শনিবার ২৮ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় আগরবাতির চিকন শলা তৈরি করে অনেকে স্বাবলম্বী

খুলনা অফিস : খুলনায় আগরবাতির চিকুন শলা তৈরি করে অনেকেই স্বাবলম্বি। আবার অন্যকেও স্বাবলম্বি করতে সহায়তা করছেন। আর এ কাজ করে প্রতিব›িদ্ধরাও হতে পারে সম্পদ।

খুলনা মহানগরীর কেডিএ এভিনিউ এর খলিল চেম্বার মোড় এলাকায় গেলে চোখ জুড়িয়ে আসে। নজর কাড়ে রাস্তার আইল্যান্ডের ওপর বিভিন্ন রঙের কাঠি। রোদে শুকাচ্ছে। ঘন্টা না পরতেই আবার তুলে নিচ্ছে ঝুড়িতে। কাছে গিয়ে দেখা গেল এক চোখ অন্ধ এক ব্যক্তি এ কাজ করছেন। তার নাম মোল্লা সাজেদুর রহমান মাসুম। তার যে চোখটি ভাল আছে তাও কোন রকমে দেখে। নিজেকে প্রতিবন্ধি বলে পরিচয় দেন তিনি। 

স্বাবলীল ভাষায় কথা বলা মানুষটি জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে থেকে আগরবাতি তৈরি করেন তিনি। প্রতিবন্ধি বলে কারো কাছে হাত না পেতে নিজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অভাবের সংসারে থেকে প্রাইমারি গন্ডি পার হতে পারেননি। তবে মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতেও চেষ্টা করছেন।

স্ত্রীর সহযোগিতায় এখন তার কারখানায় কাজ করে চলে আরও ৬টি পরিবার। দেশের নামী-দামী অনেক আগরবাতি কোম্পানি তার কাছ থেকে পাইকারী আগরবাতি কিনে সুগন্ধি মিশিয়ে যার যার মোড়ক লাগিয়ে বিক্রি করে বাজারে।

রওশনারা মেয়ে বাবলিকে নিয়ে কয়েক মাস হলো এখানে কাজ নিয়েছেন। মেয়েও এখানে কাজ করছেন। মা-মেয়ের আয়ে চলছে সংসার। স্বামী হারা রওশনারা জীবীকার তাগিদে এখানে কাজ করছেন। রওশনারা জানান, কোথায় কাজ করবো? আমাদের মতো মানুষকে কে দেখবে। পেটতো চালাতে হবে। তাই এখানে কাজ নিয়েছি। পরিবারের কাজও করি আর এখানে কাজ করে মা-মেয়ে খেয়ে-পরে ভাল আছি।

রওশনারা-বাবলির মতো আরও যারা এখানে কাজ করেন, তারা সকলেই এ আয় দিয়ে চলছেন। কিন্তু তাতেও স্বাদ মেটেনি মোল্লা সাজেদুর রহমান মাসুমের। তিনি জানান, আরও অনেক অভাবি মানুষ আসে আমার কাছে কাজের জন্য কিন্তু তাদের জন্য আমি কিছু করতে পারি না। তখন খারাপ লাগে। আরও কিছু মেশিন কিনতে পারলে কিছু মানুষের অভাব মেটাতে পারতাম।

মাসুমের কাছ থেকে পাইকারী আগরবাতি কিনে সুগন্ধি মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করেন আব্দুর রহমান শেখ। তিনিও এ ব্যবসা করে ভালই আছেন। তিনি জানান, আমি আগে অন্য কাজ করতাম কিন্তু অনেক কষ্টে চলতো। এরপর মাসুমের কাছ পাইকারী মাল কিনে ব্যবসা করে ভালই আছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মাসুম প্রতিবন্ধি হলেও সে সমাজের বোঝা নয়, বরং সমাজের সম্পদ। সরকারের বা কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তির সহযোগিতা পেলে সে আরও অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফুঁটাতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ