রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দেশের চাইতে ব্যক্তি বড়!

রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন, ব্যক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড়। এমন বক্তব্যকে তো ঠিক বলেই মানতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এই সত্য কতটা মানা হয়? রাজনৈতিক সংকটের সময় তো দেখা যায় দলের চাইতে ব্যক্তি বড় হয়ে উঠেন। আবার জাতীয় নির্বাচনের সময় দেখা যায়, বিজয়ের প্রশ্নে দেশের স্বার্থ তুচ্ছজ্ঞান করেন দাপুটে নেতারা। এমন দৃশ্য এখন আর শুধু তৃতীয় বিশ্বের বিষয় নয়, প্রথম বিশ্বেও প্রবল। এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকালেও বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। ফলে প্রশ্ন জাগে, রাজনীতির মান এতটা নিম্নগামী হলো কেমন করে? এর জন্য দায়ী কে? রাজনীতি, না মানুষ? রাজনীতি তো নিজে নিজেই সক্রিয় হয়ে যায় না। মানুষের কারণেই রাজনীতি সক্রিয় হয়, হয় প্রাণবন্ত। তাই বলতে হয়, রাজনীতির পেছনে থাকা মানুষটাই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কারণেই রাজনীতি ভালো বা মন্দ হয়। রাজনীতির মান মানুষের মানের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিকে আমরা যদি ভালো বলে বিবেচনা করতে না পারি তাহলে আমাদের এ কথা মেনে নিতে হবে যে, বর্তমান সভ্যতায় রাজনীতির মানুষগুলো ভালো নয়।
বর্তমান সভ্যতার এক নম্বর দেশ যুক্তরাষ্ট্র তো গণতন্ত্র চর্চা ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য গর্ব করতো। এসব বিষয়ে বিশ্বকে নসিহত করতো। কিন্তু এখন তো দেশটির প্রেসিডেন্ট নিজেই বলছেন নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, জালিয়াতি হয়েছে, তাকে জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে এখন ইমেজ সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ব্যাটেলগ্রাউন্ড জর্জিয়ায় তিনি একটা বড় ধাক্কা খেলেন। রিপাবলিকান ঘেঁষা জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সামান্য ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পকে পরাজিত করেন বাইডেন। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা কোন প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছিলেন, ভোটের হার অনেক বেশি। ব্যাপক কারচুপির কারণেই এমনটা হয়েছে। ট্রাম্প শিবিরের এমন অভিযোগের মুখে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোট পুনঃগণনার ঘোষণা দেন। পাঁচ দিন ধরে রাজ্যের ৫০ লাখ ব্যালট হাতে গণনা করা হয়। পুনঃগণনায়ও দেখা যায় বাইডেনের বিজয়। বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ১২ হাজার ২৮৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। এছাড়া ভোট গণনায় অনিয়ম দাবি করে ট্রাম্প শিবিরের করা অভিযোগ তিনটি অঙ্গরাজ্যের বিচারকরা বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির আইনি পথে না হেঁটে নতুন কৌশল নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে ভোটের ফলাফল উপেক্ষা করতে এবং ট্রাম্পের পক্ষে এসে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের উপর চাপ দেয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তিনজন সে কথা জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। আইনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা না দেখায় ট্রাম্প ও তার নির্বাচনী শিবির দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করছেন।
ট্রাম্পের ভোট জালিয়াতির প্রোপাগাণ্ডা হালে পানি না পেলেও তিনি থামছেন না। কেন? পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার সমর্থকদের ধরে রেখে রাজনীতির ময়দানটা উত্তপ্ত রাখতে চাইছেন। এছাড়া এমন রাজনীতির মাধ্যমে তিনি বাইডেনকে যেমন চাপে রাখতে পারবেন, তেমনি তার জন্য যখন-তখন চাঁদা সংগ্রহের কাজটাও সহজ হয়ে উঠবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোট কারচুপির প্রোপাগাণ্ডায় ট্রাম্প ও তার পরিবার রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও গণতন্ত্র। ফলে বলা চলে, ব্যক্তির চাইতে দেশ বড়- এ কথা বোধহয় সবার অভিধানে লেখা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ