রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

এনায়েতপুরে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে জামিয়া ক্বওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা

এনায়েতপুর থানার খুকনী গ্রামে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে জামিয়া ক্বওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা।

আব্দুস ছামাদ খান : সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁত শিল্প সৃমদ্ধ এনায়েতপুর থানাধীন খুকনী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত জামিয়া ক্বওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা ৫৭ বছর ধরে এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। এই মাদরাসাটি এলাকার প্রাচীনতম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এলাকা সহ জেলা জুড়ে এর সুনাম রয়েছে। এখান থেকে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র  দাওরায়ে হাদীস (মাষ্টার্স) পরীক্ষায় দেশ সেরা ফলাফল অর্জন করেন। জানা যায়, ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে ১৯৬৩ সালে খুকনী এলাকায় জামিয়া ক্বওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয়রা। সে সময় অত্রএলাকায় কোন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করে এলাকায় দ্বীনের মার্কাজ হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় হাটি হাটি পা পা করে আজ প্রায় ৫৭ বছর অতিক্রম হচ্ছে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের। দিন দিন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেলেও রয়ে গেছে নানা সমাস্যা। সমাধান হচ্ছেনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষের সমস্যা। তবে থেমে নেই মাদরাসার দ্বীনি শিক্ষা দান। প্রতিদিন ভোর থেকেই শুরু হয় এলাকার গরিব, অসহায় শিক্ষার্থীদের আরবি শিক্ষার পাঠদান। বর্তমানে এই মাদরাসাটি গোটা অঞ্চলে দীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ মাদরাসাটি হেফজ বিভাগ ও নূরানী মক্তব সহ কিতাব বিভাগ (দাওরায়ে হাদীস- মাষ্টার্স) পর্যন্ত তার আপন লক্ষপানে সুনামের সহিত এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর মাদরাসা পরিচালনায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্বওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও শুরা কমিটির সভাপতি মুফতী আরশাদ রহমানী সাহেব দা: বা: সাক্ষরিত ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে এলাকায় ধর্মীয় ও জনকল্যাণে নিবেদিত আলহাজ শেখ আবদুস ছালামকে সভাপতি ও তরুন শিল্পপতি আবদুল আলীম মন্ডলকে সেক্রেটারী নির্বাচিত করা হয়। নতুন কমিটি নির্বাচনের পর থেকে মাদরাসার শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নত করা সহ নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এলাকায় দ্বীনি শিক্ষাকে আরও বেগবান করতে নিরলস ভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সবমিলে বর্তমানে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এ মাদরাসাটি। বর্তমানে মাদরাসার প্রায় ৫১০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ৩৩ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। এছাড়া ৩ জন কর্মচারী রয়েছে। সবুজ শ্যামল ও প্রাকৃতির নির্মল পরিবেশ সন্নিবেশিত একাডেমিক ক্যাম্পাস। পাশে দৃষ্টি নন্দন মসজিদ। দ্রুত প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মান ও আরও নয়নাভিরাম করতে কর্মপরিকল্পনা হাতে  নেয়া হয়েছে। এবিষয়ে জামিয়া ক্বওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে গুরুত্ব দেয়া হয় নিয়ম শৃঙ্খলা ও পড়াশোনার দিকে। আর এতে সাফল্যও এসেছে। ক্বওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রত্যেকটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি কখনও দেশসেরা আবার কখনও বিভাগীয় ধারাবাহিকভাবে সেরা ফলাফল অর্জন করে আসছে। এদিকে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার পর হতে ধর্মপ্রান মুসলমানদের সাহায্য সহযোগিতায় অনেক দুর এগিয়েছে মাদরাসা। আগামীতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সকল মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জামিয়া ক্বওমিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের নবনির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবদুস ছালাম জানান, দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা সকল মুসলমানের উপর ফরজ করা হয়েছে। মুসলমান সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অর্ধশত বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠান আপন মহিমায় উজ্জল হয়ে আছে। প্রাচীনতম এই মাদরাসার শিক্ষায় মান্নোয়নে ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতে নিরলস ভাবে কাজ করা হবে। তিনি আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আবার নতুন করে ক্লাস সহ আবাসিক সকল সুযোগ সুবিধা চালু করতে হচ্ছে। তাই দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ