বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

২৮শে অক্টোবর ছিল এদেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন ধ্বংসের সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ -মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান

গতকাল বুধবার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস স্মরণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবরের নৃশংসতা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। বরং তা ছিল এদেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন ধ্বংসের সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।  
গতকাল বুধবার রাজধানীতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস স্মরণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল সালাহউদ্দিন আইউবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মোঃ সেলিম উদ্দিন, শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের গর্বিত পিতা তাজুল ইসলাম ও শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্যি, সন্ত্রাস, নৃশংসতা, বর্বরতা, জঙ্গিপনা আওয়ামী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘৃণ্য নজির স্থাপিত হয়েছিল ২৮শে অক্টোবর ২০০৬-এ। আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী সেদিন শুধু জামায়াতের সভা পণ্ড করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি, বরং তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলো। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই খুনিরা আজও বাংলাদেশের মাটিতে সক্রিয় থেকে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ২৮শে অক্টোবরের বর্বরতার নেতৃত্বদানকারী খুনি, আওয়ামী সরকারের মদদপ্রাপ্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী হাজি সেলিমের বাড়িটিকে অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, মানুষের হাড়, টর্চাসেলসহ ভয়ঙ্কর অপরাধের আস্তানা হিসেবে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২৮শে অক্টোবরের আত্মস্বীকৃত খুনি বাপ্পাদিত্য বসু’রা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে গুপ্ত হত্যাসহ সকল অপরাধ প্রবণতা সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই ফসল বলে দেশের জনগণ মনে করে। ২০০৬ সালের সেদিনের সেই ঘটনার অপরাধীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ বাতিল করেছে। তবে অপরাধীরা কোনভাবেই পার পাবে না, অন্যায়ের বিচার একদিন হবেই ইনশা-আল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২৮শে অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। সেদিন আওয়ামী হিংস্রতার জঘন্য ও বর্বর রূপ দেখেছিল বিশ্ববাসী। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লগি বৈঠার তাণ্ডবে গোটা দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিনা উস্কানিতে জামায়াতের সমাবেশে হামলা চালানো হয়েছিল। লগি-বৈঠা দিয়ে তারা শুধু ঢাকাতেই ইসলামী আন্দোলনের ৬ জনকে আর সারাদেশে ১৫ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। তারা শুধু হত্যা করেই করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং রক্তাক্ত মৃতদেহের উপর পৈশাচিক নৃত্য করে বর্বর উল্লাস প্রকাশ করে তারা মানবজাতির ইতিহাসকে কলংকিত করেছিল।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সেদিনের ঘটনা আমাদের জন্য শোকের; একইসাথে বাতিলের হামলার বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় কর্মীদের জীবনবাজি রাখা ইস্পাত-দৃঢ় প্রতিরোধ আমাদের জন্য প্রেরণা ও সাহসের। যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা জালিম শাসকদের মোকাবেলায় শহীদ হয়ে, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি গড়ে গেছেন। শহীদের রক্তাক্ত দেহগুলো আমাদের ভীত করেনা বরং প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নিতে শপথবদ্ধ করে। ইনশা-আল্লাহ বাংলার জমিনে কুরআনের আলোকে সমাজ বিনির্মাণ করাই হবে শহীদদের প্রতিফোটা রক্তের চূড়ান্ত প্রতিশোধ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ