শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন

গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিক মিজানুর রহমানের নামাযে জানাযা জাতীয় প্রেস ক্লাবের চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। কবরস্থানে তার স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও প্রথম আলোর সহকর্মীসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি মা, স্ত্রী, ২ পুত্র, ১ কন্যা, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাযা শেষে মিজানুর রহমান খানের কফিন নেয়া হয় কারওয়ান বাজারে তার কর্মস্থল প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সহকর্মীরা এই বরেণ্য সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা জানানোর সময় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, মিজানুর রহমান খান প্রথম আলোর সঙ্গে ১৫ বছর ধরে ছিলেন। প্রথম আলোর সেরা সাংবাদিকদের একজন ছিলেন মিজানুর রহমান খান। দেশের বর্তমান সময়ে অন্যতম সেরা সাংবাদিক। তিনি সারা সময় সাংবাদিকতা নিয়ে থাকতেন। সব বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল। তিনি একজন সেরা মানুষও। পরিশ্রমী ও সৎ সাংবাদিক। তার অনুপস্থিতি প্রথম আলোর জন্য বেদনাদায়ক, দুঃখজনক। তার অভাব পূরণ করা সম্ভব নয়।
মতিউর রহমান শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা মিজানুর রহমান খানের আদর্শ রক্ষা করি, তার উদ্দেশ্য মনে রাখি। আমরা যেন আরও ভালো সাংবাদিকতা করতে পারি। মিজানুর রহমান খানের পরিবার আমাদের পরিবারভুক্ত। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যতেও আমরা তাদের পাশে থাকব। এ সময় মিজানুর রহমান খানের বড় ছেলে এবং দুই ভাই উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, মিজানুর রহমান খান অসাধারণ সাংবাদিক ছিলেন। তার চেয়েও বেশি অসাধারণ মানুষ ছিলেন। আইন, মানবাধিকার, সংবিধান বিষয়ে প্রজ্ঞার কারণে এই পেশার মানুষেরাও তার কাছে পরামর্শ নিয়েছেন। প্রজ্ঞা ও সাহসের সম্মিলন ছিল তার মাঝে। লালসা নেই, লোভ নেই, সাংবাদিকতার আদর্শ বলতে যেটা বোঝায়, সেটা ছিলেন তিনি। তার চলে যাওয়াটা সাংবাদিকতার জন্য বিরাট ক্ষতি।
দাফনের পূর্বে চারদফা নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানাযায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন। জানাযা শেষে মিজানুর রহমান খানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাযায় ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী, সহ-সভাপতি ওসমান গনি বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান, যুগ্ম সম্পাদক আরাফাত দাড়িয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, দপ্তর সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুর রহমান রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজান চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, কল্যাণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য রহমান আজিজ, মো: মাহবুবুর রহমান, রফিক রাফি ও জাহাঙ্গীর কিরণ শরীক হন।
এছাড়া ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার, সাইফুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি আজমল হক হেলাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শেখ মামুনুর রশীদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন, নূরুল ইসলাম হাসিবসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মিজানুর রহমান খানের ভাই সিদ্দিকুর রহমান খান ও পুত্র সাদমান মিজানুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
জানাযার আগে ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান মরহুমের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী বলেন, মিজানুর রহমান খান আইন, আদালত, সংবিধানের মতো কঠিন বিষয়গুলো সহজ ও সাবলিলভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সৎ ও সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন মেধাবী ও বরেণ্য সাংবাদিককে হারালো। ডিআরইউর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান জানাজার আগে তার প্রয়াত বড় ভাই মিজানুর রহমান খানের রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া চান।
দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান, উপ-সম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ,  ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি মিজান মালিক, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু প্রমুখ জানাযায় শরীক হন। জানাযা শেষে মিজানুর রহমান খানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ডিআরইউ ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
 ডিআরইউতে জানাযা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মিজানুর রহমান খানের কফিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এই জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংবাদিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। জানাযা শেষে মিজানুর রহমান খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জানাযার আগে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান আইন, সংবিধান, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখে গেছেন। এই লেখনীর মধ্য দিয়ে তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ