মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বছরজুড়ে চলচ্চিত্রে হতাশা ভাল যায়নি সঙ্গিতাঙ্গনেও

ইবরাহীম খলিল : বিশ্ব চলচ্চিত্রের জন্য ২০২০ সাল ছিল হতাশাজনক। সেই ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলা চলচ্চিত্রেও। সাত মাস বন্ধ থাকে সিনেমা হল। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির তথ্য মতে, বাকি পাঁচ মাসে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ১৭টি সিনেমা।
‘জয়নগরের জমিদার’ সিনেমা দিয়ে শুরু হওয়া বছর শেষ হয় ‘তুই আমার রাজা আমি তোর রাণী’র মাধ্যমে। মজার ব্যাপার হলো, শুরু ও শেষ দু’টি সিনেমাই মানহীন। উল্লেখিত সিনেমা ছাড়াও ‘সাহসী হিরো আলম’ নামে আরো একটি মানহীন ছবি মুক্তি পায়। সিনেমাগুলো দেখতে মানুষ গাঁটের টাকা খরচ করে প্রেক্ষাগৃহে যায়নি। বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আশার কথা হলো, সাত মাস বন্ধ থাকার পর যখন প্রযোজকরা নতুন সিনেমা মুক্তি দেয়ার সাহস করেননি। তখন হিরো আলম সাহস করে ‘সাহসী হিরো আলম’ ছবি মুক্তি দেন। যদিও ছবির মান ও তার অভিনয় দু’টিই নেটিজেনদের হাসির খোরাক জুগিয়েছে।
‘নবাব এলএলবি’ যেহেতু সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি, তাই এই সিনেমা থাকছে হিসেব নিকেশের বাইরে। তবে অ্যাপে ছবিটি দুই ভাগে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবেও আলো ছড়াতে পারেনি পরিকল্পনা অনুযায়ী।
বাণিজ্যিক ছবির মধ্যে বছরের শেষে ‘বিশ্বসুন্দরী’ আলোচিত হয়েছে। তবে ব্যবসার নিরিখে বলতে গেলে গড়পরতা। সিয়াম-পরীমনি জুটির প্রথম ছবিটি সিনেপ্লেক্সে দর্শক টানলেও বাইরে সেভাবে টানতে পারেনি। যদিও দেশের বিভিন্ন সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ সিনেমাটিকে ‘মন্দের ভালো’ বলেছেন।
বিষয়ভিত্তিক ছবির জন্য এই বছরটি তথৈবচ। বছরের প্রথমভাগে মুক্তি পাওয়া ‘গণ্ডি’। দেশি ও ভারতীয় তারকাসমৃদ্ধ ছবিটি প্রশংসিত হয়। যদিও তা সিনেপ্লেক্স ছাড়া সিঙ্গেল স্ক্রিনে চলেনি। একই পথে হেঁটেছে শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। কেবলমাত্র সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আলোচনার টেবিলে ছিল। তবে তাতে ফেরেনি লগ্নিকৃত টাকা। আলোচিত হওয়াকে প্রাপ্তি হিসেবে ধরছেন ছবির পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।
করোনার পূর্ব মুহূর্তে মুক্তি পাওয়া যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হলুদবনি’ সুবিধা করতে পারেনি। সিনেমা হলে ছবিটি প্রদর্শনের সময়ই ঘোষণা আসে সিনেমা হল বন্ধের। তাতেই কাটা পড়ে ছবিটি।
ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় কোনো ছবিকে সেরার তালিকায় রাখা সম্ভব নয়। বলতে গেলে বছরের সব ছবি দর্শক শূন্যতায় ভুগেছে। তবে এরমধ্যেও কিছু ছবি আলোচনায় উঠে এসেছে। সে হিসেবে বছরের সেরা তিন সিনেমা হলো‘গণ্ডি’, ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’, ‘বিশ্বসুন্দরী’।
আরো মানসম্মত বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল চলতি বছরে। ভাবা হচ্ছিল, সেসব সিনেমা কাঁধে ভর করে এগিয়ে যাবে বাংলা চলচ্চিত্র। কিন্তু তা আর হয়নি। করোনায় পিছিয়েছে সেসব ছবির মুক্তি। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আসছে বছর আবার ঘুরে দাঁড়াবে দেশের চলচ্চিত্র।  
সঙ্গিতাঙ্গনে হতাশা :
২০২০ সালটিও একদমই ভালো যায়নি সঙ্গিতাঙ্গনের জন্য। সংগীতাঙ্গন অনেকটাই থমকে ছিল এ বছর। করোনার কারণে মার্চ থেকে এলোমেলো হয়ে যায় সংগীতাঙ্গন। টানা কয়েক মাস একেবারেই বন্ধ ছিল সব ধরনের কার্যক্রম। স্টেজ শো ছিল বন্ধ। নতুন গান প্রকাশ হয়েছে কম।
ইউটিউব ও অ্যাপস থেকে গানের আয় কমেছে। সবমিলিয়ে প্রযোজকরাও নতুন গান প্রকাশে তেমন সাহস পাননি। চলচ্চিত্রের গানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ছিল। করোনাকালে বেশকিছু সংগীত সংগঠনেরও আত্মপ্রকাশ ঘটে। বছরজুড়ে কম গান প্রকাশ পেলেও তরুণদেরই জয়জয়কার ছিল। এ বছর বেশ ক’জন কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ চলে গেছেন। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অনেক সংগীত তারকাও।
করোনার কারণে মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে স্টেজ শো। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন কম বেশি সব শিল্পী-মিউজিশিয়ান। স্টেজনির্ভর শিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা পড়েছেন সব থেকে বিপাকে। অনেকে ঢাকা শহরে টিকতে না পেরে গ্রামে চলে গেছেন। আবার অনেকে ঢাকায় টিকে থাকার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে যে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল খুবই অপ্রতুল। এখনো অনিশ্চয়তার মাঝেই দিন কাটছে শিল্পী-মিউজিশিয়ানদের।
বছরজুড়ে নতুন গান দিয়ে আলোচনায় ছিলেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা আসিফ আকবর। দেশীয় সুরকার ছাড়াও এ বছর ওপার বাংলার কবীর সুমনের সুরে বেশকিছু গান প্রকাশ পায় তার। অন্যদিকে বছরজুড়েই চলচ্চিত্র এবং অডিওতে নিয়মিত গান করে আলোচনায় ছিলেন চলতি প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী ইমরান মাহমুদুল। বছরজুড়ে গান প্রকাশ করেছেন শিল্পী কাজী শুভ ও এফ এ সুমন। ‘বাবু খাইছো’ গান দিয়ে আলোচিত হয়েছেন ডিজে মারুফ। এ ছাড়াও নতুন গান দিয়ে আলোচনায় ছিলেন হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান, মিলা, মিনার, ন্যান্সি, কনা, পূজা, ঝিলিক, ঐশী, সালমা, তানজীব সারোয়ার, মিলন, গলি বয় রানা ও তাবিব মাহমুদ, প্রত্যয় খান, সামস, ইমন খান, লায়লা, ডিজে মারুফ, বাউল সুকুমার, শেখ সাদিসহ অনেকে।
কিংবদন্তি শিল্পীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সারেগামাপা’ খ্যাত নোবেল। যদিও পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এটা তার জীবনের অন্যতম ভুল ছিল বলেও স্বীকার করে নেন। এ ধরনের ভুল আর হবে না বলেও কথা দেন তিনি। বছর শেষে ‘অভিনয়’ শীর্ষক গান প্রকাশ করে বেশ প্রশংসিতও হন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ