বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ঝিনাইদহে মৃত মানুষ ভিক্ষুকও পাট চাষের প্রণোদনার টাকা নিয়েছে

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মৃত আবেদ আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন মারা গেছেন অনেক আগে। একই ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামের আতর আলীও পরোপারে। ফকির আলীর ছেলে আনছার আলী সরকারি কর্মকর্তা। মৃত ছামেদ আলীর মেয়ে দুলি খাতুন ভিক্ষুক। অথচ তাদের নামে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে পাট বীজ ও সারের প্রণোদনার টাকা বিতরণ দেখানো হয়েছে। তারা মাষ্টার রোলে স্বাক্ষর করে টাকাও তুলেছেন। নরেন্দ্রপুর গ্রামের আনছার আলী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কোটচাঁদপুরে কর্মরত। পাট চাষিদের তালিকায় তার নাম দেখে তিনি বিস্মিত। তিনি জানান, ৩৩ বছরের চাকরি জীবনে আমার কোন আবাদযোগ্য জমি ছিল না। তিনি জানান এই নামে নরেন্দ্রপুর গ্রামে আরেকজন আছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, শুধু কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নেই নয়, সারা জেলায় পাট চাষে সার ও বীজ ভর্তুকিতে নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে।
মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নে গ্রামের বাসিন্দা নয় এমন চাষির নাম এবং চাষ হয়না এমন এলাকার কৃষকের নাম রয়েছে ভর্তুকির তালিকায় রয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, হরিণাকুন্ডু, শৈলকুপা ও কালীগঞ্জ উপজেলায় পাট চাষিদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রণোদনার বীজ-সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে জানা গেছে।কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নে ২৩৫ জন পাট চাষির তালিকা দেয়া হয়। এই তালিকায় মৃত ব্যক্তি ছাড়াও ভিক্ষুক ও ভুমিহীন মানুষের নাম রয়েছে। ইউপি সদস্যরা বলছেন তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণের সময় তাদের জানানো হয়নি। ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ রিপন জানান, পাট বীজ ও সার বিতরণের খবর তিনি জানেন না। নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ রণি লস্কার জানান, অনেক সময় হুট করে তালিকা চাওয়া হলে দ্রুত তালিকা পাঠাতে যচাই বাছাই করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া আমরা যে তালিকা জমা দিই সে মোতাবেক বীজ ও সার দেয়া হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ