বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

জমজম : মাটির পৃথিবীতে অলৌকিক ঘটনা

মিযানুর রহমান জামীল:

জমজম পানি দ্বারা রোগ নিরাময়ের ঘটনা

জমজমের পানি ব্যাপকভাবে রোগ মুক্তির উপায়। কিন্তু বিশেষ করে তা দ্বারা আরোগ্য লাভের ঘটনা রাসূলের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অনবরত ঘটে আসছে। বিভিন্ন গ্রন্থাদিতে যার আলোচনা পাওয়া যায়। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম জাওযী রহ. জমজমের পানিকে সকল পানির শ্রেষ্ঠ পানি এবং সকল পানির চেয়ে অধিক সম্মানের যোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি তার কিতাব ‘তিব্বে নববী’-এর মধ্যে জমজম সম্পর্কে নিজ যুগের বহু অভিজ্ঞতার ঘটনা তুলে ধরেছেন যে, জমজম দ্বারা বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একথাও উল্লেখ করেছেন যে, তার যুগের বহু লোক ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো ধরনের খাদ্যগ্রহণ ছাড়া শুধু জমজম পানি পান করে জীবন ধারণ করেছেন। বর্তমান যুগে মুসলিম চিকিৎসকগণও এর উপর চিকিৎসালব্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং সীমাহীন উপকার পেয়েছেন। জনৈক পাকিস্তানের ‘ডাক্তার গোলাম রাসূল কোরাইশী’ যিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রফেসর, তিনি অভিজ্ঞতার আলোকে এটা প্রমাণ করেছেন যে জমজমের পানিতে ইস্পাত, ম্যাগনেশিয়াম, ঘনত্ম, গদ্ধক এবং অক্সিজেনের পরিমাণ বিদ্যমান থাকার কারণে এই পানি রক্তস্বল্পতা দূর করে, মস্তিষ্ক প্রখর করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সংবাদ-পত্রে এ জাতীয় কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে জমজমের পানি দ্বারা কঠিন ও দুরারোগ্য কিছু রোগ থেকে মুক্তির সংবাদ পাওয়া গেছে। যেমন ক্যান্সার, কিডনীর পাথর, লিভার ব্যাধি, রক্তজনিত রোগসমূহ, চক্ষু ব্যাধি এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার তাকিদে তার বিশদ বিবরণ এখানে দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

 

জমজম পানি সম্পর্কে বিবিসির (প্রপাগা-া) বিতর্কিত রিপোর্ট

একদিকে জমজম পানির সীমাহীন উপকার সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের অকৃত্রিম সমর্থন ও গবেষণার বিশাল তথ্যভা-ার প্রকাশ পেয়েছে। যার কারণে প্রতিনিয়তই জমজম পানির গুরুত্ব ও উপকারসমূহ স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং তার নতুন-নতুন দিগন্তের পর্দা উন্মোচিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সভা-সেমিনার জমজম সম্পর্কে দিয়েছে নেতিবাচক ধারণা, পাশাপাশি তারা লিপ্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রোপাগা-ায়। 

এর ধারাবাহিকতায় বিবিসির এক বিতর্কিত রিপোর্ট উল্লেখযোগ্য। যা ২০১১ সালের মে মাসে প্রচার হয়েছে। উক্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে- জমজমের পানি যা বৃটেনে ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছিল। তার মধ্যে নাইট্রোজেন ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং আর্সেনিকের বিষাক্ত পদার্থ বেশি পরিমাণ পাওয়া গেছে, যার কারণে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

অথচ অনুসন্ধানের পর জানা যায়- বৃটেনে বাজারজাতকৃত জমজমের পানি নীরিক্ষণের পদ্ধতি ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাস্তবে সে নীরিক্ষণ কি জমজমের পানির উপর ছিল, না অন্য কোনো পানির উপর ছিল? তা বোধগম্য নয়। কেন না সৌদি হুকুমত জমজম পানিকে কোথাও ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার অনুমোদনই দেয়নি। সৌদি কর্মকর্তাদের এই বক্তব্যও রয়েছে যে, জমজমের পানি পরীক্ষা-নীরিক্ষা ফ্রান্সের রিসোলিসল কোম্পানীর পক্ষ্য থেকে করানো হয়েছে, যা ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থেকে সত্বায়িত। সেই নিরীক্ষণের রিপোর্ট দ্বারা জানা যায়- জমজমের পানিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ তথা আর্সেনিকের পরিমাণ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংস্থা (ডঐঙ) কর্তৃক অনুমোদিত আর্সেনিকের পরিমাণ অন্যান্য পানির আর্সেনিকের তুলনায় খুব কমই পাওয়া গেছে। সৌদির জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রধান জুহাইর নওয়াব বলেছেন- জমজম পানির পরীক্ষা-নিরীক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মেশিনারী ও টেকনোলজির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যাচাই করা হচ্ছে। অতএব বিবিসির বিতর্কিত রিপোর্ট শুধু মনগড়াই নয় বরং জমজম পানির গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কমানোর এক গভীর ষড়যন্ত্র।

  

আবে জমজম এক জীবন্ত মোজেজা

বাস্তবে আবে জমজম ইসলামের এক জীবন্ত ও সার্বজনীন এবং অলৌকিক পানি। আবে জমজমের সূচনা যেমনিভাবে এক অলৌকিকতার মাধ্যমে হয়েছিল, তেমনিভাবে তার অস্তিত্বও একটি চলমান মোজেজা হয়ে আছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আবে জমজম সম্পর্কে রাসূল সা. এর বাণীতে যত ফজিলত ও উপকারিতার আলোচনা হয়েছে, বিশেষভাবে তা এই যুগের মানুষদের জন্য এসেছে। যার একেকটি উপকারিতা আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। তাই জমজম পানির উপর যেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এবং যতই গবেষণা করা হোক তার নিত্য-নতুন রহস্য উন্মোচিত হতে থাকবে এবং তার নতুন নতুন দিক সামনে আসতে থাকবে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে জমজম পানি সম্পর্কে আরও গবেষণা সামনে আসবে এবং তার আরও রহস্য ও বেধ দুনিয়াবাসীর সামনে উন্মোচিত হবে। এই ব্যাপারে মুসলিম ইউনিভার্সিটিগুলোকে ফলো করা প্রয়োজন। যাই হোক আবে জমজম এক কূলহীন মোজেজা। যা কিছুটা উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার সারসংক্ষেপ নি¤েœ প্রদত্ত হলো। 

১. জমজম কূপের প্রকাশ অলৌকিকভাবে হয়েছে। যে ব্যাপারে বহু হাদীসের পাশাপাশি বাইবেল এবং ইহুদীদের অন্যান্য ধর্মীয়গ্রন্থ সাক্ষী। 

২. জমজম কূপ দীর্ঘদিন এবং অধিক ব্যবহৃত হওয়ার পরও আনুমানিক চার হাজার বছরের ইতিহাসে কখনও তার পানি হ্রাস পায়নি।

৩. উক্ত পানিতে বিদ্যমান লোনার পরিমাণ সব সময় একই থাকে।

৪. তার স্বাদ ও গন্ধে আজ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি।

৫. জমজম কূপের পানিই পৃথিবীর একমাত্র পানি, যা সব ধরনের উদ্ভিত বা প্রাণীর জন্ম ও বসবাস থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। 

৬. জমজম কূপের পানি তার আসল আকৃতিতেই হজ পালনকারীদের প্রদান করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ করা হয় না।  

৭. জমজম কূপের পানিতে রোগ মুক্তির পাশাপাশি প্রাচীন ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সমানভাবে একই ধরনের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

৮. রাসূল সা.-এর পবিত্র ঘোষণা- ‘জমজম কূপের পানি ভূ-পৃষ্ঠের সকল পানির মধ্যে শ্রেষ্ঠ পানি।’ এ বিষয়টির সত্যায়ন (গধংধৎঁ ঊসড়ঃড়) ডা. মাসারোর গবেষণায় একেবারে দীপ্তমান হয়ে উঠেছে। যিনি পৃথিবীর বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে শিকার করেছেন যে, জমজম পানি পৃথিবীর সকল পানি থেকে স্বচ্ছ এবং ব্যতিক্রম পানি। 

৯. ডা. কানুট ফাইফ-এর গবেষণা এ কথা বলে- জমজমের পানি শুধু সামষ্টিকভাবে পৃথিবীর দুর্লভ পানি নয়; বরং তার নিজ কার্যকরিতায়ও অন্যান্য পানির চেয়ে ব্যতিক্রম। কেননা জমজমের পানি দ্বারা দেহের বিভিন্ন শূন্যতা পূরণ ও শক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণে অভাবনীয় কাজ করে থাকে। 

১০. জমজম পানির রাসায়নিক বিভাজন দ্বারা এই তথ্য মিলেছে যে, তার মধ্যে পুষ্টিগুণ যথেষ্ট পরিমাণ রয়েছে। যেমনটি বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। তবে তা এতো বেশি পরিমাণও নয় যা দেহের জন্য ক্ষতিকর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ