রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

টানা ছয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : শেয়ারবাজারে টানা দরবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গেল সপ্তাহজুড়েও দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। এতে এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক চার শতাংশের উপরে বেড়েছে। বাজার মূলধন বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় পাঁচ শতাংশ। আর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা ছয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এদিকে টানা দর বৃদ্ধির তালিকায় রেকর্ড করে নিয়েছে রবি’র শেয়ার। এর আগে টানা ১০ কার্যদিবস দর বৃদ্ধিতে অন্য কোনো কোম্পানি এ মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি।
জানা গেছে, ডিএসইতে প্রথম টানা তিন সপ্তাহে বাজার মূলধন বাড়ে ২৬ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। তার পরের সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। টানা চার সপ্তাহের এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পরিমাণ সম্মিলিতভাবে বেড়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর পরের সপ্তাহে অর্থাৎ পঞ্চম সপ্তাহে বাড়ে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। সে ধারা ৬ষ্ঠ সপ্তাহ বা গত সপ্তাহেও অব্যাহত থাকে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৭০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যা এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল চার লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ২২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে টানা ছয় সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ল ৭৯ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বৃদ্ধির অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মেলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে। চতুর্থ সপ্তাহে এককভাবে বাড়ে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। তৃতীয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। তার আগের দুই সপ্তাহে বাজার মূলধন বাড়ে ১১ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা এবং ৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা চার দশমিক ০৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৮৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৫২ শতাংশ। তার আগের চার সপ্তাহেও সূচক বেড়েছিল। এতে টানা ছয় সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৭৫০ পয়েন্ট বেড়েছে। প্রধান মূল্য সূচকরে পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি বেড়েছে ৮৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা চার দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮৭ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বা চার দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের চার সপ্তাহেও সূচকটি বেড়েছিল। এতে ছয় সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচক বেড়েছে ৩৫৮ পয়েন্ট। ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও টানা ছয় সপ্তাহ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯২ শতাংশ। এতে পাঁচ সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১৪৭ পয়েন্ট।
সবকটি মূল্য সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৫টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৪টির। আর ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ১৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৮২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে নয় হাজার ৯৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ৮০৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে চার হাজার ১৪৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ গ্রুপ বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৭৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ১৮ দশমিক শ্ণ্যূ ২ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রুপের দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ অবদান ছিল। গেল সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইএফআইসি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, রবি, লাফার্জহোলসিম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, পাওয়ার গ্রীড, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং অ্যাক্টিভ ফাইন।
এদিকে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মহাদাপট দেখিয়েছে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি রবি আজিয়াটা। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকায় সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবসে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে এই কোম্পানিটির শেয়ার। এর আগের সপ্তাহেও শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মহাদাপট দেখায় রবি। এর ফলে টানা দাম বাড়ার ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এই মোবাইল অপারেটর কোম্পানিটি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর টানা ১০ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে এই রেকর্ড সৃষ্টি করেছে রবি।
নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং আইপিও খরচের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) শেয়ার ছেড়ে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা সংগ্রহ করা রবির শেয়ার গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। এ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০ কার্যদিবস। এর প্রতিটি কার্যদিবসেই কোম্পানিটি দিনের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। এর আগে আর কোনো কোম্পানি লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ কার্যদিবস টানা দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করতে পারেনি।
লাফিয়ে লাফিয়ে কোম্পানিটির শেয়ারের এমন দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তাও প্রকাশ করেছে ডিএসই। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। ডিএসই জানিয়েছে, রবির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে ৪ জানুয়ারি কোম্পানিটিকে নোটিশ করা হয়। জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে- শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
গত সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবসে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করায় এক সপ্তাহে রবি আজিয়াটার শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ২৯ টাকা ৮০ পয়সা।
এদিকে দফায় দফায় শেয়ারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১১ কোটি ৮৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮২ কোটি ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ