মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

মিয়ানমার খালি শোনে জবাব দেয় না -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের সচিব পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এই তথ্য জানান। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার খালি শোনে, জবাব দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারকে প্রায় সাড়ে আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা পাঠিয়েছি, যাদের সবার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা রয়েছে। মিয়ানমার এদের মধ্যে ৪২ হাজারকে ভেরিফাই করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
গতকাল বুধবার বিকেল পৌনে চারটায় লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সঙ্গীত-শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা আয়োজিত পৌষ উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
গত ৯ অথবা ১০ জানুয়ারি তারিখে সচিব পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তারাই এই তারিখ বলেছিল এবং আমরা রাজি হই। কিন্তু পরে এটি তারা পিছিয়ে দেয়। পেছানোর একটি কারণ হলো চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ওয়াং ই) এখন মিয়ানমারে অবস্থান করছেন। সে কারণেই তারা বলছে ওনার সঙ্গে আলাপের পরে এটি ১৯ তারিখ হবে। আশা করি ফলপ্রসু কিছু হবে। এটি ঢাকায় হবে। চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধি থাকবে এবং সচিব পর্যায়ে এই বৈঠক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। কিন্তু প্রতিবেশীরা সহযোগিতা করছে না।
শেষ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ জানুয়ারি, এটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বৈঠকে আমার মনে হয় কিছু প্রগ্রেস হয়েছিল। তারা তো কোনও উত্তর দেয় না। শুধু শুনে এবং বলে পরে জানাবে। তখন তারা বলেছিল মিয়ানমারের ভাষায় বুকলেট করবে এবং কিছু আগ্রহ দেখিয়েছিল। এরপরে কোভিড ও মিয়ানমারের নির্বাচনের অজুহাতে আর বৈঠক হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা সর্বমোট সাড়ে আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা (মিয়ানমারকে) সরবরাহ করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে মিয়ানমার কম সংখ্যক যাচাই বাচাই করেছে। তারা অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজ করছে এবং মাত্র ৪২ হাজার তারা যাচাই বাছাই করেছে। এখানে আন্তরিকতার বড় অভাব। মন্ত্রী বলেন, যাদের যাচাই বাছাই করেছে তাদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গাকে তারা রিজেক্ট করেছে। একটি অসুবিধা হচ্ছে, তারা বিছিন্নভাবে যাচাই বাছাই করছে। যেমন বাবা এবং মেয়েকে যাচাই বাছাই করেছে, কিন্তু স্ত্রীকে করেনি। এই অবস্থায় তারা যাবে কেন। সাড়ে আট লাখ রোহিঙ্গা যারা সম্প্রতি এসেছে তাদের বায়োমেট্রিক হয়েছে এবং এর আগে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সেগুলোও তৈরি করা শুরু করেছি। কারণ এগুলো না থাকলে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র তারা সংগ্রহ করতে পারে।
ড. মোমেন বলেন, আগামী ১৯ জানুয়ারি ঢাকাতে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও চীনের সচিব পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হবে। আমরা আশাবাদী বৈঠকে সফল হব। পৌষ উৎসবের উদ্বোধন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি অগ্রসর রাষ্ট্র হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করতে চাই। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতিকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। উৎসব উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন সুরের ধারার অধ্যক্ষ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও অধ্যাপক শফি আহমেদ। ড. মোমেন বলেন, এ উৎসবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র-কুঠির শিল্পের স্টলও বসেছে। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। করোনার সময় সংস্কৃতি কর্মী-সংগঠন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ আয়োজনে বিনোদনের পাশাপাশি আর্থিক সুবিধাও রয়েছে, এটি দারুণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, বাঙালির সকল উৎসব ঐক্যের প্রতীক। আবহমান বাংলার এসব উৎসব আমাদের ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করে। এ ধরনের আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য পৌষ উৎসবকে নতুন করে যান্ত্রিক নাগরিক জীবনে নতুনরূপে চর্চার প্রচেষ্টায় ‘সুরের ধারা’ বিগত ছয় বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে। প্রতি বছর দুই দিনের আয়োজন হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার উৎসবের আয়োজন একদিনের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ