রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

দুর্বল  নেটওয়ার্কে অনলাইন ক্লাস নিয়ে বিড়ম্বনায় খুলনাসহ উপকূলের শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস : মোবাইলফোনের দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে অনলাইন ক্লাস নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটাসহ উপকূলীয় এলাকা জুড়ে এ চিত্র রয়েছে।

করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন নেই, যাদের আছে-দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে তারাও ক্লাস করতে পারছেন না। আর প্রত্যন্ত গ্রামের অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন না থাকার কারণে অনলাইন ক্লাসে অংশই নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় উপকূলীয় শিক্ষার্থীরা ‘গতিশীল মোবাইল টাওয়ার চাই’ নামে দাকোপে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। এই গ্রুপের সদস্য শিক্ষার্থী সৌরভ বিশ্বাসের বাড়ি দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামে। তিনি চীনের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তিনি চীন থেকে গ্রামে চলে আসেন।

সৌরভ বলেন, প্রতিদিন ক্লাস চলছে অনলাইনে। তবে দেশে এসে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছি। ক্লাস করার সময় ল্যাপটপে ঠিকমতো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বিকল্প কোনও সুবিধা না থাকায় মোবাইল ডাটা ব্যবহারই একমাত্র পন্থা। তবে ক্লাস শুরু হলে ল্যাপটপ ও মোবাইল ডিভাইস নিয়ে রাস্তার পাশে বা উঁচু কোনও জায়গা খুঁজে বসে পড়াশোনা করতে হয়। সুতারখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাজেরা খাতুন জানান, মোবাইলফোন হাতে ধরে বসে থাকতে হয়। সঠিকভাবে কোথাও মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ফলে ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে অনেক সময় বাদ পড়ে যাচ্ছি। দুর্ভোগে পড়তে হয় সব সময়।

চুনকুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার রায় বলেন, করোনাকালে শিক্ষার্থীরা যাতে না ঝরে পড়ে, সেক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই কার্যকরি। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বেশিরভাগ সময় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। অনলাইন শিক্ষা গ্রহণের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে গতিশীল মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ‘গতিশীল মোবাইল টাওয়ার চাই’ গ্রুপটির ফোকাল পারসন অসীম ঘরামী বলেন, করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হলো মোবাইল নেটওয়ার্ক। এ কারণে প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার আগে প্রযুক্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিভা রানী পাঠক বলেন, অনলাইনের শিক্ষা সুবিধা সবাই পাচ্ছে না। প্রত্যন্ত এলাকায় অনলাইন শিক্ষা পেতে গেলে একটি স্মার্টফোন লাগে। কিন্তু অনেকেরই স্মার্টফোন কেনার সামর্থ নেই। আবার যাদের স্মার্টফোন আছে তারাও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ