শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

রাজধানীতে ভিড় বেড়েছে শীতের পোশাকের দোকানে

মতিঝিলের ফুটপাতে শীতের পোশাক কেনাকাটায় ব্যস্ত সাধারণ মানুষ -সৈয়দ নয়ন

স্টাফ রিপোর্টার : সাগরে লঘুচাপের কারণে গত দুইদিন বৃষ্টি হয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আর বৃষ্টির কারণে সবখানেই ঠান্ডা বেড়ে গেছে। হিম হিম অনুভূতিতে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেছে শীতের পোশাকের দোকানে। অবশ্য আকাশ মেঘলা থাকায় তাপমাত্রা কমে যাওয়াসহ শীতের আগমনের খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গতকাল শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার পর্যন্ত মেঘলা আকাশ, হালকা বৃষ্টি এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সোমবার থেকে সকালের সোনারোদে অনুভূত হবে শীতের আমেজ।   
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গ্রামের প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে কিছু আগেই। এবার শীত আসছে শহরেও। তাই শীত মোকাবিলায় মানুষের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকার ফুটপাতের দিকে তাকালেই দেখা মিলে রঙ-বেরঙের বাহারি শীতের পোশাকের। আর এসব দোকান ঘিরে এখন সারাক্ষণ ভিড় করে আছে শহুরে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্তের একটা অংশ।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এই শীতকে কেন্দ্র করেই কিছুটা ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে দোকানিদের। রাজধানীর দোকান ও ফুটপাতে শুরু হয়ে গেছে শীতবস্ত্রের জমজমাট বেচাকেনা। বিক্রেতারা জানালেন, হালকা ও মাঝারি ধরনের গরম পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর ফুলবাড়ীয়ার বঙ্গবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের কম্বল, সোয়েটার, টুপি, পায়ের মোজা, হাতমোজা, মাফলার, সুয়েটার, জাম্পার, ফুলহাতা গেঞ্জির দোকানেই বেশি ভিড় দেখা করছে ক্রেতারা। এ ছাড়া রাজধানীর বায়তুল মোকারমের পাশের ফুটপাতে, জিপিওর সামনে এবং মুক্তাঙ্গণ ঘেঁষে স্বল্প আয়ের অনেকে দাম-দর করে কিনছে শীতের পোশাক।
বঙ্গবাজারের পাইকারি কাপড়ের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ‘গত সপ্তাহে খুচরা ব্যবসায়ীরা অনেক মালামাল কিনে নিয়ে গেছে। এখন শীত পড়া শুরু হয়েছে, তাই আরো কম্বল বিক্রি হবে।’ আমাদের এখানে দেড়শ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ২০০ টাকার কম্বল আছে। এ ছাড়া বিদেশি কম্বল দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।’
বায়তুল মোকাররমের ফুটপাত থেকে নিজের সন্তানদের জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছেন রহিমা আক্তার (৪০)। তিনি পরিবার নিয়ে শনির আখড়া এলাকায় থাকেন। এরই মধ্যে কয়েকটি শীতের পোশাকও কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর বাচ্চাদের শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। অনেকেই দেখি বাচ্চাদের জন্যই কিনছে। মনে হয়, এটাই বেশি বিক্রি হচ্ছে।’
এবার দাম কেমন- জানতে চাইলে এই গৃহবধূ বলেন, ‘একটু বেশিই মনে হচ্ছে। প্রথম প্রথম তো এ কারণেও হতে পারে। আগে যেটা ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় কেনা যেত এখন সেটা কিনতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।’
পাশের জিপিওর সামনে থেকে শীতের কাপড় কিনতে দরাদরি করছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হুমায়ুন কবীর (৩৫)। তিনি বলেন, ‘আজকে আবহাওয়া খারাপ দেখে মনে হচ্ছে সামনে শীত পড়বে। তাই আজকে পরিবারের সবার জন্য শীতের পোশাক কিনতে আসছি। দাম একটু বেশি চাইলেও ভালোটা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
বায়তুল মোকাররমের সামনের ফুটপাতে শীতের মৌসুমকে কেন্দ্র করে দোকানে নতুন মালামাল উঠিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন, ‘এখন শীতের পোশাক কিনতে লোকজন কিছু কিছু আসতাছে। আমাদের তো ব্যবসা নাই। এখন যদি কিছুটা হয়। গত সপ্তাহ থেকে শীতের পোশাকের বেচাবিক্রি বাড়ছে। সামনে আরেকটু বাড়তে পারে।’
তবে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আবার করোনাও বাড়তাছে। মানুষ যদি আর ঘর থেকে না বাইর হইতে পারে তাইলে তো ব্যবসা বসে যাবে। এই চিন্তাও আছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ