রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

খুলনা মহানগর ও জেলা আ’লীগের নতুন কমিটির কয়েকজন নেতাকে ঘিরে চাপা ক্ষোভ

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির কয়েকজন নেতাকে ঘিরে ভিতর-বাইরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনীতিতে প্রবেশ করেই সম্পাদক মন্ডলীতে পদায়ন, জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন ও দলের দু’র্দিনে পরীক্ষিত ত্যাগীদের যথাযথ মুল্যায়ন না করার কারণে কথা উঠছে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান পরবর্তী দলের প্রথম সভায় এমনি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কেসিসি’র প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপুর বক্তৃতায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পদ বঞ্চিতদের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটছে।
গত ৩ জানুয়ারি কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে সভাপতি ও এমডিএ বাবুল রানাকে সাধারণ সম্পাদক রেখে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। কমিটিতে ১১ জনকে সহ-সভাপতি, তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে।
একই দিনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদকে সভাপতি ও এডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারীকে সাধারণ সম্পাদক রেখে জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে ১১জন সহ-সভাপতি, তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু বলেছেন, ‘মহানগর আওয়ামী লীগের অত্যন্ত চমৎকার কমিটি হয়েছে, শক্ত কমিটি হয়েছে। দুঃসময়ের নেতারা আছেন, সাবেক ছাত্র ও যুবনেতারা আছেন। এ ব্যাপারে আমার কোন আপত্তি নেই। আপত্তি হচ্ছে যে, আমি ছাত্রলীগ করেছি ১৭ বছর। আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা খাইছি। অপারেশন ক্লিনহার্টে মায়ের সামনে আমার মেঝভাইকে (অরাজনৈতিক ব্যক্তি) বেধড়ক মারপিট করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছিল। আমার ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন রাজনীতিকে ফাঁকি দেইনি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকেছি। ১৫ ফেব্রুয়ারির সাজানো-পাতানো নির্বাচনে জেলার তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অজয় সরকার ডুমুরিয়ায় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। সেই অজয় সরকারও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, আমি আলী আকবর টিপুও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তাহলে মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অজয় সরকার টিপু হয়ে গেল না? আমি এসব কথাগুলো (বৃহস্পতিবার) দলীয় ফোরামে বক্তৃতায় বলেছি। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানার সামনে মনের কষ্টে কথাগুলো বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কমিটিতে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম, এভাবে কেন আমাকে শোকজ করলেন কেন? এভাবেই আমাকে ডিমোশন দিলেন কেন?’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি, নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছেন কমিটিতে। স্বজন প্রীতিরও অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ভিপি জামাল উদ্দিন বাচ্চু জিএস শহিদুল হক মিন্টুর থেকে অনেক সিনিয়র। সিনিয়রকে জুনিয়রের নিচে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শেখ মো. ফারুক আহমেদ ছাত্রলীগের সভাপতি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, গত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন; এবারের কমিটিতে তার পদ স্থির থাকলেও পদোন্নতি দিয়ে জুনিয়র আশরাফুলকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। গত কমিটিতে জাহাঙ্গীর হোসেন খান শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, তাকে সেখানেই স্থির রাখলেও জুনিয়রদের তার সামনে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে পরস্পরের মধ্যে এসব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী নেতারা জানিয়েছেন।
খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘হঠাৎ পদ পাওয়াদের ভীড়ে অনেক ত্যাগী মুখ হারিয়ে গেছে। কমিটিতে কয়েকজনের নাম দেখে বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি।’
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা বলেছেন, ‘অনেক বড় দল, বহু যোগ্য নেতৃত্ব, নির্ধারিত সংখ্যক পদের কমিটিতে সকলকে খুশী রাখা সম্ভব নয়। তবুও নগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে কোথাও কোন কথা উঠেনি। ইউনিট কমিটি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটিগুলোতে দুর্দিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।’
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী বলেন, অজয় ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি বিএনপি’র সময় নির্যাতিত হয়েছিলেন। এখন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন, যার কোনো ভিত্তি নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ