শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সালাম ইসলামের সৌন্দর্য

নুরুন নাহার মুর্শিদা : ॥ গতকালের পর ॥
আলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, একজন মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি অধিকার বা দায়িত্ব রয়েছে।
১) যখন কোন মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ হয় তখন তাকে সালাম দেবে।
২) তাকে কোন মুসলমান ডাকলে তার ডাকে সাড়া দেবে।
৩) কোন মুসলমান হাঁচি দিলে তার হাঁচির জবাব দেবে।
৪) কোন মুসলমান অসুস্থ হলে তার সেবা করবে।
৫) কোন মুসলমান মারা গেলে তার জানাযায় অনুগমন করবে (দাফন,কাফনে এবং জানাযায় শরীক হবে)
৬) এবং সে নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অপর ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করবে। (তিরমিযী, দারেমী)
আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “একজন মুমিনের উপর অপর মুমিনের ছয়টি হক বা কর্তব্য রয়েছে :
১) যখন সে রোগাক্রান্ত হবে তখন তার সেবা করবে;
২) যখন সে মৃত্যুবরণ করবে, তখন তার জানাযায় উপস্থিত হবে;
৩) যখন সে আহ্বান করবে, তখন তার ডাকে সাড়া দেবে;
৪) যখন তার সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে সালাম দেবে;
৫) যখন সে হাঁচি দেবে তখন তার হাঁচির জবাব দেবে;
৬) উপস্থিত অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় তার মঙ্গল কামনা করবে।” (নাসায়ী)
১২. বক্তৃতার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও সালাম : কোন বক্তৃতা /বক্তব্য পেশ করার সময় আল্লাহর প্রশংসা করা ও সৎ বান্দাদের প্রতি সালাম প্রদান করা।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “বল, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর। শ্রেষ্ঠ কি আল্লাহ, না তারা যাদেরকে ওরা (আল্লাহর) শরীক সাব্যস্ত করে? (সূরা আন নামল : ৫৯)
১৩.  আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি : আবু উমামা ছুদাই ইব্ন আজলান আল বাহেলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল (স.) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে মানুষকে আগে সালাম দেয়। (আবূ দাউদ, তিরমিযী)
১৪. ঈমানের অনন্য বৈশিষ্ট্য: আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী কারীম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এ তিনটি কাজ এক সঙ্গে সম্পন্ন করল, সে যেন ঈমানকে সুসংবদ্ধ করে নিল। (তাহলো) নিজের নফসের সাথে ইনসাফ করা, সকলকে সালাম করা এবং দরিদ্র অবস্থায় অর্থ ব্যয় করা। (বুখারী)
১৬. ছোটদের সালাম দেয়া: আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (স.) (একবার) কিছু সংখ্যক বালকের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদেরকে সালাম দিলেন। (বুখারী, মুসলিম)
১৫. সবচেয়ে বড় কৃপণ ব্যক্তি : যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে হলো সবচেয়ে বড় কৃপণ।
আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “সবচেয়ে বড় অক্ষম সে, যে দু’আ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং সবচেয়ে বড় কৃপণ সে, যে সালাম দিতে কৃপণতা করে।” (বায়হাকী)
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী কারীম (স.) এর দরবারে হাজির হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার বাগানে অমুক ব্যক্তির একটি খেজুর গাছ আছে। তার ঐ খেজুর গাছটি (আমার বাগানে) থাকার কারণে সে আমাকে কষ্ট দেয়। নবী কারীম (স.) ঐ লোকটিকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমার খেজুর গাছটি আমার কাছে বিক্রি কর। লোকটি বলল, না। নবী (স.) বললেন, তাহলে গাছটি আমাকে দান কর। সে বলল, না। রসূলুল্লহ (স.) এবার বললেন, তাহলে বেহেশতের একটি খেজুর গাছের বিনিময়ে গাছটি আমার নিকট বিক্রি কর। সে এবারও না বলল। তখন রসূলুল্লহ (স.) বললেন, আমি তোমার চেয়ে অধিক কৃপণ আর কাউকে দেখিনি। তবে তোমার চেয়ে সে ব্যক্তি অধিক কৃপণ, যে সালাম দিতে কার্পণ্য করে। (আহমদ, বায়হাকী)
পরিশেষ : বর্তমান সমাজে দেখা যায় যে, ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন এর পরিবর্তে বিজাতীয়দের সংস্কৃতিকে লালন করা হচ্ছে। মুসলিমগণকে এরূপ কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা যে ব্যক্তি যে জাতিরই অনুসরণ করবে সে সেই জাতরিই অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! ইহুদী ও খৃস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর না। তারা তো শুধু পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে সে তাদেরই দলভুক্ত হবে।” (সূরা মায়েদা: ৫১)
রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ)
উল্লিখিত কুরআনের আয়াত ও সুন্নাহর দ্বারা মূলত বিজাতীয়দের সংস্কৃতি গ্রহণ ও তার প্রভাব থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।
সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত ইসলামী তাহযীব তামাদ্দুনকে লালন করে সত্যিকারের শান্তিময় সমাজের প্রতিষ্ঠা করা। আর পরকালের চিরস্থায়ী আবাস পাওয়ার পথকে সুগম করা। (সমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ