রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

নির্বাচন কমিশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে -মির্জা ফখরুল

গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁও নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ইভিএম ভোট চুরির একটি সুন্দর ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল বদলে দেওয়া সম্ভব। আমরা আগেও অনেকবার ইভিএম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। ইভিএম অনেক দেশেই বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনগণকে অল্প সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ ছাড়া ইভিএম  আনা একটা ব্যবসা। নির্বাচন কমিশন এটা নিয়ে বিশাল ব্যবসা করেছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
 দেশে এখন উন্নয়নের নামে হচ্ছে মেগা লুটপাট। গোপনে কিছু নেই  যা হওয়ার সব প্রকাশ্যেই হচ্ছে। এমন কি লজ্জার মাথা খেয়ে ভ্যাকসিন নিয়েও ব্যবসা শুরু করেছে সরকার। গতকাল শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে  সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এখন তারা বাড়তি খরচ দিয়ে প্রাইভেট সেক্টরে ৩০ লাখ ভ্যাকসিন আনবেন। সাধারণ খেটে খাওয়া গরিব মানুষের স্বার্থের কথা না ভেবে বড়লোকদের জন্য এই ৩০ লাখ ভ্যাকসিন আনছে সরকার। তাদের একমাত্র চিন্তা নিজেরা কিভাবে ধনী হবে, বিদেশে টাকা পাচার করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জোর করে ভোট চুরি করা গণতন্ত্র না। যেখানে ভোটকেন্দ্রে তারা অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে থাকে সেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দেওয়া কঠিন। আর আমরা ভোট নিয়ে যুদ্ধ করতে পারি কিন্তু অস্ত্র নিয়ে তো যুদ্ধ করতে পারি না। আওয়ামী লীগ গনতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে এককভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। দেশের মালিক জনগণ। তাই জনগণকে অধিকার দিতে হবে। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করে জনগণকে আবারো অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেয়া হোক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালিম, জেলা যুবদল সভাপতি চৌধুরী মহেবুল্লাহ্ আবু নূর, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন, ছাত্রদল সভাপতি মোঃ কায়েসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উত্তরবঙ্গের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালাম আমরা- ফখরুল ইসলাম
সৈয়দপুর থেকে আমাদের সংবাদদাতা মোঃ জাকির হোসেন জানায় শুধু সৈয়দপুর বা নীলফামারী নয় বরং উত্তরবঙ্গের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালাম আমরা। তিনি শুধু বিএনপির নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন সকল দল ও মতের উধ্বে উঠে আপামর জনতার নেতা। যার প্রমাণ আজকের এই জনসমুদ্র। যেখানে সমবেত হয়েছেন অত্রাঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেত্রীস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। তাকে হারিয়ে আমরা আজ খুবই ব্যথাতুর। তার স্থান পূরণ হওয়ার নয়। এসময় তার খুব প্রয়োজন ছিল আমাদের। কিন্তু আবেগ ভারাক্রান্ত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে আজ বিদায় দিতে হচ্ছে। চির বিদায়ের সময়ই তার জানাজা সৃস্টি করলো আরেক ইতিহাস। পরিসমাপ্তি ঘটলো সৈয়দপুরের ইতিহাসের অনবদ্য এক কিংবদন্তির। উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গতকাল শুক্রবার বাদ জুমআ সৈয়দপুর শহরের পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়ায় নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক এমপি, সৈয়দপুর পৌরসভার ৪ বারের নির্বাচিত মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির গ্রাম সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারের জানাজা পূর্বে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, আমজাদ ছিল অত্যন্ত সাহসী ও সত্যবাদী। যে কারণে তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। সবসময় সে সৈয়দপুরবাসীর উন্নয়ন নিয়ে ভাবতো। সারাটি জীবন সৈয়দপুরের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে গেলেন। তিনি আপনাদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। একারণে আপনারাও তাকে প্রিয় নেতা হিসেবে ভালোবাসেন। তাইতো বার বার তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভজে ভাই আজ আপনাদেরকে অভিভাবকহীন করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আপনারা তাকে মাফ করে দিবেন এবং দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারী ভোর সাড়ে ৬ টায় ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার ইনতেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী, একমাত্র ছেলে, তিন ভাই ও চার বোন সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে সৈয়দপুর যেন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ