বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশ দল আজ কাতার সফরে যাচ্ছে

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ খেলতে আজ বৃহস্পতিবার কাতার যাচ্ছে বাংরাদেশ ফুটবল দল। আগামী ৪ ডিসেম্বর দোহায় স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার ম্যাচটি খেলার অনুমতি দিয়েছে ফিফা ও এএফসি। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আবার মাঠে গড়াবে স্থগিত পর্ব। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন হোটেলেই আইসোলেশনে আছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। তাই দলের সাথে এখনই কাতার যেতে পারছেন না এই ইংলিশ কোচ। করোনা নেগেটিভ হলেই তিনি দলের সাথে যুক্ত হবেন বলে বাফুফে সূত্রে জানা গেছে। কাতারের বিপক্ষে খেলার আগে দোহায় দুটি অনুশীলন ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছে বাফুফে। নেপালের বিপক্ষে সিরিজ জয়ী বাংলাদেশ দলের খেলা দেখে জেমী ডে কাতারের জন্য ২৭ সদস্যের দল তৈরি  করেছেন। গত ২৩ অক্টোবর অনুশীলন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। 

জেমি ডে প্রাথমিক ক্যাম্পে ডেকেছিলেন ৩৬ ফুটবলারকে। এর মধ্যে দুইজন-মাসুক মিয়া জনি ও মতিন মিয়া যোগ দেননি ইনজুরিতে থাকায়। পরে ইনজুরি ও অসুস্থতার কারণে বাদ পড়েছেন মামুনুল ইসলাম, ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক রায়হান কাজী ও গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। বাকি ৩০ ফুটবলারের মধ্যে ২৭ জনকে কাতার সফরের জন্য নির্বাচিত করেছেন কোচ জেমি ডে। মিডফিল্ডার নাজমুল ইসলাম রাসেল এবং ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও মো. আবদুল্লাহকে বাদ দেয়া হয়েছে কাতার সফরের জন্য। কাতার সফরের জন্য মনোনীত ২৭ ফুটবলার এবং ১০জন কোচিং স্টাফ, অফিসিয়ালসহ মোট ৩৭ জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে। কোনো ফুটবলারের রেজাল্ট পজিটিভ হলে তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। এদিকে করোনায় আক্রান্ত  হওয়ায় নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি জেমি। তবে দলের সঙ্গে না থাকলেও রুমে বসে টেলিভিশনে বাংলাদেশের খেলা দেখেছেন। অবশ্য ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও তিনি যে অসন্তুষ্ট নন। কারণ দীর্ঘ ৯ মাস ধরে জামালরা আন্তর্জাতিক খেলার মাঝে ছিলেন না। তার পর ঘরোয়া ফুটবলও ছিল বন্ধ। এর পরেও সেই ফেরাটা সাফল্যে রাঙ্গানোয় শিষ্যদের সার্বিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট জেমি ডে। নেপালের বিপক্ষে দুই ম্যাচের প্রথমটিতে বাংলাদেশ জিতেছে ২-০ গোলে আর দ্বিতীয়টি ড্র। বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে দুটি ম্যাচেই ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে জামালরা। ডে তাই শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মাত্র ২৫ দিনের অনুশীলন হয়েছে। তাতেই একটি ম্যাচ জিতেছি, অন্যটিতে ড্র। আমি তো বলবো ছেলেরা অনেক ভালো করেছে। আমরা ক্লিন শিট রাখতে পেরেছি। এটা দারুণ অর্জন। এর জন্য খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ দিতেই হবে।' প্রথম ম্যাচ ভালোভাবে জিতেই প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকেরা। কিন্তু শেষ ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখলেও গোল করতে পারেনি সুফিল-জীবনরা। ডে বাস্তবতা মেনে বরং এই ফলাফলেও ভালো দিক খুঁজে নিচ্ছেন, ‘প্রতি ম্যাচে তো জয় আসবে না। একটা কথা মনে রাখতে হবে। আমরা ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৭০ নম্বর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলছি। প্রস্তুতিও সেভাবেই ছিল। এখন যে ফলই এসেছে আমি তাতে অনেক খুশি।'

বাংলাদেশ দল

গোলরক্ষক: আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান জিকু ও পাপ্পু হোসেন। ডিফেন্ডার: তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, বিশ্বনাথ ঘোষ, সুশান্ত ত্রিপুরা, রায়হান হাসান, রহমত মিয়া, ইয়াসিন আরাফাত ও মনজুরুর রহমান মানিক। মিডফিল্ডার: আতিকুর রহমান ফাহাদ, রবিউল হাসান, বিপলু আহমেদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সোহেল রানা, মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, রিয়াদুল হাসান, জামাল ভূঁইয়া, মানিক হোসেন মোল্লা, রাকিব হোসেন। ফরোয়ার্ড: মাহবুবুর রহমান সুফিল, তৌহিদুল আলম সবুজ, সাদ উদ্দিন, নাবিব নেওয়াজ জীবন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ম্যাথিউজ বাবলু ও সুমন রেজা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ