রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১
Online Edition

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে

২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী ও এইচ এম কামারুজ্জামান খানের মাগফিরাত কামনা করে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

# জনপ্রিয়তা নেই বলে সরকার জনগণকে ভয় পায় --- নজরুল ইসলাম খান  # দুর্নীতির কারণে করোনার সময়েও দেশে হাজার হাজার কোটিপতির জন্ম হয়েছে-- অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

স্টাফ রিপোর্টার : ২০ দলের শীর্ষ দুই নেতার স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, করোনা মহামারির সময়ও বাংলাদেশে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। হাজার হাজার কোটিপতির জন্ম হয়েছে। তারা বলেন, সরকার মানুষের ভোটাধিকার ও বাক স্বাধীনতা হরণ করে পুলিশী রাষ্ট্র বানিয়েছে। এসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান বক্তারা। সেইসাথে ফ্যাসীবাদী সরকার হঠাতে নতুন আন্দোলনের আহ্বান জানান তারা।  

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে  ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ও এএইচএম কামরুজ্জামান খান এর স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২০ দলের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম বীরপ্রতীক ,জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের,লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমূখ। 

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা নেই বলে তারা ভোটার, রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ভয় পায়। তারা জানে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা মোটেও জিততে পারবে না। এটা আমাদের কথা না। তাদের নেতারাই বলছেন। পালানোর জায়গা পাবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাই বাস্তবতা। এজন্যই তারা জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয় না।

তিনি বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এ বছর আমরা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। অথচ মুক্তিযুদ্ধের যে সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্র আজ নেই। কারণ গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। নির্বাচন যদি সঠিক না হয়, তাহলে গণতন্ত্র থাকে না।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, আমরা সবাই জানি একবার হলো প্রার্থীহীন নির্বাচন। যেখানে তিনশ’র মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রার্থী ছিল না। আর একবার হলো আগের রাতে নির্বাচন। কেন এটা হলো? কেন একটা রাজনৈতিক দল জেতার জন্য কোনো বিশেষ বাহিনীর ওপর নির্ভর করে? কিংবা অন্যদেরকে প্রার্থী হতে দেয় না? কিংবা ভোটার যাতে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে না পারে তার চেষ্টা করে? কারণ, তারা জানে জনগণ ভোট দিলে তারা মোটেই জিততে পারবে না। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, করোনা মহামারির সময়ও বাংলাদেশে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। এ সময়ে দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটিপতির জন্ম হয়েছে দেশে। দুর্নীতিবাজ ফ্যাসীবাদী সরকারকে হটাতে নতুন করে আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি। 

বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার এদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে, গণতন্ত্র হরণ করে, বাক স্বাধীনতা হরণ করে পুলিশী রাষ্ট্র বানিয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। ডিজিটাল অ্যাক্ট করে মানুষকে হয়রাণি করছে। 

তিনি বলেন,স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, জীবন দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বিদায়ের পরে এ দেশে গণতন্ত্রের কথা যারা বলছেন,আমি মনে করি তারা ওই গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তার উত্তরসূরী যারা আছেন তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, হত্যা করেছেন। 

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের যারা ক্ষমতায় আছেন এই সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার, জনগণের ভোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসেনি। এই সরকারের অধীনে ভোটাধিকার নিরাপদ নয়। জানমালের নিরাপত্তা নাই। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সুপ্রীম কোর্টে তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিষয়ে শুনানিকালে অধিকাংশ এমিকাস কিউরি তত্ত্বাবধায়ক সরকার রেখে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই মত দিয়েছিলেন তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এসময় তিনি আবারো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে ২০ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে স্বাধীনতা, ইসলামী মূল্যবোধ, জাতীয়তাবাদ কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। একটি বিদেশি আধিপত্যবাদের হাতে দেশকে তুলে দেয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দেশের কল-কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান সবকিছু বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।

করোনার সময় সরকার দুর্নীতি করছে মন্তব্য করে ২০ দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই করোনা মহামারির সময়ও বাংলাদেশে সীমাহীন দুর্নীতি করছে সরকার। ভারতের চেয়ে ৪৭ভাগ বেশি মূল্য দিয়ে ভ্যাকসিন আনছে। এই সময়ে দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটিপতির জন্ম হয়েছে এই দেশে। 

খালেদা জিয়া এবং মাওলানা সাঈদীকে হয়রাণির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিথ্যাবাদী-নিপীড়ক সরকার উৎখাত  করতে নতুন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি। 

কিছুদিন আগে মারা যাওয়া নূর হোসেন কাসেমী এবং কামরুজ্জামান খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, তারা দেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। আমাদের উচিত তাদের জন্য দোয়া করা। 

স্মরণসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি  এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ কামাল হোসাইন, অধ্যাপক নূর নবী মানিক, শেখ শরীফ উদ্দিন আহমেদ, হাতিরঝিল পশ্চিম থানা আমীর আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ