সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

‘জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের’ নাম পরিবর্তনের নিন্দা ফখরুলের

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দেশের সঠিক ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য পাঁয়তারা ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২৫ অক্টোবর পুরাতন ঢাকার মালিটোলায় অবস্থিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ এর নাম পরিবর্তনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেন।  
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাসহ বীরত্বপূর্ণ, গৌরবোজ্জ্বল ও সাহসী ভূমিকা এবং পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় যুগান্তকারী নেতৃত্ব প্রদান করার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে ঢাকার তৎকালীন মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পুরাতন ঢাকার মালিটোলায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সরকারের ইতিহাস বিকৃতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বশবর্তী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন উক্ত বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে আমরা ও তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বর্তমান হিংসাপরায়ণ সরকারের প্রতিহিংসার আগুন যেন কোনভাবেই থামছেই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কর্তৃক দেশের সঠিক ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য পাঁয়তারা ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত গতিতে চলমান রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে বিভিন্ন স্থাপনা থেকে তার নাম মুছে ফেলাসহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী অবৈধ সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ চেহারা জনগণের নিকট ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের একজন সফল রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আর এটিই আওয়ামী লীগের অন্তজর্¦ালা। তাই আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক বিভিন্ন স্থাপনা থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে দেয়ার মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবেই পুরাতন ঢাকার মালিটোলায় অবস্থিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ এর নাম পরিবর্তন করেছে। প্রতিহিংসার জ¦ালা মেটাতে এই ঘটনা ধারাবাহিকতা। কিন্তু শত চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের জনগণের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। শহীদ জিয়া তার অমর কৃতিত্বের জন্য মানুষের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আমি অবিলম্বে পুরাতন ঢাকার মালিটোলায় অবস্থিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ এর নাম পুনঃস্থাপনের জোর আহŸান জানাচ্ছি।
এদিকে আরেক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এর মুক্তি দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১/১১’র জরুরি অবস্থার অনৈতিক সরকার দেশকে বিরাজনীতিকরণের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও তার ছেলে তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় অন্যায়ভাবে তাদেরকে আটকও করা হয়। মামলা চলাকালে তাদের আইনজীবীগণ আইনগতভাবে মামলা মোকাবেলা করলেও কোন বক্তব্য আমলে না নিয়ে সরকারি নীল নকশা অনুযায়ী একতরফা রায় ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলেও ১/১১’র জরুরি অবস্থার অনৈতিক সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিএনপি নেতৃবৃন্দকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মীর নাসির ও মীর হেলালের আপিলের তীব্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আমি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ