বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

করোনা মহামারিতে বহুমাত্রিক সংকটে প্রবাসী শ্রমিকরা

মুহাম্মদ নূরে আলম : বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ অভিবাসী শ্রমিক ফোরাম নামে একটি সংগঠন। একইসঙ্গে দূতাবাসগুলো প্রবাসী শ্রমিকদের কোনো খোঁজ-খবর রাখে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিতে আসা দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশী একই দুশ্চিন্তায় আছেন।  কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আবার কবে তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন বা আদৗ পারবেন কী না জানেন না। সৌদি আরবের ইংরেজি দৈনিক সৌদী গেজেটে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মহামারির কারণে এ বছরই দেশটিতে ১২ লাখ বিদেশী কর্মী চাকরি হারাবেন। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকায় পাঠানো এক চিঠিতে বলেছে, আগামী তিন বছরে দশ লাখ লোক বাংলাদেশী চাকরি হারাতে পারেন। অবশ্য কোভিড-১৯ শুধু প্রবাসীদের জীবিকাতেই নয়, আঘাত করেছে জীবনেও। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন  দূতাবাসের দুদিন আগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনার কারণে বিদেশে ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৩৮০ জন প্রবাসী বাংলাদেশী মারা গেছেন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশেই ৭৫৩ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। শুধুমাত্র সৌদি আরবেই মারা গেছেন ৫২১ জন বাংলাদেশী।  এছাড়া প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই যে প্রবাসীরা নানা সংকটে, তার ছাপ পড়েছে প্রবাসী আয়েও। বাংলাদেশের প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান।  বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ২২ শতাংশ কমে যাবে। এদিকে ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, করোনার কারণে বিদেশের মাটিতে মোট ১৯টি দেশে অন্তত ১ হাজার ৩৭৭ জন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন। বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ হাজার। ৫ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ পরিসংখ্যান দিয়েছে ব্র্যাক।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর শীর্ষ ১০ দেশের একটি। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পযর্ন্ত এক কোটিরও বেশি বাংলদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গেছেন। তারা সবমিলিয়ে দুই লাখ ১৭ হাজার মিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন।  তবে করোনার কারণে পুরো অভিবাসন খাতটা সংকটে পড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ৭৫ শতাংশই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে। এককভাবে শুধু সৌদি আরবেই আছেন ২০ লাখ বাংলাদেশী। আরব আমিরাতে আছেন অন্তত ১৫ লাখ।  এছাড়া কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইনের গড়ে তিন থেকে চার লাখ বাংলাদেশী আছেন। একে তো করোনা তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম একেবারেই কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। ওদিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরাও একইভাবে নানা সংকটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারিতে ১৬৩ কোটি ডলার ও ফেব্রুয়ারিতে ১৪৫ কোটি ডলার আসে। তবে করোনার কারণে ব্যাপকভাবে লকডাউন শুরু হওয়ায় মার্চে সেটি কমে হয় ১২৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের মার্চের চেয়ে ১২ শতাংশ কম।  আর এপ্রিলে প্রবাসীরা ১০৯ কোটি ডলার পাঠান যা যে কোন সময়ের চেয়ে কম। অবশ্য ঈদের কারণে মে মাসে প্রবাসী আয় কিছুটা বাড়ে। মে মাসে প্রবাসী আয় আসে ১৫০ কোটি ডলার। তবে জুন মাসেই ১৮৩ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে যা কোন মাসে সর্বোচ্চ। হঠাৎ করে এই প্রবাসী আয় বাড়ার কারণ, অনেকেই তাদের সব সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত সাড়ে চারলাখ লোক বিদেশ থেকে এসেছেন। এর মধ্যে অন্তত দেড় থেকে দুই লাখ প্রবাসী কর্মী। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৪১ হাজার ৬৬১, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩৭ হাজার ৩২১, মালয়েশিয়া থেকে ১৮ হাজার ৯৪২, কাতার থেকে ১৩ হাজার ৮৬৫, সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার ৩৪২, ওমান থেকে ১১ হাজার ৭৮৪, কুয়েত থেকে ৬ হাজার ১২০, বাহরাইন থেকে ৩ হাজার ৫৫৪ জন, ইতালি থেকে ২ হাজার ৭০৩, মালদ্বীপ থেকে ১৫০৯ জন দেশে এসেছিলেন। এদের বড় অংশই প্রবাসী কর্মী যারা আবার কাজে ফিরতে পারবেন কী না নিয়ে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।  কারণ অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ, অনেকের মালিক কোন আশ্বাস দিচ্ছেন না। অন্যদিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এপ্রিল থেকে ৬ জুলাই সময়ে বিশেষ বিমানে ১৫ টি দেশ থেকে ২৩ হাজার ২৬৯ জন বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন।  এর মধ্যে কাজ না থাকায় ছয় হাজার ৬৩৮ জন কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মালদ্বীপে বিদেশী ভ্রমণকারীরা না আসায় সেখানেও কাজ হারাচ্ছে অনেক বাংলাদেশী।  সেখান থেকে ফিরেছেন ৪১৬৯ জন। এছাড়া কাজ নেই বলে কাতার থেকে দুই হাজার ৪৬ জন, ওমান থেকে ১৬১৩ জন, সিঙ্গাপুর থেকে ৭০৪ জন ও জর্ডান থেকে ৫৩৬ জন ফিরেছেন।  এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের পর বা কাজের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় কুয়েত থেকে পাঁচ হাজার, সৌদি আরব থেকে ১৩২৩ জন, বাহরাইন থেকে ৭৪৬ জন দেশে ফিরেছেন। গত তিন মাসে ফেরত আসাদের মধ্যে অন্তত ৭৮৩ জন নারীও রয়েছেন।  এর মধ্যে জর্ডানে পোষাক কারখানা থেকে কাজ হারিয়ে ফিরেছেন ৪৮১ জন।  এছাড়া সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ২১৮ জন, ওমান থেকে ৪৮ জন ও কুয়েত থেকে ৩৩ জন ফিরেছেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার ২১৮ জন নতুন কর্মী গেছেন বিভিন্ন দেশে। এরপর করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ সেবা বন্ধ হয়ে গেলে কাজ নিয়ে বিদেশে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। আর গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গেছেন ৮ হাজার ১৩ জন। সব মিলিয়ে এ বছরের প্রথম ১১ মাসে (৩০ নভেম্বর পর্যন্ত) বিদেশে নতুন কর্মী গেছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৭১ জন। বছর শেষে সংখ্যাটি ২ লাখ ২০ হাজারের মতো হতে পারে বলে মনে করছেন বিএমইটির কর্মকর্তারা।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গত ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস উপলক্ষে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে সুমাইয়া ইসলাম বলেন, যে শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের অর্থনীতি গতিশীল রয়েছে সেই শ্রমিকদের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন করলেও সেই আইনের কোনো কার্যকারিতা নেই। আইন বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
ঐ মানববন্ধনে শ্রমিকনেতারা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। করোনা মহামারির মধ্যে প্রবাসী শ্রমিকরা নানারকম হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রবাসে কর্মরত কয়েকশত কর্মী করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের লাশও পরিবার দেখতে পায়নি। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এসময় বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো প্রবাসী শ্রমিকদের খোঁজ-খবর রাখে না বলে অভিযোগ করে বক্তরা বলেন, তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তা করতে হবে।
জর্ডান ফেরত শ্রমিক হোসনেয়ারা বেগম বলেন, একটু সুখের জন্য বিদেশে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও গিয়ে দেখি কষ্ট। আবার একটু অসুস্থ হলে কাজ করতে দেয়নি, কাজ কম করলে নির্যাতন করতো। এখন দেশে চলে আসছি। সরকার যদি আমাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতো তাহলে ভালো হতো।
সাত লাখ টাকা খরচ করে বছর তিনেক আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন নরসিংদির যুবক রাসেল মিয়া। একই সময়ে টাঙ্গাইলের রাশেদুল হাসান গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে।  দেশ ভিন্ন হলেও দুজনেই পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর আশা করেছিলেন। আশার আলোও দেখছিলেন তারা।  কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে মার্চে দুজনকেই দেশে চলে আসতে হয়। এখন তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কয়েকদিন আগে যখন তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, বারাবার বলছিলেন কীভাবে পরিবার নিয়ে সামনের দিনগুলোতে চলবেন সেই দুশ্চিন্তায় আছেন।
শুধু রাসেল বা রাশেদুল নন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিতে আসা দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশীএকই দুশ্চিন্তায় আছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আবার কবে তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন বা আদৗ পারবেন কী না জানেন না। নিয়োগকর্তারাও সুষ্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। টাঙ্গাইলের জাহাঙ্গীর আলমের চিন্তাটা আবার ভিন্ন।  সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য তিনি দুই লাখ টাকা খরচ করেছেন।  এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাসপোর্ট, ভিসা সব হাতে পান।  মার্চে তার বিদেশে যাওয়ার কথা।  কিন্তু করোনার কারণে আটকে গেছে তার ফ্লাইট।  শুধু জাহাঙ্গীর নয়, অন্তত এক লাখ বাংলাদেশী একই সমস্যায় পড়েছেন।
দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা যেখানে ফের বিদেশে যাওয়ার চিন্তায় মগ্ন, তখন বিদেশে থাকা প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী আছেন বহুমাত্রিক সংকটে।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরিফ হোসেন যেমনটা বলছিলেন, কাজ নেই।  কীভাবে নিজের খরচ চালাবেন, কীভাবেই বা পরিবারকেই টাকা পাঠাবেন সেই চিন্তায় আছেন।  হঠাৎ আসা করোনা ভাইরাস আরিফের মতো কোটি বাংলাদেশি প্রবাসীর জীবনকে অনিশ্চতায় ফেলেছে।  কারো বেতন নেই, কারো কমেছে।  কেউ বা কাজ হারাচ্ছেন।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-র মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলছিলেন, ৭৮ হাজার ৪২৫ জন কর্মীর বিদেশ যাওয়ার সবকিছু মোটামুটি চূড়ান্ত ছিল।  করোনার কারণে তারা যেতে পারেননি।  এখন তারা সবসময় তাড়া দিচ্ছে।  অন্যদিকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা লগ্নি আটকা পড়েছে এজেন্সিগুলোর।  পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই খাতের সবার বিপদ।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে করোনার কারণে চাকরিচ্যুত হয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদেশফেরত কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে বিনিয়োগ ঋণ প্রদানের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। তবে এই ঋণ নিয়ে প্রবাসীরা আসলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কী না তা নিয়েও শঙ্কা আছে।  এক্ষেত্রে তাদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে। ছোটছোট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়া যায়।  ফেরত আসা দক্ষ লোকজনকে দেশের ভেতরেই চাকরি দেওয়া যায়। তবে একটা বিষয় সবাইকে মনে রাখতে হবে, করোনা একট স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা। একটি মহামারি। কাজেই বাংলাদেশকে করোনামুক্ত করতে হবে পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে।  নয়তো বাংলাদেশিদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে।
মন্ত্রী গত ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, প্রবাসফেরত কর্মীর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেনি। তিনি বলেন, আশংকা করা হয়েছিল অর্থনৈতিক মন্দা এবং করোনার প্রভাবে প্রধান কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর শ্রমবাজার বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে অনেক বিদেশী কর্মী বেকার হয়ে পড়বে। কিন্তু আশার কথা হল, এখন পর্যন্ত ফেরত আসা কর্মীর সংখ্যা আশংকাজনক হয়ে উঠেনি। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরত এসেছে। তাদের অনেকে কাজের মেয়াদ শেষে বা কাজ না থাকায় দেশে ফেরত এসেছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়েই অভিবাসন খাতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। এখন সরকারের লক্ষ্য হলো প্রচলিত শ্রমবাজার ধরে রাখা ও নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করায় জোর দেওয়া। আর সংখ্যার চেয়ে গুণগত অভিবাসনে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে কম কর্মী পাঠিয়েও বেশি আয় সম্ভব দেশের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ