শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

তৃতীয় দফায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

২৬ অক্টোবর, ডি ডব্লিউ, বিবিসি : ২০২০ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। এ নিয়ে তৃতীয় দফায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এটি কতটা স্থায়ী হয় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার থেকে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বারের মতো যুদ্ধবিরতির মানবিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দুই পক্ষই। তবে রবিবার রাতেও দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

প্রায় এক মাস ধরে নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়েছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। প্রথম থেকেই দুই দেশকে শান্তি বৈঠকে বসানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া। দুইবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও হয় মস্কোর মধ্যস্থতায়। কিন্তু প্রতিবারই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উভয় পক্ষ থেকে তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ফের দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসায় মস্কো। গত বৃহস্পতিবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক করেন যুদ্ধরত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। কিন্তু তাতেও জট খোলেনি।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং দেশটির কূটনীতিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকেই নতুন করে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হচ্ছে।

এই যৌথ বিবৃতির পরও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হয় তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। গত রোববার সকালেই টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, নিজ দেশকে রক্ষার অধিকার সবরাই রয়েছে। আজেরিরা শেষ দিন নিজের দেশকে পর্যন্ত রক্ষা করবে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে তখনও আজারবাইজান সীমান্তে ঢুকে পড়ে আর্মেনিয়ার একটি যুদ্ধবিমান। পরে সেটি ভূপাতিত করে আজেরি বাহিনী। ইরান জানিয়েছে, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সঙ্গে সীমান্তে তারা সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের যুদ্ধে ইরান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই এই ব্যবস্থা। এর আগে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার গোলাবর্ষণের মাঝে পড়ে ইরানের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চল বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় দুই দেশের কাছেই কড়া প্রতিবাদ জানায় তেহরান। নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এ সংঘাতে এরইমধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। উভয় পক্ষেরই দুই হাজারেরও বেশি করে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আর্মেনিয়ার অন্তত তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা কথা জানিয়েছে আজেরি বাহিনী। বিদ্যমান সংঘাতে নিজ দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে আর্মেনিয়া। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ বাস্তবতা স্বীকার করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। তিনি বলেন, আর্মেনিয়ার ‘বহু হতাহত’ হয়েছে। তবে এখনও সেনাবাহিনী কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে। সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর সামরিক জোটের সদস্য আর্মেনিয়া, যার নেতৃত্বে রয়েছে রাশিয়া। আবার আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক। তুর্কি ও আজেরি রাজনীতিকরা দুই দেশের সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করতে একটি বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। এটি হচ্ছে, ‘এক জাতি, দুই দেশ।’ দুই দেশের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মিল রয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ