সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে কারা আসছেন তা নিয়ে গুঞ্জন

মিয়া হোসেন: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এখন একজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। বাকি দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দুটিতে সরকার কাদের নিয়োগ দেবে, এ নিয়ে রয়েছে আইনজীবীদের মাঝে কৌতূহল কাজ করছে।
রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মধ্যে দুজন সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি এরই মধ্যে তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এখন রাষ্ট্রপতি বিদেশে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর হয়তো এই পদে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠছে।
আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দুই শূন্যপদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদে নিয়োগ পেতে অনেকেই চেষ্টা করছেন। সরকারও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের বাইরে রয়েছেন। উনি দেশে আসলে (রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন) নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হতে পারে।’
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য আইনজীবীদের মাধ্যমে জানা গেছে, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। এগুলো হলো- ব্যক্তির আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সততা এবং আইন পেশায় যোগ্যতা ও দক্ষতা।
ইতোমধ্যে নিয়োগের তালিকায় এক ডজন আইনজীবীর নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন-সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অ্যাডভোকেট শেখ আওসাফুর রহমান বুলু। এছাড়া সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরদার আবুল হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন, ওয়ালিউল ইসলাম ও মুনসুরুল হক চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত থাকার পর সম্প্রতি দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন মো. মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
তবে একজন গ্রহণযোগ্য আইনজীবীকে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর তাদের পদত্যাগ মোটেও সুখবর নয় বলে মূল্যায়ন করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলমের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান এ এম আমিন উদ্দিন।
তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর দুইজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করায় তার কার্যালয়ে এখন শুধু একজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন-আইনজীবী এম এম মুনীর। এছাড়া ৬৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৫৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিলিয়ে মোট ২২৩ জন আইন কর্মকর্তা রয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।
সুপ্রিম কোর্টে কাজ করে যাওয়া সিনিয়র আইনজীবীদের থেকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হবে? নাকি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্য থেকে দুইজনকে নিয়োগ দেয়া হবে, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে গুঞ্জন চলছে।।
সুপ্রিম কোর্টের একাধিক সূত্র জানায়, মরহুম অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি নিয়োগ পেয়ে মোট ১১ বছর ৮ মাস ১৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে মাহবুবে আলম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃবৃন্দের কাছে মাহবুবে আলম ছিলেন খুবই বিশ্বস্ত ব্যক্তি। তাই তার যোগ্যতা ও দক্ষতার সামনে জীবদ্দশায় অন্য কোনো বিকল্প খোঁজার প্রয়োজন মনে করেনি সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ