শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

চলনবিলে কাটানদী সংস্কারের বৃদ্ধি পেয়েছে দেশী মাছের উৎপাদন

শাহজাহান তাড়াশ থেকে : সিরাজগঞ্জ পাবনার চলনবিলের কাটানদী সংস্কারের ফলে দেশী মাছের উৎপাদন দেড়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য বন্যার পানি বিলে ঢুকতে আর বেশী সময় লাগবে না। দেশী মাছ বৃদ্ধির পাশাপাশি ইরি বোরো সেচ সুবিধা অনেক অংশে বৃদ্ধি পাবে। এবারের দীর্ঘ বন্যায় দেশের বৃহত্তম মিঠা পানির মাছের উৎস চলনবিলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। জেলেদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় বাজারে বেশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও সুবিধা করতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। খড়া জালে প্রতি ৩-৫ মিনিট পর ২-৩ কেজি ছোট-বড় মাছ উঠে আসছে। আর কারেন্ট জালে ছোট মাছ পরিমাণে বেশি আটকা পড়ায় জাল বাড়িতে এনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাছ ছাড়াতে হচ্ছে।
জানা যায়, চলনবিল অঞ্চলে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা বিপণনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। এ কারণে জেলেরা পানির দামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হন। বিলের মাছকে কেন্দ্র করে তারাশের মহিষলুটি ও নাটোরের সিংড়ায় মাছের আড়ত গড়ে উঠেছে। কিন্তু দালালদের কারণে জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অঞ্চলে মাছ সংরক্ষণের জন্য হিমাগার না থাকায় মৎস্যচাষিরা লাভের মুখ দেখা ভার। মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত এ অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার, ফিশ কোল্ডস্টোরেজ এবং বরফ উৎপাদন কারখানা তৈরি করলে প্রক্রিয়াজাত করে মাছ বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হতো। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতো। নাটোর মৎস্য বিভাগ জানায়, ১৬টি নদী, ২২টি খাড়ি ও ৩৯টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির দেশী প্রজাতির মাছের উৎস চলনবিল। এক সময় এই বিল হতে প্রায় ৮০ প্রজাতির দেশী মাছের জোগান পাওয়া যেত। যদিও কালের বিবর্তনে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তারপরও সবচেয়ে বেশি প্রজাতির দেশী মাছ উৎপাদনের মূল উৎস চলনবিল। দেশী মাছের মধ্যে রুই, লওলা, কালবাউশ, মৃগেল, কাতল, চিতল, আইর, বোয়াল, পুঁটি, টেংরা, বায়েম, খলসে, গুচিবাইম, সরপুঁটি, বেলেসহ প্রায় ৬০ প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ