রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১
Online Edition

যা করতে এসেছিলাম, তার সবই করেছি  ---বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প

২০ জানুয়ারি, বিবিসি, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, আল জাজিরা, ভোয়া : মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চার বছরের মেয়াদ শেষে গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিষেক হয় জো বাইডেনের। তার সঙ্গে শপথ নেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস। হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে বিদায়ী ভাষণে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা যা করতে এসেছিলাম, তার সবই করেছি। এর বাইরেও আরও অনেক কিছু করেছি।’

ইউটিউবে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেক ‘কঠিন লড়াইয়ের মোকাবেলা করেছেন, সবচেয়ে শক্ত লড়াই... কারণ আপনারা আমাকে এজন্যই নির্বাচিত করেছিলেন।'

গত নবেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হলেও এখনও সেই ফলাফল পুরোপুরি মেনে নেননি ট্রাম্প। ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায়ও ট্রাম্প উত্তরসূরির নাম নেননি তিনি। ‘সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে’ এরইমধ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দুইবার অভিশংসিত হয়েছেন। প্রথমবার অভিশংসন থেকে সিনেটে তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার যদি তিনি সেনেটে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তিনি আর কখনও কোনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

করোনা ভাইরাসে চার লাখ আমেরিকানের মৃত্যু আর দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হলেও সেসব ছাড়িয়ে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে ইউএস ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের ওই ভয়াবহ তা-ব। তবে বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।’ যখন তিনি প্রেসিডেন্টের দফতর ছাড়ছেন, তখন তার জনসমর্থনের হার ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বিদায়ী কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য জনসমর্থনের এ হার সর্বনিম্ন; যা একটি রেকর্ড।

নিজের একটি রাজনৈতিক দল গঠনে সহযোগী ও বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তবে তিনি এমন কোনো উদ্যোগ নিলে রিপাবলিকান দলের জন্য তা মাথাব্যথার কারণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অগ্রাধিকারমূলক ভোটের ক্ষেত্রে দলটির মধ্যে ফাটল তৈরি করতে পারে ট্রাম্পের নতুন দল।

রিপাবলিকান দল থেকে নিজের সমর্থকদের টানতে পারবে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্যাট্রিয়ট পার্টি। বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প এমন একটি উদ্যোগের আভাস দিয়েছেন।

এদিকে নিজ প্রশাসনের সাফল্যের বয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমেরিকান ইতিহাসে কর ছাড় এবং সংস্কারের বৃহত্তম প্যাকেজটি আমরা পাস করেছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করেছি। আমাদের ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তিগুলো সুসংগঠিত করেছি। ভয়াবহ ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারিত্ব এবং অসম্ভব প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে একতরফা দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি পুনর্বিবেচনা করেছি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, নাফটা চুক্তিকে ইউএসএমসিএ-এর সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে স্থাপন করেছি। এটি মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে খুব কার্যকর একটি চুক্তি। এছাড়াও এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা চীনের ওপর ঐতিহাসিক শুল্ক আরোপ করেছি। আমরা উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি, হাজার হাজার নতুন কারখানা খুলেছি। ‘মেড ইন ইউএসএ’ ট্যাগকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছি।

তিনি বলেন, কর্মজীবী পরিবারগুলির জন্য জীবনকে আরও উন্নত করতে আমরা শিশু পরিচর্যা এবং বিকাশের জন্য তহবিলে স্বাক্ষর করেছি। আমরা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগ দিয়ে এক কোটিরও বেশি আমেরিকান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সুরক্ষিত করেছি। যখন আমাদের দেশ ভয়াবহ মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছিল, তখন আমরা একটি নয়, রেকর্ড ভেঙ্গে অতি দ্রুত দুটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছি এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও আসছে। তারা বলেছিল, এটি করা সম্ভব নয়। তবে আমরা তা করেছি। এটি এখন চিকিৎসা ক্ষেত্রে অলৌকিক ঘটনা বলা হচ্ছে। সর্বোপরি, আমরা এ ধারণাটি পুনরুদ্ধার করেছি যে আমেরিকাতে, সরকার জনগণের প্রতি সাড়া দেয়।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে চীনের সামনে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ করেছে, যা এর আগে কখনও হয়নি। তিনি বলেন, সাহসী কূটনীতি এবং নীতিগত বাস্তবতার ফলস্বরূপ আমরা মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি অর্জন করেছি। এটি একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের উদয়। আমরা আমাদের সেনাদের ফিরিয়ে এনেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ