ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 February 2021, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭, ১২ রজব ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে বিপুল সেনা মোতায়েন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন কংগ্রেস ভবনের সামনে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আর মাত্র একদিন বাকি রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে প্রতিটা মুহূর্তে নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে।

সম্ভাব্য যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর ২৫ হাজার সেনা সদস্যকে মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে ২০ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক কর্মকর্তা রায়ান ম্যাক কারতি বলেছেন, সম্ভাব্য যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও হুমকি মোকাবেলার প্রস্তুতি রয়েছে এবং সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেস ভবনের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পুলিশের সহযোগিতায় ট্রাম্প সমর্থক উগ্র ব্যক্তিদের হামলার ঘটনার পর এই উদ্বেগ আরো ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে যারা ছিল নিউমেক্সিক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা এবং বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাবের বিষয়টি সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছে। এ কারণে গত ১৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে দেশটির বিচার বিভাগের অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল শারভিন জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন সাম্প্রতিক এসব ঘটনা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভেদ ফুটে উঠেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগেও তা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গত চার বছর ধরে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বিভাগের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি তিনি জনগণকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দল যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে সামরিক খাতে বাজেট কমিয়ে দেবে এবং এতে করে সেনা সদস্যদের পরিবারবর্গ চরম আর্থিক সংকটে পড়বে। এ কারণে মার্কিন সেনা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা, সেনারা এবং পুলিশ কর্মকর্তারা গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনগুলোতেও সাবেক সেনা সদস্যরা কোন একটি দলের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিতেন। এ ভাবে সর্বত্র বিভক্তি ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। এ কারণে গত দুই মাসে সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা নিজেদের নিরপেক্ষ মর্যাদা রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও যেহেতু সামাজিক অস্থিরতা বজায় রয়েছে সে কারণে জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে সেনা সদস্য মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ