রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

খুলনায় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম

খুলনা অফিস : খুলনায় মাদক ব্যবসায়িদের দৌরাত্ম উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এলাকাভিত্তিক গ্রুপ তৈরি করে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে তরুণ-যুবকরা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রের সদস্যরা। মঙ্গলবার রাতে নগরীর লবণচরা বান্দাবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় পুলিশের সোর্স শফিকুল ইসলাম (৩৫) নিহত ও মহানগর ডিবি’র সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক ইমরান আলী সরদারসহ আরও দুইজন আহত হলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এরপরই খুলনায় কারা মাদক ব্যবসায় জড়িত, কাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা চলে এ ধরনের প্রশ্ন তোলেন নাগরিক নেতারা। অপরদিকে মাদক কারবারীদের হামলায় এক সোর্স নিহত এবং এক এএসআই ও অন্য দুই সোর্স আহত হওয়ার ঘটনায় লবনচরা থানায় দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় মহানগর ডিবির একটি টিম ও তিন জন সোর্সসহ লবণচরা থানাধীন বান্দাবাজার এলাকায় একটি ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্রকে আটক করতে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদক কিনতে যায় পুলিশের সোর্স। এ সময় ডিবির এএসআই এমরান আলী এক মাদক বিক্রেতাকে জাপটে ধরেন। তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আকস্মিক ৮/১০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা ওই পুলিশ সদস্য ও তাদের সোর্স এর উপর হামলা চালায়। এ সময় এলোপাতাড়ি চাইনিজ কুড়াল, ছুরি ও রড দিয়ে তাদের আঘাত করে। অতর্কিত আক্রমণে অভিযান টিমের সাথে থাকা ২ জন সোর্স ও এক পুলিশ সদস্য গুরুতর জখম হলে তাদেরকে চিকিংসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে মো. শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সোর্সকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের এএসআই এমরান আলী (৩৩) ও সোর্স মো. মনির আহমেদ (২৮) আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এমরানের মাথা, হাত ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া সোর্স মনিরের হাতে, পিঠে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।তাদের উভয়ের শরীরে বেশ কয়েকটি সেলাই দেয়া লেগেছে। তাছাড়া রনি শেখ (৩৫) নামের আরেক সোর্সকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে। নিহত শফিকুল ইসলাম ফুলতলা উপজেলার উত্তর আলকা গ্রামের মৃত গফুর বিশ্বাস ছেলে। আহত সোর্স মনির হোসেন ফুলতলা সদরের মৃত ইসমাঈল হোসেন মকবুলের পুত্র ও রনি শেখ (৩৫) খানজাহান আলী থানার আটরা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত গণি শেখের পুত্র। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ। এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে লবণচরা থানায় হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের পৃথক মামলা করেছে।
খুমেকে চিকিৎসাধীন আহত ডিবির এএসআই এমরান আলী বলেন, ঘটনাস্থলে যেয়ে এক মাদক বিক্রেতাকে ধরার সাথেই আকস্মিক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৮/১০ জন আমাদের উপর হামলা চালায়। দুলাল নামের এক মাদক বিক্রেতাকে জাপটে ধরেছিলেন বলে তিনি জানান।
খুমেকে চিকিৎসাধীন সোর্স মনির হোসেন বলেন, আমাদের উপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়। কথা বলতে কষ্ট হওয়ায় তিনি আর কিছু বলেননি। তবে তার স্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভালো কাজ করতে যেয়ে আজ তার (স্বামীর) এ অবস্থা হয়েছে। আর এখানে একটা বেডও পেলাম না। বারান্দায়ও জায়গা হলো না। সিঁড়ির পাশে পথচারীদের ধুলায় এখানে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লবণচরা এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঐ এলাকায় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা চলে আসছে। তাছাড়া দুলাল (২৩) ও হেলাল (২২) নামে দু’জনের নাম পাওয়া যায়, যারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সমীর কুমার সরদার বলেন, ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযোগ রয়েছে, নগরীর শেখপাড়া খলিল চেম্বার মোড়, শেখপাড়া পুরাতন রেশন গলি, খালিশপুর, মহিরবাড়ি খালপাড়, জোড়াকল বাজার, বান্দাবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রুপ ভিত্তিক মাদক ব্যবসা করছে। মাঝে মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিবি) বিএম নুরুজ্জামান বলেন, মহানগর ডিবি’র টিম লবণচরা বান্দাবাজার এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্রকে আটক করতে গেলে তারা পাল্টা হামলা চালায়। এসময় মহানগর ডিবি’র সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শকসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিকুল নামের একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় লবণচরা থানায় হত্যা মামলা নং-০৯, (তাং ১৩/০১/২০২১) এবং সরকারি কাজে বাধা দানের কারণে মামলা নং-১০, (তারিখ-১৩/০১/২০২১) দায়ের হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ