রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

আউশ চাষে বিপ্লব ঘটালো সাতক্ষীরার কৃষকরা

সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক মফিজুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের আউশ ক্ষেত।

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা : গত ১০ বছরে সাতক্ষীরায়  কৃষিতে আউশের আবাদ ও উৎপাদন  বেড়েছে দ্বিগুণ। এবছর  ধানের দামও ভাল পেয়েছে চাষীরা। কিন্তু কৃষিতে প্রণোদনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি যারা আউশ চাষ করেনি এমন লোকও সরকারি বীজ, সার ও নগদ টাকা পেয়েছে। করোনা মহামারির বিপর্যয়ের মধ্যেও বোরো ও আমনের আবাদের মধ্যবর্তী সময়টাতে আউশ চাষ করে এবার বিপ্লব ঘটিয়েছে সাতক্ষীরা অঞ্চলের কৃষক। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি জমিতে আবাদ হয়েছে আউশের । হেক্টর প্রতি  হাই্ব্রীডের ফলন পেয়েছ ৩.২০ মে:টন। এতে ২৩ হাজার মেট্রিক টন আউশ ধান  উৎপাদন হয়েছে বলে জানান জেলা কৃষি বিভাগ। বেশির ভাগ এলাকাতে আউশ ধান ঘরে তুলেছে কৃষকরা। বস্তা প্রতি ধান ১৬ থেকে ১৭শ টাকা পেয়ে খুশি আউশ চাষীরা। এক সময়ে যে সব জমি চাষাবাদের আওয়তায় আনা যেতনা সরকার সেসব জমিতে আউশ চাষের জন্য কৃষি প্রণোদনা  দিতে থাকে। ফালে কয়েক বছরের মধ্যে জেলাতে আউশের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে যায়। আউশ চাষে উদ্বৃদ্ধ করতে  চলতি মৌসুমে জেলাতে ২ হাজার কৃষককে  ১৭ লক্ষ টাকার কৃষি প্রণোদনা দেয়া হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে ৮ হাজার  হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর, কলারোয়ায় ২  হাজার ২৫০ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৪০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৩৬৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ১২৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলাতে ২৩৫ হেক্টর।
চলতি মৌসুমে জেলাতে ২৩ হাজার ১০ মে.টন আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সদরে ৯৯৮৬ মে.টন, কলারোয়ায় ৬৪৮৬ মে.টন, তালায় ৩৪৮৫ মে.টন, দেবহাটায় ৯৯৫ মে.টন, কালিগঞ্জে ১০৩৫ মে.টন, আশাশুনিতে ৩৫৬ মে.টন ও শ্যামনগরে ৬৬৭ মে.টন  ধান উৎপাদন হয়।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন কয়েক বছরে আউশের আবাদ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কারণ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার আপলিফট করা লাগছে না। সুতরাং বোরোর তুলনায় আউশের উৎপাদন খরচ অনেক কম। তবে কৃষকরা বলছেন মজুদদারি সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নিজস্ব প্রভাব বলয় গড়ে তুলতে না পারলে এই সাফল্য কৃষকের উপকারে আসবে না। আউশের সংযুক্তিতে ধানের দুই ফসলি জমিগুলো তিন ফসলিতে উন্নীত হওয়ায় বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের ফসল-বিন্যাস।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে দুই হাজার আউশ চাষিকে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও এমওপি ১০ কেজি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৫৫০ জন , কলারোয়ায় ৪৮০ জন, তালায় ৪৫০ জন, দেবহাটায় ১৩৯ জন, কালিগঞ্জে ১৫০ জন, আশাশুনিতে ১১০ জন ও শ্যামনগর উপজেলাতে ১৩০ জন  চাষীকে প্রণোদনা দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ