মঙ্গলবার ০২ মার্চ ২০২১
Online Edition

শীত আরও বেড়েছে সাথে দুর্ভোগও

 

স্টাফ রিপোর্টার : তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমেছে। বেড়ে গেছে শৈত্যপ্রবাহের এলাকার বিস্তার। বেড়েছে শীতের তীব্রতাও। উত্তরাঞ্চলের দিকে তাপমাত্রা একটু বাড়লেও উত্তর-পশ্চিমের বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি বেশি অনুভূত হচ্ছে। সঙ্গে কুয়াশাও অনেক বেশি। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় তাপমাত্রা কমে গেছে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। সপ্তাহের শেষে এসে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

রাজশাহী,  পাবনা, নওগাঁ, বদলগাছি ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। গতকাল শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে ৭.৯। এ হিসেবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও বিভাগীয় শহরগুলো বিশেষ করে রাজধানীতে তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রির মতো। 

বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় তাপমাত্রা ১৩.৬,  ময়মনসিংহে ১১. ৫, চট্টগ্রামে ১৪ এবং সিলেটে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে রাজশাহী আর রংপুরে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে।  রাজশাহীতে ১০.৬, রংপুরে  ১১, খুলনায় ১২. ৬ এবং বরিশালে ১০. ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল  পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের অন্য অঞ্চলের হালকা থেকে মাঝারি  কুয়াশা থাকতে পারে। 

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি। লালমনিরহাটে গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। শীতের তীব্রতায় নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকদের জন্য এই সময়টা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। কাজ কমে যাওয়া পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরও হচ্ছেন না কেউ। সারাদিনে দেখা মিলছে না সূর্যের।

অন্যদিকে, শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এ পর্যন্ত যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শীতের তীব্রতায় খোলা বাজারের শীতবস্ত্রের দোকানে ভিড় করছেন মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা। শীত নিবারণে চর অঞ্চলের মানুষজন খড়-কুঠোয় আগুন ধরিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। চরাঞ্চলের নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়া মানুষ শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসে চরাঞ্চলের অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই অঞ্চলের অসহায় মানুষ।

এদিকে, শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকলে আলু ও গমসহ রবিশস্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ রঙ ধারণ করতে শুরু করেছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি আরো শীতবস্ত্র চেয়ে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ