বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বাগমারায় মুক্তিযোদ্ধাকে পিটালো আ’লীগ নেতা ৩ ঘন্টা পর উদ্ধার

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাগমারায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে বিলে মাছ ধরার অপরাধে মারধর করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন ঘন্টা পর রাত নয়টার সময় পুলিশ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে আওয়ামী লীগ নেতার চেম্বার থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতার দাবি মুক্তিযোদ্ধা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লিজকৃত বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী (৭২) ও তার ছেলে রাজু আহম্মেদ (২৬) জাল নিয়ে বাড়ির পাশে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিলসতি বিলে মাছ ধরতে যান। এ সময় খবর পেয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা বাবু হোসেন, আব্দুল আলী, আসলাম আলীসহ ১৫/১৬ জন লোক নৌকা নিয়ে বিলে যান। তারা নিজেদের বিলের ইজারাদারের লোক দাবি করেন। বিলে মাছ ধরা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ও তার ছেলে রাজু আহম্মেদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নৌকার বৈঠা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে পিটিয়ে জখম করে। মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলে তাদের নৌকায় ওঠিয়ে অদূরে ছোটকয়া এলাকার ইসলামের মোড়ের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে আসেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারের চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হয়ে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ তিনঘন্টা পর রাত নয়টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।
মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী অভিযোগ করে বলেন, ছেলেকে নিয়ে মাছ ধরতে গেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের নির্দেশে তার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের মারপিট করে আটক রাখে। যেখানে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তা ব্যক্তি মালিকানা জমি। ইজারা নেওয়া বা খাস জমি সেখানে নেই। হামলায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইজারা নেওয়া বিলে মুক্তিযোদ্ধা, তার ছেলে ও অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি সন্ধ্যায় চুরি করে মাছ ধরতে গেলে পাহারাদার তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এসময় পাহারাদারকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি মারপিট করে পালিয়ে যান। পরে এরশাদ আলী ও তার ছেলেকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল। থানায় খবর দেয়া হলে রাত নয়টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিয়ে যান। আর কোনোদিন ইজারা নেয়া বিলসতি বিলে মাছ ধরবেন না বলে তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাকে সম্মান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মৎস্যজীবী সমিতি বিলটি ইজারা নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে মাছ ধরা নিষেধ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। যতদূর জানা গেছে তাদের মারপিট করা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ