শনিবার ২৮ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার যৌক্তিক দাবি মেনে নিন

মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট চলছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের -সংগ্রাম

প্রাইমারি স্কুলের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে অনাতিলম্বে জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড: এম কোরবান আলী ও জেনারেল সেক্রেটারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ.বি.এম ফজলুল করিম।

এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তিন দিন অবস্থান করে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবীসমূহ মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। 

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ১৯৭৮ সালের অডিন্যান্স ১৭(২) ধারা মোতাবেক মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শর্তপূরণ সাপেক্ষে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো রেজিস্ট্রেশন পেয়েছিল। রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে। ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদারাসার শিক্ষকদের বেতন পাঁচশো টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রাইমারি স্কুল ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের একই পাঠদান করা হয়।

তাঁরা আরো বলেন, অতপর ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ করে। কিন্তু  দুঃখের সাথে বলতে হয় বাংলাদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ইবতেদায়ী মাদরাসা এখনও জাতীয়করণ করা হয়নি। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দীর্ঘ ৩৬ বছর যাবৎ সরকারী বেতন-ভাতা হতে বঞ্চিত। ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই মুজিববর্ষে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করার আবেদন জানান। আন্দোলন করা শিক্ষকরা তাদের আরো কিছু দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো, শুধু প্রাইমারি নয়, সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে মুজিববর্ষ ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মহাসমাবেশের মাধ্যমে জাতীয়করণের ঘোষণা করা হোক। কোডবিহীন মাদ্রাসাগুলো বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার নীতিমালা ২০১৮ সংশোধন করে আলিম শিক্ষক এক জনের  পরিবর্তে এইচএসসি পাস একজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত করা হোক। প্রাইমারির ন্যায় অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হোক। পিটিআই ট্রেনিংয়ের  ব্যবস্থা করা হোক। ভবন নির্মাণ করা হোক। এছাড়া স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষকগন।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের নেতৃদ্বয় আন্দোলনরত এবতেদায়ী শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার সাথে একমত পোষন করেন এবং অবিলম্বে মসজিদ সংলগ্ন প্রতি মক্তবের দুই জন করে শিক্ষককে সরকারী ভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে উদাত্ত আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ