বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সিলেটের জৈন্তাপুরের ডিবি বিলে লাল শাপলার হাসিতে পর্যটকরা মেতে উঠছে

গোলাম সরওয়ার বেলাল, জৈন্তাপুর : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মেঘালয়ের পাদদেশে উত্তর সিলেটের সীমান্তবর্তী এই জনপদে রয়েছে কয়েক শ বছরের পূরনো ইতিহাস-ঐতিহ্য ছাড়াও বেশ কয়েকটি দর্শণীয় স্থান। সিলেট অঞ্চলের হাওর ও বিলগুলোও বেশ দর্শণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। এমনই একটি জায়গা জৈন্তাপুর উপজেলায় কয়েক বছর থেকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। জৈন্তা রাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত ডিবির হাওরে রয়েছে ইয়াম বিল, হরফকাটা বিল, ডিবি বিল ও কেন্দ্রী বিল। এই বিলগুলোর অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের পাদদেশের। এখন বিলগুলো রূপ নিয়েছে লাল শাপলার রাজ্যে। বিলে ফুটন্ত বহু লাল শাপলা, সবুজ লতা-পাতা আর গুল্মেভরা বিলের পানিতে হাজার হাজার লাল শাপলা হার মানায় ভোরের সূর্যের আলোকেও। সবুজ পাতা আর লাল শাপলায় সূর্যের আলোর সাথে মিশে আছে বিস্তীর্ণ এই জলরাশিতে। ভোরের আলোয় লাল শাপলার হাসি আরো আলোকিত করে দেয় ভ্রমনপিপাসুদের মনকে। ভোরে মৃদু ঠান্ডা আর শিশির বিন্দু মাড়িয়ে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে এই জনপদের জলাশয় ও বিলগুলো। দীর্ঘ দিন থেকে ভ্রমনপিপাসুরা বাহিরে বেড়াতে আসতে না পারায় সকল বয়সী মানুষের নজর এখন জৈন্তাপুরের শাপলা বিলের দিকে। শরতের শেষ আর শীতের আগমন এটাই শাপলা বিলে লাল শাপলা উপভোগের উপযুক্ত সময়। রক্তিম শাপলা ফুটে জানান দিচ্ছে পর্যটকদের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেছেন পর্যটনপ্রেমী মানুষ। এতে স্থানীয় লোকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে। সেখানে রয়েছে একটি ভাসমান ব্রীজ যা ছবি তোলার জন্য পিকভিউ বলা চলে। রয়েছে ছোট ছোট নৌকা, পর্যটকদের নিয়ে ভেড়ায় বিলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কেন্দ্রী বিলে রয়েছে আরেকটি আকর্ষনীয় স্থান যা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় জৈন্তা রাজ্যের পূরনো ইতিহাসকে। তবে ঘুমন্ত নয় ফুটন্ত শাপলা দেখতে হলে শাপলা বিলে পৌছাতে হবে সূর্যদয়ের আগে। কারন সূর্যের আলো উঠার সাথে সাথে ফুটন্ত শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মজাই আলাদা। পর্যটকদের পাশাপাশি শাপলা বিলে আসতে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে বিল সহ পুরো এলাকা। এ সময় পূর্ব আকাশে সূর্যের আলোকেও হার মানায় বিলগুলোর ফুটন্ত রক্তিম শাপলা। রাতের স্নিগ্ধতায় ফুটে থাকা লাল শাপলা দিনের আলোয় পাপড়ি দিয়ে অনেকটা লুকায়িত রাখে নিজেকে। কেন্দ্রী বিলের মধ্য ভাগে রয়েছে রাজা রাম সিংহের সমাধিস্থল। এর কাছাকাছি দেখা মিলে মেঘালয় পাহাড়ে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পান-সুপারীর ও কমলা বাগান। এ যেনো প্রকৃতির বুকে শিল্পীর রং তুলিতে আকাঁ এক নকশিকাঁথা। প্রায় ৯শ একর জমি নিয়ে দখল করে আছে লাল শাপলার এই বিলগুলো। পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত সিলেটের দর্শণীয় স্থানের তালিকায় এখন নাম দখল করে নিচ্ছে এই শাপলা বিল। যেভাবে আসবেন শাপলা বিলে। সিলেট শহরের কদমতলী বাস ষ্টেশন থেকে জাফলংগামী বাসে উঠলে নামতে হবে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে। তার পর সেখান থেকে অটোরিক্স সহ যে কোন যানবাহন নিয়ে সিলেট তামাবিল মহা-সড়কের কদমখাল নামক স্থান থেকে হাতের ডান দিকের রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করলে মাত্র ১ কিলোমিটার পরেই পৌছে যাবেন লাল শাপলার বিলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ