বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

জট খুলতে পারে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার

সিলেট ব্যুরো: এসএমপির নবাগত কমিশনার সিলেটে পৌছে বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার খোঁজ নিতে ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে নগরীর আখালিয়ার নেহারী পাড়ার বাসভবনে গেলেন। অনেকে ধারনা করছেন দীর্ঘ ১৯ দিন পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার জট খুলতে পারে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌছে প্রথমে নবাগত পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ হযরত শাহজালাল (রঃ) ও হযরত শাহপরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন। এর পর তিনি রায়হানের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তার বাসায় যান। কিছুক্ষণ তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান সিলেট পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। তাদেরকে তিনি আশ্বস্ত   করেন সকল আসামীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সিলেটে রায়হান হত্যা নিয়ে যখন পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, ঠিক তখনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে গত মঙ্গলবার বিকেলে যোগদান করলেন নিশারুল আরিফ। গত ২২ অক্টোবর দায়িত্ব পেয়েছেন নিশারুল আরিফ আর তিনি মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটে এসে পৌঁছেন। নিশারুল আরিফের সিলেট আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) বি.এম আশরাফ উল্যাহ তাহের।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখা থেকে বদলির প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশের স্পেশাল প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) ডিআইজি পদে বদলির পর নিশারুল আরিফকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
এদিকে সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের ফলে নগরীর আখালিয়ার যুবক রায়হান আহমদের মৃত্যুর ১৯তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই দুই সপ্তাহের বেশি সময়ে দুই পুলিশ সদস্যসহ আটক হয়েছেন তিনজন। তবে মূল হোতা এস.আই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এখনও আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে রায়হানের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্বজনদের মাঝে। ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন পুরো সিলেটবাসী। এখনো রায়হান হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার না করায় তার মা সালমা বেগম পুনরায় আমরণ অনশনের ডাক দেবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
অনেকের ধারণা করছেন নতুন কমিশনার যোগদানের পর হয়তো রায়হান হত্যাকান্ডের রহস্যের জট খুলতে পারে। আসতে পারে ‘চমক। এমনকি পালিয়ে থাকা এসআই আকবরও আসতে পারে আইনের আওতায়। এমনটাই মনে করেছেন রায়হানের স্বজনরা। পুলিশি হেফাজতে রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেট এখনো উত্তাল। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়ার পলায়ন নানাভাবে বেকায়দায় ফেলেছে পুলিশ বিভাগকে। একমাত্র আকবর ছাড়া পুলিশি হেফাজতে থাকা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্তে সংশ্লিষ্টতা থাকা পুলিশ সদস্যদের একে একে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। তবুও সন্তুষ্ট নয় রায়হানের পরিবার। অভিযুক্ত সকল পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার না করার আগ পর্যন্ত মাঠে রয়েছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। গত রোববার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে কাফনের কাপড় মথায় দিয়ে আমরণ অনশণের ডাক দিয়ে দিনভর ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্ক্রল ছাড়াও দেশীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে ছিলেন তিনি। প্রতিদিনই মিছিল-মিটিং হচ্ছে আকবরের গ্রেফতারের দাবিতে। বুধবার থেকে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবেন রায়হানের এলাকাবাসী ও স্বজনেরা। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান।
রিমান্ড শেষে কনস্টেবল টিটু কারাগারে : পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২য় দফায় রিমান্ডের পর গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে টিটু চন্দ্র দাসকে এডিশনাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে নেয়া হয়।
এর আগে গত রোববার বিকাল ৩টার দিকে টিটু চন্দ্রকে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহিদুল ইসলাম। আদালতে টিটু চন্দ্র জবানবন্দী দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আরো ৩ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। আদালতে হাজির করে আরও ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমান ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর পুলিশ লাইন্স থেকে টিটুকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ওই দিনই বিকেল ৩টার দিকে টিটু চন্দ্র দাসকে সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচারক জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করে পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা মুহিদুল ইসলাম ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ