রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

শীত এলো ঢাকায়

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। সকালে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশার কারণে ঠাণ্ডা লাগে। একারণে গরম কাপড় পরতে হচ্ছে ঢাকায় বসবাসকারীদের। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদে ঠাণ্ডাভাব কেটে গিয়ে গরম লাগতে শুরু করে। তখন আর গরম কাপড়ের প্রয়োজন হয় না। এদিকে সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি আর ঘণ কুয়াশায় শীতের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সারা দেশে চলমান মেঘ-বৃষ্টি কেটে গেলেই শীত জেঁকে বসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদফতরের মতে, শীতের আগমন একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। এটি ‘হুট-হাট’ পরিবর্তন ঘটে না। তবে তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় শীত নেমেছে মূলত শুক্রবারের ভোর রাতের বৃষ্টি রাজধানীর তাপমাত্রা নামিয়ে এনেছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রীর নিচে নামলেই অনুভুত হয় শীত। সে হিসেবে গেল ১১ তারিখেই একবার শীত নেমেছল ঢাকায়।গেল আট দিনের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাপমাত্রা বিভিন্নভাবে উঠানামা করেছে। কখেনো বেড়েছে আবার কমেছেও। কিন্তু গেল তিন দিনের তাপমাত্রা লক্ষ্য করে দেখা যায়, শীতের প্রকটাতা বেড়েই মূলত এ দিনগুলোতেই।
আবহাওয়া অধিদফতর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ‘গেল ১১ তারিখে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ও সর্বোচ্চ তাপমাতা ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১২ ডিসেম্বরে সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ২ ও সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৫, ১৩ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন ২১ দশমিক ৮ ও সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৬, ১৪ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন ১৮ মশমিক ৫ ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৮, ১৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন ১৭ দশমিক ৪ ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ২, ১৬ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৪ ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৫, ১৭ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৫ ও সর্বোচ্চ ২৪.৪ এবং ১৮ ডিসেম্বরে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘দেখেন আবহাওয়া তো উঠা-নামা করে প্রতিনিয়ত। এটি একটি প্রাকৃতিক বিষয়। বলা যেতে পারে গত তিন দিনে শীত বেড়েছে।’
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারা দেশে সোমবারের পরবর্তী তিনদিনে রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। এসময়ের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি /বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আববহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। জানা গেছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশালের কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এ সময় ঢাকায় ৩ মিলিমিটার ও ফরিদপুরে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেশের সার্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রাম ও যশোরে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  দেশের উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বো”চ ৩১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে।
রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়,অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপটি উপমহাদেশীয় বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও এর কাছাকাছি এলাকা বিস্তৃত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ