বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

নীলসাগরের হাতছানি

আসাদুজ্জামান আসাদ : নীলসাগর দীঘি। জমির পরিমাণ ৫৩.৯০, জলাশয় ৩২.৭০ একর। নীলফামারী জেলা শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমে ১৪.৫ কিলোমিটার দূরে গোড় গ্রাম ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গায় অবস্থিত। দীঘি খননের সঠিক সন-তারিখের ইতিহাস অজানা থাকলেও অষ্টম শতাব্দীর কোন এক তারিখে এই দীঘি খনন কার্যক্রম শুরু হয়। হিন্দু শাস্ত্র পর্যলোচনা সার্পেক্ষে অষ্টম শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দীতে করুক্ষেত্র যুদ্ধ অনুস্টিত হয়। যুদ্ধে ‘বিরাট রাজা পান্ডব’দের এবং রাজা ভগদত্তকৌরব যুদ্ধে অবর্তীন হন। যুদ্ধের পুর্বে কৌরব ও পান্ডবদের মাঝে পাশা খেলা অনুষ্ঠিত হয়।পান্ডবরা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শর্তানুযায়ী ১২ বছরের বনবাস যেতে বাধ্য হোন। পরাজিত পান্ডবরা ‘বিরাট রাজা’র রাজ্য ভুক্ত গো-গৃহে আজকের গোড় গ্রাম নামক স্থান নির্বাসনের জন্য মনোনীত করেন। এটা নদী বা কোন সাগর নয়। একটি বিশাল আকারের দীঘি। সে সময় রাজাা পান্ডবদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নীলসাগর দীঘি খনন করেন। এই দীঘির পনির ূগভীরতা প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ফুট। পাড় ঘেসে পানির গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুট। নীলসাগর দীঘি কিভাবে নীলসাগর হলো সে ইতিহাস জানার প্রয়োজন রয়েছে। দীঘি ঘননের পর থেকে বেশ কয়েকটি নামে, নাম করনের ইতিহাস রয়েছে। বিরাট দীঘি অপভ্রংশের কালক্রমের ইতিহাসে ‘বিরাট দীঘি’,বিল্টাদীঘি  এবং সর্বশেষে ‘বিন্না দীঘি’ নাম করনে পরিচিতি ছিল। এখন এ সব নামের পরিচিতি ভাটা পড়েছে। ১৯৭৯ সালে তৎকালিন নীলফামারী মহকুমা প্রশাসক আঃ জব্বার এ দীঘিকে পর্যটক কেন্দ্র হিসাবে সংস্কার করেন। পাশা পাশি এ দীঘির নাম করন করেন নীলসাগর। সময়ের কালক্রমে বর্তমানে দীঘিটি ‘ নীলসাগর’ দীঘি নামে চারি দিকে সুনাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
নীলসাগর দীঘির চারি পাশে মাটির তৈরী গড় বা মাটির আালি দ্বারা ব্যাষ্টিত। গড়ের চারি পাশে দেশি ও বিরর প্রজাতির ফল মুলসহ নানা রকম সবুজ গাছ পালায় সবুজ সমারোহে শীতল ছায়া বিরাজ করছে। এ সব সবুজ গাছ পালা সংরক্ষনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে। আনন্দ, বিনোদন ও অবকাশ যাপনে মনো মুগ্ধকর,প্রাণ বন্ত পরিবেশ বিদ্যমান। যা সবার জন্য পরিবেশ বান্ধব বটে। দীঘির ৩২.৭০ একর জলাশয়ে নানা প্রজাতির দেশী বিদেশী মাছ রয়েছে।রয়েছে আয়ের সু-ব্যবস্থ। নীলসাগর একটি সরকারী পর্যটক কেন্দ্র। এটি পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে সদস্য সচিব করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটি তত্ত্বাবধানে  নীলসাগর পর্যটক কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে।
নীলসাগর পর্যটক কেন্দ্রের নানাবিদ আয়ের উৎসব রয়েছে। তবে প্রধান আয়ের উৎসব হচ্ছে-দর্শনার্থী প্রবেশ ফি-১০/ বাই সাইকেল ফি ১০/ মোটর সাইকেল- ৫০/ কার/মাইক্রো/জীপ- ১০০/ মিনিবাস- ২০০/ মৎস্য এ্যালিং- ১৫০০/ রেষ্ট হাইস বাড়া- ১৫০০/(ভিইপি) আধা সেমি-১২০০/ (সেমি ভিইপি) সাধারন ১০০০/ টাকা।
চিত্র বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা রকমের বিনোদনের সু-ব্যবস্থা। যেমন ঘোড়ার গাড়ি,নাগর দোলা, দোলনাসহ নানা রকমের খেলনা। এ সব খেলনা উপকরন বা সামগ্রীতে চড়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা মনের আনন্দে বিনোদন উপবোগ করে। নীলসাগর পর্যটক কেন্দ্রে কেয়ার টেকার.পাহাড়াদার, মালিসহ নিত্য প্রয়োজনয়ী লোক জনবল রয়েছে। এখানে প্রতি বছর অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নীল সাগরে অতিথি পাখির উৎসব মেরা শুরু হয়। পাখির কল কাকলি,কিচির মিচির গান আর দর্শানাথীদের মনোমুগ্ধকর আনন্দে প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রান বন্ত হয়ে উঠে।ভরে উঠে সবার হৃদয় প্রাণ। তবে অক্টোবর ১৩ তারিখ  থেকে এপ্রির পর্যন্ত মাৎস্য এ্যালিং বন্ধ থাকে।
 নীলসাগর পর্যটক রেস্ট হাইস দ্বিতর করন,কক্ষে শীততাপ যন্ত্র স্থাপন,বাউডারী ওয়াল উঁচুকরণ, দীঘির চর্তুদিকে পাকা রাস্তা মানমান, মেরামত দীঘির সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ ইত্যাদি উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম ব্যবস্থা গ্রহন করে অধিকতর আকষৃনীয় পর্যটক কেন্দ্র গড়ে তোরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নীলফামারী জেলা শহর থেকে ধোপাডাঙ্গা সড়ক পথে বাস, মাইক্রো, কার, পাগল, মিশুক যোগে আসা-যাওয়া করা যায। নীলসাগরের পাশেই নীলসাগর বাজারে  স্বল্প খরচে খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ