শনিবার ২৮ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারতের অনেক হাসপাতাল বাংলাদেশী রোগীর ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসার অভাব এবং ভুল চিকিৎসার শিকার হওয়ার ভয়ে প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশি ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোর দিকে ছুটছেন। ভুল চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণেই এমন অবস্থা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিদেশগামী রোগীদের সিংহভাগই যায় পাশের দেশ ভারতে। সেদেশের অনেক হাসপাতালও প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কয়েক লাখ রোগীর ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের চিকিৎসায় আস্থা সংকটের কারণেই বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের গবেষকরা বলছেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মান ও ব্যয়ের ওপর সরকারের তদারকির অভাবে বিদেশগামী রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এতে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে।
জানা গেছে, করোনায় কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর মেডিকেল ভিসা চালু হওয়ায় আবারও বিদেশমুখী হচ্ছেন অনেক রোগী। বরাবরের মত বেশিরভাগ রোগীই যাচ্ছেন পাশের দেশ ভারতে। দেশে নেই বিশ্বমানের চেইন হাসপাতাল। অনেকে বাধ্য হয়েই বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। বাংলাদেশে নামে গুটি কয়েক অভিজাত হাসপাতাল থাকলেও সেগুলো নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই।
রোগে আক্রান্ত হলে উচ্চবিত্তরা যান সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। আর মধ্যবিত্ত সাধ্যের মধ্যে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করান। প্রতিবছর বিদেশ গিয়ে স্বনামধন্য চেইন হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা ও আস্থাহীনতায় বিদেশমুখিতা ঊর্ধ্বমুখী। এই হাসপাতালগুলোর শাখা দেশে খোলার ব্যাপারে নেই কোনো উদ্যোগ। দেশে মাত্র দুটি চেইন হাসপাতাল ‘এভারকেয়ার’ এবং ‘এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট’। রাজধানীতে এভারকেয়ারের একটি শাখা রয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লাতে রয়েছে এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটের শাখা। ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি থাকলেও মানসম্পন্ন সেবা দিতে চেইন হাসপাতাল গড়ার আগ্রহ দেখা যায় না। বেসরকারি বিনিয়োগ না থাকায় সেবার মান বাড়ানো নিয়ে নেই কোনো সুস্থ প্রতিযোগিতা। চলতি বছর বিশ্বের সেরা ১০০ হাসপাতাল নিয়ে করা একটি র‌্যাংকিংয়ে ঠাঁই হয়নি বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালের। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ভারতের মাত্র একটি হাসপাতালের জায়গা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস প্রথমবারের মতো বিশ্বের সেরা ১০০ হাসপাতালের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার সংবাদবিষয়ক বিখ্যাত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজউইক বিশ্বের সেরা ১০০ হাসপাতাল নিয়ে এ র‌্যাংকিংটি প্রকাশ করে।
এছাড়া সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আগেও ছিল এখনো আছে। হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু রোগীর ভোগান্তি কমছে না। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, নিয়মশৃঙ্খলা, রোগীর সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের খারাপ আচরণ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ঘটছে মারপিটের ঘটনা। কখনো রোগীর স্বজনরা মেরে আহত করছেন চিকিৎসককে, আবার কখনো ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মিলে পিটুনি দিচ্ছেন রোগীর স্বজনদের। প্রায়ই ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। হাসপাতালে গিয়ে সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। রোগীর অনুপাতে দেশে হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসক সংখ্যায় বিশাল ফারাক। হাসপাতালের মেঝেতে থাকছেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীরা। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য আসলে হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যাদের ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই তাদের এই ক্যান্সার ইনস্টিটিউটই শেষ ভরসা।
আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের (ইওয়াই) প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া রোগীদের ৬২ শতাংশই অসংক্রামক নানা ব্যাধির (এনসিডি) চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে। রোগীদের বিদেশমুখী স্রোত শুরু হলেও দেশের সেবার মান উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেই। করোনাভাইরাস মহামারীতে ফুটে উঠেছে  দেশের স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর চিত্র। এ ব্যাপারে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিস (এফডিএসআর) সূত্র বলছে,  দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির কিছু মানুষ বিদেশে যাবেই। তবে উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বিদেশগামিতা কমাতে হলে দেশে বেসরকারি খাতে হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে। একটু উদ্যোগী হলে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে দেশেই মানুষ উন্নতমানের আধুনিক চিকিৎসা পাবে, যা রোগীদের বিদেশগামিতা কমাতে সহায়তা করবে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩৭ লাখ বাংলাদেশি ভ্রমণে গেলেও বিপরীতে মাত্র ৭-৮ লাখ বিদেশি পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন। একই বছরে চিকিৎসাসহ বিদেশ ভ্রমণে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। এর মধ্যে ভারতে একই বছরে প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসহ ভ্রমণে পছন্দের তালিকায় ভারতের পাশাপাশি শীর্ষস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও চীন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের  প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ জন অবহিতকরণ’ সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, চিকিৎসা খাতে প্রতি বছর বিদেশে চলে যাচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। আমাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ভালো হতো, উন্নত হতো, তাহলে এত টাকা বিদেশে চলে যেত না। এই টাকা ধরে রাখতে হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সূত্র জানায়, বিদেশ ভ্রমণে অনেক টাকা দেশের বাইরে চলে যায়। এর মধ্যে একটি অংশ যান চিকিৎসার জন্য, বাকিরা যান ঘুরতে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত, সিঙ্গাপুরের মত দেশ মেডিকেলসহ কয়েকটি শ্রেণির ভিসা দেয়া শুরুর পর চিকিৎসা নিতে অনেকেই যাচ্ছেন ও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রোগিদের বিদেশে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোগী জানান,  তার পেট ফুলে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশে এন্ডোস্কোপি করানো হয়েছে কিন্তু রোগ সনাক্ত করতে পারেনি। তাই বিদেশ (ভারত) যাওয়ার জন্য সবকিছু ঠিক করছেন। আরেকজন রোগী জানান, তার হার্টের সমস্যা। এখানে চিকিৎসকরা রিংও পরাচ্ছে না আবার সার্জারিও করছে না। কিন্তু তার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাই তিনি বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আগেই যেতেন কিন্তু করোনার কারণে এতোদিন যেতে পারেননি। অন্য আরেক রোগী জানান, তার যে কি রোগ হয়েছে তা ডাক্তাররা বলছেন না। আবার যে ওষুধ দিচ্ছেন তাতে কাজ হচ্ছে না। পরীক্ষা করাচ্ছেন বার বার। সে অনুযায়ী ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। কিন্তু ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছে না। কি রোগ হয়েছে ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে বলছেন না। তাই তিনি নিয়ত করেছেন চিকিৎসা করাতে ভারতে যাবেন। আবার অনেকের কি রোগ হয়েছে বলে দিলেও ডাক্তারের কথায় আস্থা পাচ্ছেন না। তাই নিশ্চিত হতে পাশের দেশ ভারতে যাচ্ছেন।  
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান তারা বেসরকারি হাসপাতালে যান। এর বড় কারণ, দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান নিয়ে যেমন উঠে তেমনি তাদের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। দুই তিন বছর আগের এক হিসাবে দেখা গিয়েছিল বিদেশে চিকিৎসা নিতে আড়াই বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন এদেশের রোগীরা। বর্তমানে তা ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের। রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা রুখতে দেশে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথে চিকিৎসা সেবাদানকারীর সংখ্যাও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসার অভাবে এবং ভুল চিকিৎসার শিকার হওয়ার ভয়ে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোর দিকে ছুটছেন। ভুল চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণেই এমন অবস্থা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক রিপোর্টে বলা হয়, প্রতি বছর বাংলাদেশীরা বিদেশে চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রায় ২.০৪ বিলিয়ন টাকা খরচ করে থাকেন। এই অর্থ বাংলাদেশের মোট আয়ের ১.৯৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছুটে যাওয়ার বিষয়টি নতুন কোনো বিষয় নয়। ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে বিদেশে চিকিৎসা নিলে সেটি নিয়ে হয়তো কোনো আপত্তি উঠতো না। কিন্তু রাষ্ট্রের টাকায় অর্থাৎ জনগণের করের টাকায় বিদেশে চিকিৎসা নেবার বিষয়টি নিয়ে অনেক সময়ই প্রশ্ন ওঠে। সরকার প্রধানসহ মন্ত্রী, এমপিরা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ হয় জনগণের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেন না বলেই বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান দিনদিন নিম্নগামী হচ্ছে। এতে দেশের মানুষের ধারণা যে, দেশের চিকিৎসা সেবার প্রতি সরকারেরই কোন আস্থা নেই। অথবা এ বার্তাও দেয় যে দেশের হাসপাতালগুলো তাদের চিকিৎসা দেবার মতো অবস্থায় নেই। রাষ্ট্র কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়মিত শারীরিক চেকআপের জন্য বিদেশ যান। দেশের জনগণও বাধ্য হয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী নাগরিককে ভারতে যাওয়ার মেডিক্যাল ভিসা দিয়েছে তারা। এ সংখ্যা ২০১৬ সালে ভারতগামী চিকিৎসা প্রার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে আসা ৪,৬০,০০০ রোগীর মধ্যে ১,৬৫,০০০ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। ভারতের পর্যটকদের কাছ থেকে আসা চিকিৎসা সেবার ৩৫ শতাংশই বাংলাদেশ নিয়েছে। বিদেশীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে ভারতের মোট আয়ের ৫০ শতাংশ আসে শুধু বাংলাদেশ থেকে। ২০১৮ সালে ভারতে পাড়ি জমান প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার বাংলাদেশী রোগী।
এছাড়া পর্যটন ভিসায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশীদের অধিকাংশেরই লক্ষ্য থাকে চিকিৎসা নেয়া। যেসব রোগী ভারতে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই অর্থোপেডিক্স, ক্যান্সার, কার্ডিওলজি ও নিউরো সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে গমন করেন। এতে বছরে ব্যয় হয় ৪ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, দেশে বিএমডিসিভুক্ত বৈধ ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ এর মধ্যে এমবিবিএস ডাক্তারের সংখ্যা ৯১ হাজার এবং বিডিএস ডাক্তারের সংখ্যা ৯ হাজার। দেশসেরা মেধাবীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নের সুযোগ পান। প্রতিবছর স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেটের একটি অংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয়। তারপরও রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রটি পুরোপুরি রোগীবান্ধব হয়ে ওঠেনি। সাধারণত সরকারি হাসপাতালে গরিব রোগীরা গিয়ে থাকে। গরিব রোগীদের অর্থবিত্ত নেই, ডাক্তার ও হাসপাতালের স্টাফদের অবহেলার শিকার হতে হয় চরমভাবে। গ্রামগঞ্জে ও জেলা শহরের হাসপাতালের অবস্থা আরো ভয়াবহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ