রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

মাঘের কনকনে শীতে জবুথবু জনজীবন

# কমেছে তাপমাত্রা, আরও দুই দিন থাকবে এমন শীত
স্টাফ রিপোর্টার : বাঘ কাঁপানো ঠাণ্ডা নিয়ে এসেছে মাঘ। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে তরতর করে নামছে থার্মোমিটারের পারদ। শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছেন উত্তরাঞ্চলের দরিদ্ররা। কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহটি মাঝারি আকার ধারণ করেছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা নিম্নগামী হয়ে পড়ছে। সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া কনকনে ঠাণ্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় বিকেল হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি এবং তা অব্যাহত থাকছে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত।
এদিকে, গরম কাপড়ের অভাবে চরম কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে দরিদ্র পরিবারের শিশু এবং বৃদ্ধরা। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে সময়মত কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে, তাদের আয় রোজগারও কমে গেছে। রাত নামলে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। ওদিকে, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ইনডোরের পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে অন্তত শত শত রোগী, তাদের বেশিরভাগই শীতজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন।
গতকাল শুক্রবার ভোরে নওগাঁর বদলগাছিতে এবারের শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। তাতে বলা হয় বদলগাছিতে থার্মোমিটারের পারদ নেমে যায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা সারা দেশে সবচেয়ে কম। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  চলতি শীত মৌসুমে এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
নওগাঁর জেলার ১১ উপজেলায় শুক্রবার সারাদিন সূর্য্যের দেখা মেলেনি। জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।  হঠাৎ করে হিমেল হাওয়ায় পুরো জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মাঝারী ধরনের শৈত্য প্রবাহ। এতে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। রাতের বেলায় অনেকেই খড় কুটায় আগুন দিয়ে শীত নিবারন করছে। ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।  শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্নআয়ের মানুষেরা শীতে জবুথবু।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামে গত বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলার রাজারহাটের কৃষি ও সিনপটিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহটি মাঝারি আকার ধারণ করেছে। আর আকাশে মেঘ না থাকায় সকালের পর সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ ছিল না। এ অবস্থা আরও তিন-চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছন, রংপুর বিভাগসহ টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও নওগাঁ অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। ১৭-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তারপর পরিস্থিতি একটু উন্নতির আশা করা যায়। বড় এলাকা জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে চলে এলে মৃদু; ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে ধরা হয়।
আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদনদী অবববাহিকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে দুটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা বলেছিল, যার একটি তীব্র রূপ নেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। গত ১৮-২৩ ডিসেম্বর এবং ২৬-৩১ ডিসেম্বর রংপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।
বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে গতকাল ঢাকায় ১৬, ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৪, চট্টগ্রামে  ১৭, সিলেটে ১২ দশমিক ৮, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৫, রংপুরে  ৯ দশমিক ৫, খুলনায় ১৫ দশমিক ৫, বরিশালে  ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি নওগাঁয় ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ