মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১
Online Edition

আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ আর না দেয়ার সিন্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার : আবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য গত কয়েক বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। তাদের মধ্যে অনেকেরই আবেদনের ভিত্তিতে ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়ায় এর বিপরীতে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকাও জমা দিয়েছেন এবং আশায় আছেন দেরিতে হলেও একসময় গ্যাসের সংযোগ পাবেন। কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে দু:সংবাদ। আবাসিক খাতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেবে না। জ্বালানি বিভাগ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইতোমধ্যে যাদের ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হয়েছে, এর বিপরীতে টাকা জমা দিয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়া হবে। আবাসিক খাতে ডিমান্ড নোট আইনগতভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হবে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
জানা গেছে, ডিমান্ড নোটের টাকা ইতিপূর্বে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন যেসব গ্রাহক, তাদের সেই টাকা ফেরত দিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে এর মধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আলী ইকবাল নূরুল্লাহ বলেন, আবাসিক গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে পেন্ডিং থাকা ডিমান্ড নোট বাতিল এবং গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের যেসব এলাকায় গ্যাস নেটওয়ার্ক আছে, সেখানেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতে তৎপর রয়েছে সিন্ডিকেটও। এসব সিন্ডিকেটে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক তো বটেই, প্রশাসনের, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানে আশানুরূপ ফল মিলছে না। একদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে অবৈধ গ্যাস সংযোগও চলছে। এ অভিযোগ অনেক দিন ধরেই আছে।
সবচেয়ে বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিরুদ্ধে। কত অবৈধ সংযোগ রয়েছে তার কোনো সঠিক হিসাবই নেই এ কোম্পানির কাছে। এমনকি অবৈধ গ্যাস সংযোগ, সার্ভার হ্যাক করে অবৈধভাবে চুলা বৃদ্ধির অভিযোগে কোম্পাানির একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ নিয়ে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়বে লাখ লাখ বাড়ির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীরা। যেসব বাড়িতে বা বহুতল ভবনে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ভাড়াটে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আবাসন খাতের একাধিক ব্যবসায়ীও বলছেন, পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ না থাকার কারণে তাদের ফ্ল্যাট বিক্রিতে খুবই ভাটা পড়ে গেছে। এমনকি ব্যবসাও গুটিয়ে নেওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের আশা ছিল, এ বিষয়ে সরকার হয়তো একটা সময় নমনীয় হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় তারা খুবই হতাশ।
এদিকে দেশজুড়ে চলা অবৈধ গ্যাস সংযোগের যে মচ্ছব চলছে, সে প্রসঙ্গে সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান বলেন, যতদিন পর্যন্ত সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হবে, ততদিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ রয়েছে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার। খুব শিগগিরই অবৈধ গ্যাস সংযোগের এলাকা চিহ্নিত করে মূল পয়েন্ট থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান  বলেন, আর কোনো আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। বৈধভাবে সংযোগ চলাকালীন যারা সংযোগ পেতে ডিমান্ড নোটের বিপরীতে টাকা জমা দিয়েছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো তা ফেরত দেবে। এখন থেকে আবাসিক গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে সব ধরনের ডিমান্ড নোট বাতিল বলে গণ্য হবে।
জানা গেছে ২০১০ সাল থেকে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ২০১৩ সালের জুন মাসের আগে আবাসিক খাতে নতুন সংযোগ প্রদান ও অবৈধ সংযোগ বৈধ করার ঘোষণা দেয়।
এতে বলা হয়, ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত যারা অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার করে আসছিলেন, শুধু তাদের সংযোগ বৈধ করা হবে। ওই সময় যারা গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তারাও অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া শুরু করেন। সারাদেশে অসংখ্য গ্রাহক লাখ লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেন বৈধতা পাওয়ার আশায়। পরে সরকার আবারও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। তবে আবাসিক গ্যাস সংযোগ আইনগতভাবে বন্ধ থাকলেও একশ্রেণির অসাধু চক্র প্রতিনিয়তই অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ