সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

জুয়েল হত্যার ঘটনায় দায়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

রংপুর অফিস : জুয়েলকে পুড়িয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পাটগ্রামের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যর বিরদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
তাঁরা অভিযোগ করেছে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য সরাসরি জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ তুলেছে  নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
তাদের অভিযোগ, 'ঘটনার দিন পাটগ্রামের ইউএনও, ওসি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত থেকেও হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। উপরন্তু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তোলে। ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম মসজিদ থেকে সহিদুন্নবী জুয়েলকে মারপিট করে শার্টের কলার ধরে টেনে হিচড়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু জুয়েল হত্যাকান্ডের মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি'।
গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর শালবন এলাকার নবী ভিলায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এ অভিযোগ আনা হয়। লিখিত বক্তব্যে এলাকাবাসীর পক্ষে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী বলেন, 'কোরআন অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে জুয়েলকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। শুধু হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয় নাই, পাষন্ডরা ওর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে ফেলেছে। প্রকাশ্যে সংঘটিত এই ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। হামলাকারীরা উল্লাস করেছে। ঘটনার ছবি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছে। একটি সভ্য সমাজে আর গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনের দেশে এরকম ঘটনা বিস্ময়কর, অভাবনীয় ও গভীর উদ্বেগজনক'। এসময় জুয়েলকে কোরআন অবমাননার অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা এবং জুয়েলের অসহায় পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নেয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তাকে একটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া, জুয়েলের হত্যাকারী, খুনীরা যারা এখনো গ্রেফতার করা হয়নি, তাদের গ্রেফতারে চলমান প্রক্রিয়া জোরদার করা, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে করা এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে জুয়েল হত্যার মামলাটি রংপুরে হস্তান্তরের দাবি তোলেন নিহতের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে জুয়েলের স্ত্রী, দুই ছেলে মেয়ে, বোন ভাইসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে রংপুরের সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। নিহত জুয়েল রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক লাইব্রেরিয়ান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ