শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশে করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত এক দিনে মারা গেছে ২৮ জন, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৪৭ জন। গতকাল শনিবার বিকালে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বশেষ এই তথ্য জানিয়েছে।
তাতে দেখা যায়, গত একদিনে নতুন ১ হাজার ৮৪৮ জনকে নিয়ে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৮১ জন। আরও ১৭ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৫০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৯২১ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৫২জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে সনাক্তের দিক থেকে ২৪তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৩তম অবস্থানে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৭টি ল্যাবে ১২ হাজার ৬৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ২০২টি নমুনা।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, নারী ১০ জন। তাদের প্রত্যেকেই হাসপাতালে মারা গেছেন।
তাদের মধ্যে ১৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এক জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিলো।
মৃতদের মধ্যে ১৬ জন ঢাকা বিভাগের,৩ জন করে মোট ৬ জন চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের, এবং ২ জন করে মোট ৪ জন খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের এবং একজন করে মোট দুইজন সিলেট ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ৩৫০ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৮৮১ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৪৬৯ জন নারী।
তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৫৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও, ১ হাজার ৬৬৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৭৩  জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৩৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩০ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
মৃতদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৪৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২৩১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৮৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৮৬ জন খুলনা বিভাগের, ২১৪ জন বরিশাল বিভাগের, ২৬২ জন সিলেট বিভাগের, ২৯০ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৩০ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
এদিকে দেশে করোনা সক্রিয় আছে এমন রোগীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫৭৯ জন। এশিয়ায় সক্রিয় রোগীর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে আছে ভারত, যেখানে সক্রিয় রোগী আছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৫ জন এবং দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইরান, যেখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৬ জন। এছাড়া মোট শনাক্তে বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়ায় পঞ্চম, আর সুস্থতার দিক দিয়ে অবস্থান সপ্তম। স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ