শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

গত বছরে প্রবাসে চার শতাধিক সিলেটি শ্রমিকের মৃত্যু

সিলেট ব্যুরো : ২০২০ সালে ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈধ শ্রমিকদের মধ্যে শুধুমাত্র সিলেট বিভাগেরই চার শতাধিক শ্রমিক মারা গেছেন। কেউবা মারা যান দুর্ঘটনায়, কারো মৃত্যু হয় রোগে, আর কারো হয় স্বাভাবিক মৃত্যু। তবে করোনাকালীয় সময়ে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তাদের দাফন সম্পন্ন হয় প্রবাসে। এসব তথ্য পাওয়া যায় জনশক্তি সিলেট ব্যুরো অফিস সূত্রে।
মৃতদের মধ্যে বৈধ শ্রমিকের সংখ্যাটা সরকারি হিসাবে আসে, তাদের পরিবার সরকার থেকে একটা অনুদান পেয়ে থাকে। তবে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যাটা সব সময় থেকে যায় অগোচরে। গেল বছরে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে সিলেটের অনেক তরুণ মারা গেছেন। তাদের প্রকৃত সংখ্যা বাংলাদেশ জনশক্তি ব্যুরো অফিসের কাছে নেই। এছাড়া তাদের মৃতদেহ দেশে আনতে মৃতের পরিবারকে সকল খরচ বহন করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অনেক পরিবারের অভিযোগ।
জনশক্তি ব্যুরো অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসে মৃত বৈধ শ্রমিকদের মধ্য থেকে ২০২০ সালে সিলেট বিভাগের মারা গেছেন ৪১২ জন। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের লাশ দেশে আসলেও করোনাকালে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় লাশ দাফন হয়েছে সে সব দেশেই। তবে প্রবাসে দাফন হলেও বৈধ শ্রমিকের পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান পেয়েছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের মধ্য সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী মারা যান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরে প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ৯০৯ জন বৈধ শ্রমিকের পরিবারকে অনুদান বাবদ ৩ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। সিলেট বিভাগেও ৪১২ জন প্রবাসীর পরিবার এই টাকা পেয়েছেন। করোনা মহামারী চলাকালে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মৃত শ্রমিকদের লাশ দেশে না আসলেও তাদের পরিবারকে এই অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
 জনশক্তি ব্যুরো অফিস সিলেটের জরিপ কর্মকর্তা কাজল সরকার জানান, বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে ২০২০ এর জানুয়ারি মাসে ৩৭, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৪, মার্চ মাসে ১৩, জুন মাসে ১৬, জুলাই মাসে ১৯, আগষ্ট মাসে ৪২, সেপ্টেম্বর মাসে ২৩, অক্টোবর মাসে ৪১, নবেম্বর মাসে ২৮, ডিসেম্বর মাসে ৪৫ জন মৃত প্রবাসীদের পরিবার অনুদান লাভ করেছেন। এর মধ্যে লকডাউন ও ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এপ্রিল-মে মাসে কোন আবেদন জমা হয়নি। সিলেটের ৩টি জেলায় মোট ২৯৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে যেসব শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে তাদের পরিবার দাফন বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান বাবদ ৩ লক্ষ টাকা করে পেয়েছে। করোনাকালে আবেদনকারীদের কারো লাশ দেশে না আসায় তাদের পরিবার শুধু ৩ লক্ষ টাকা করে অনুদান পেয়েছে। কাজল সরকার জানান, আগে মৃত প্রবাসীদের পরিবারকে দেয়া অনুদানের চেক সিলেট অফিস থেকে দেয়া হলেও এখন সবকিছু অনলাইনে হয় এবং টাকাটা আবেদনকারীর একাউন্টে জমা হয়ে থাকে। তাই সময় মত তথ্য পেতে আমাদের বিলম্ব হয়।
জনশক্তি ব্যুরো অফিস মৌলভীবাজারের জরিপ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান আকন্দ জানান, গেল বছরে মৌলভীবাজার জেলায় প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ১১৪ জন শ্রমিকের পরিবার আর্থিক অনুদানের তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি ছাড়া প্রায় সবকটি পরিবারই আর্থিক অনুদান পেয়েছে।
তিনি জানান, মৌলভীবাজার জেলায় জানুয়ারী মাসে ৫, ফেব্রুয়ারী মাসে ১১, মার্চ মাসে ৭, জুন মাসে ২, জুলাই মাসে ২, আগষ্ট মাসে ১৬, সেপ্টেম্বর মাসে ২০, অক্টোবর মাসে ১৯, নযেম্বর মাসেম ১৭ ও ডিসেম্বর মাসে ১৫ জন মৃত প্রবাসীর পরিবার আবেদন করেন। কয়েকটা আবেদন ব্যতিত প্রায় সব পরিবারই আর্থিক অনুদান পেয়ে গেছেন।
জনশক্তি ব্যুরো অফিস সূত্রে জানা যায়, ইউরোপের দুটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য ছাড়া বিশে^র সকল দেশে অবস্থানরত বৈধ শ্রমিকদের ডাটাবেজ জনশক্তি ব্যুরো অফিসের কাছে থাকে। গেল বছরে প্রবাসে কাজ করা শ্রমিকদের মধ্যে সৌদী আরব, আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, জর্দান, লেবানন, ইরাক, লিবিয়া সহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব শ্রমিক বিএমইটি (বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) এর তালিকাভুক্ত রয়েছে তাদের পরিবারও বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের অনুদান পেয়ে থাকেন।
এ ব্যাপারে জনশক্তি ব্যুরো সিলেটের সহকারী পরিচালক মীর কামরুল হোসেন বলেন, মৌলভীবাজার জেলা ব্যতিত বিভাগের ৩টি জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা কাজ করছি। কোন বৈধ প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তাদের লাশ দেশে আসলে দাফন বাবদ ৩০ হাজার টাকার চেক আমাদের অফিস থেকে দেয়া হয়। এছাড়া আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লক্ষ টাকার প্রসেসিং আমাদের অফিস করে থাকলেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মৃতের অভিভাবকের একাউন্টে টাকা দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ