রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিচার করে ইতিহাসকে কলংকমুক্ত করতে হবে -এডভোকেট জুবায়ের

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূর্চি অংশ হিসেবে ২০০৬ সালের ভয়াল ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নৃশংস তাণ্ডবে নিহতদের স্মরণে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্য রাখছেন মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের -সংগ্রাম

সিলেট ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে দেশকে করদরাজ্যে পরিণত করার হীন উদ্দেশ্যেই ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর লগি-বৈঠার নারকীয় তান্ডব চালানো হয়েছিল। যার ফলাফল জাতি আজ উপলব্ধি করতে পারছে। ২৮শে অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায়। এই দিনে আ’লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট রাজধানীর পুরান পল্টনসহ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের উপরে পরিকল্পিত ভাবে তান্ডবলীলা চালায়। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মত পিটিয়ে মানুষকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে। তাদের নৃশংসতার হাত থেকে সম্প্রীতির সিলেটও রক্ষা পায়নি। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষমতাসীন সরকার পল্টন ট্র্যাজেডি’র এই জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করেনি। বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় নৃশংস হত্যাকান্ডের মামলাসমূহ প্রত্যাহার করেছে। অথচ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে কলংকমুক্ত করতে লগি-বৈঠার তান্ডবের বিচার সময়ের অপরিহার্য দাবি। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারেনা। যতই ষড়যন্ত্র ও টালাবাহান হোক না কেন? দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করা সাধ্য কারো নেই। সময়ের ব্যবধানে লগি-বৈঠার নারকীয় তান্ডবের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বুধবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে ভয়াল ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে লগি-বৈঠার তান্ডবে শাহাদাৎবরণকারী শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা সোহেল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন- মহানগর নায়েবে আমীর মো: ফখরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মো: শাহজাহান আলী ও এডভোকেট মো: আব্দুর রব, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত, হাফিজ মশাহিদ আহমদ প্রমুখ। সভা শেষে শহীদদের মাগফেরাত কামনা এবং দেশ জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন- ২০০৬ সালে জামায়াত-বিএনপি জোটের রাজনৈতিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই আওয়ামীলীগ মুলত এই জঘন্য তান্ডবলীলা চালায়। সেদিন জামায়াতকে ধ্বংস করার জন্য নির্দয়, নিষ্ঠুর ও পাশবিক কায়দায় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও তার বাম শরীকরা পরিকল্পিত ভাবে যে নরহত্যায় মেতে উঠেছিল তা বিশ^বিবেককে কাদিঁয়েছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি, বৈঠা ও মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যে হত্যাকান্ড ও মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটিত করা হয়েছিল তা দেখে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব সহ সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে অথচ ২৮ অক্টোবরের পৈশাচিকতার বিচার হওয়াতো দূরের কথা, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাই প্রত্যাহার করে নেয়। দেশে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্যই এই হত্যাকান্ডের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ