি সরকারে স্বচ্ছতা এবং সত্য ফিরিয়ে আনতে প্রেসিডেন্টের সাথে কাজ করবেন। করোনাভাইরাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে শপথ অনুষ্ঠান বেশ আলাদা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে মাত্র হাতে গোনা কয়েক জন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের কাছে শপথ নেয়ার পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।

শপথ নেয়ার পর হোয়াইট হাউসে যাওয়ার সময় টুইটার পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের সামনে যে সংকট রয়েছে তা সামাল দিতে অপচয় করার মতো কোনো সময় নেই। বাইডেনের আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন কমলা হ্যারিস। এই পদে দায়িত্ব নেয়া প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ান-আমেরিকান ব্যক্তিও তিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় হিসেবেও এই পদে তিনি প্রথম। আগামী দিনে দেশটির দায়িত্বের অনেকাংশ তার বলিষ্ঠ কাঁধে থাকবে।

করোনার ব্যাপারে দেশবাসীকে সান্ত¡না দিয়েছেন কমলা। এর আগের একটি টুইটে বলেছেন, এখনো মানতে পারি না যে ওরা আর নেই। কারো দাদা, দাদি, ওরা আমাদের জগত ছিলেন। কারো বাবা-মা, কারো সঙ্গী, ভাই-বোন বা বন্ধু। কোভিডে যাদের হারিয়েছি, আজ তাদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। আজ রাতে একসঙ্গে সেই কষ্ট ভাগ করে নেব। সেরে উঠবো আমরা। নতুন দিনের স্বপ্ন একে কমলা পুনরায় বলেছেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাল থেকে জো বাইডেনের সঙ্গে আমি কাজ করবো। বর্তমান সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করবো। দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার শপথ পূরণ করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ