মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১
Online Edition

খুলনায় গ্যাসের বাজার অস্থির শিগগিরই স্বাভাবিক হচ্ছে না

খুলনা অফিস : বিশ্ব বাজারে তেল এবং লিকুইডের দাম নিম্নগতি। এসব কাঁচামালের দাম বাড়লে আমরা জানতে পারতাম। শুধু শুধু করোনার মধ্যে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমজীবী ও চাকরিজীবী (সরকারি বাদে) মানুষ সবারই আয় কমেছে। খুলনা মহানগরীতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৪/৫ লাখ। ১২/১৪টি বেসরকারি কোম্পানী এসব গ্যাস সরবরাহ করছে। সরকারি গ্যাস না আসার কারণে বেসরকারি কোম্পানীগুলো জনগণকে জিম্মি করে ইচ্ছামত দাম হাকাচ্ছে।
খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মো. তোবারেক হোসেন তপু এভাবেই কথাগুলো বললেন। তিনি বলেন, এ জন্য মনিটরিং জোরদার করা জরুরি। সরকারের অনেক সংস্থা আছে বিষয়টি তদারকি করার জন্য। কিন্তু এসব বিষয়ে সরকারের সুনাম নস্ট হলেও সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন মাথাব্যথা নেই। এসব বিষয়ে মনিটরিং করে নিত্য প্রয়োজনীয় এ পন্যের দাম অহেতুক বৃদ্ধির কারণে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এ নেতা।
লিকুইড পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। একলাফে দেড়শ’ টাকা হারে বেড়েছে সিলিন্ডারের দাম। গেল বছরে কয়েকদফা দাম বেড়ে বর্তমানে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান তলানিতে থাকায় বেসরকারি কোম্পানীগুলো ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, খুলনার খুচরা বাজারে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে আরও এক দফা। সিলিন্ডার প্রতি এ গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। কয়েকদিনের ব্যবধানে নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খুলনার সাধারণ মানুষের সাংসারিক ব্যয়ের পরিমাণ আরেক দফা বাড়ল। কোন কারণ ছাড়াই মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি ভোক্তারা সহজে মানতে নারাজ।
বিএম গ্যাস কোম্পানীর ডিলার নাজমুল জানান, কোম্পানী গ্যাসের দাম বাড়িছে বলে তিনিও একই পথে হাটছেন। তাকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। অস্থির এ বাজার শিগগিরই স্বাভাবিক হবে কি না এমন কোন তথ্য তার কাছে নেই বলে তিনি জানান। সেনা এবং ওমেরা গ্যাস কোম্পানীর ডিলার পারভেজ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। এ জন্য সেই প্রভাব খুলনার বাজারে পড়ছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, খুলনায় মাসে গ্যাস সিলন্ডারের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ। যার পুরোটাই সরবরাহ করে থাকে বেসরকারি কোম্পানীগুলো। পদ্ম মেঘনা যমুনা ডিপোর মাধ্যমে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় সর্বোচ্চ ৫ হাজারের মত। এরমধ্যে ২ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি করে মেঘনা ডিপো, ১২শ’ সিলিন্ডার বিক্রি করে পদ্ম ডিপো ও বাকিটা যমুনা ডিপো সরবরাহ করে।
গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে পদ্মা ডিপোর এরিয়া ম্যানেজার আল মামুন বলেন, খুলনায় মাত্র ১২শ’ গ্যাসের সিলিন্ডার তারা সরবরাহ করতে পারেন। যা চাহিদার তুলনায় কম বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দৌলতপুর ঋষিপাড়া মামা-ভাগ্নে ভ্যারাইটিস ষ্টোরের মালিক মো. শাহ্ আলম মৃধা বলেন, গত ১ লা জানুয়ারি হতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার দরুন ক্রেতাদের মধ্যে বেশ অস্বস্তি বিরাজ করছে। আমি একজন রিটেইলর। আমি খালিশপুর, শিরোমনির পরিবেশকগনের নিকট হতে গ্যাস নিয়ে থাকি। প্রতিটি কোম্পানির গ্যাসের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি গ্যাস খুচরা ১০২০ হতে ১০৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে গ্যাস বৃদ্ধি কারণ হিসাবে পরিবেশকদের নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের ঘাটতি থাকায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্যাস ক্রেতা দৌলতপুর পানচাষি বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা অনুপ কুমার ঘোষ বলেন, প্রতি ২০-২৫ দিন পর পর আমার একটা করে গ্যাস লাগে। গত মাসে যে গ্যাস ৮৮০ টাকায় কিনেছি তা বর্তমানে ১০৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্যাস নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছি।
মেঘনা ডিপোর ম্যানেজার আব্দুল্লাহ বলেন, এখন তারা সরবরাহ করেন মাত্র ২ হাজার সিলিন্ডার। প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭৫ টাকা। ১৮৪ জন ডিলারের মাধ্যমে এ গ্যাস সরবরাহ করা হয় বলে তিনি জানান।
সোনাডাঙ্গা এলাকার ভোক্তা মেহেদী মাসুদ খান বলেন, কোন ঘোষণা ছাড়াই হুটহাট করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে করে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। আগে পত্র-পত্রিকায় ও টিভিতে শুনতাম গ্যাসের দাম বাড়ার আগাম খবর। আর এখন দাম বাড়ার পর জানতে পারি গ্যাসের দাম বেড়েছে। গত দু’ মাস আগে যে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ৭৮০ টাকা তা গত ১০ দিন আগে কেনা হয়েছে ৮৮০ টাকা। অর্থাৎ সিলিন্ডার প্রতি একশত টাকা দাম বেড়েছে।
খুলনা মহানগরীর বড় মির্জাপুর রোডের গৃহবধু ফিনিক্স বলেন, প্রায় ২শ’ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে। যে গ্যাসের দাম ছিল ৯০০ টাকা সেই গ্যাসের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। কোম্পানিগুলো ইচ্ছা মতো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। সেখানে প্রশাসন নীরব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ